somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিতে গিয়ে সময়ের মূল্য যেন না হারাই জীবন অমূল্য !

২৩ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোটবেলায় আমরা সময়ের মূল্য রচনা পড়েছি। আসলেই তো সময় অনেক বেশী মূল্যবান। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা কে কিভাবে সময় কে মূল্য দেই, কার কাছে সময়ের মূল্য কেমন আমার তা জানা নেই তবে আমি এটা বলতে পারি যে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক মানুষ যখন রাস্তায় বের হয় চলাফেরা করতে তখন তাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে সময়। এখন সে মানুষ রাস্তার কোন পথচারী হোক, কোন প্রাইভেটকার চালক হোক, রিকশা চালক বা সি এন জি চালক বা বাস ট্রাক চালক কিংবা কোন যানবাহনের যাত্রী হোক। কারও কাছে সময় নেই, সবার তাড়াহুড়ো । কেন ? কেন এত তাড়াহুড়ো ? ? ?

বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার অধিকাংশ ঘটে এই তাড়াহুড়ো বা সময়কে অতিরিক্ত বেশী মূল্য দেওয়ার কারনে। আরে ভাই সময় একবার চলে গেলে হয়তো বা তার কোন উপায় বের হবে যদি জীবনটা থাকে কিন্তু সময় বাঁচাতে গিয়ে যদি জীবন টাই চলে যায় সেই জীবন কি আর ফিরে পাওয়া যাবে ? আপনার জীবন না গেলেও যদি আপনার তাড়াহুড়োর কারনে অন্য আরেকটা মানুষের জীবন চলে যায় সেই ব্যক্তির আপনজন দের কষ্ট ও ক্ষতি কি আপনি পূরণ করতে পারবেন ? ভাবুন প্লিজ !

রাস্তা পাড় হচ্ছি, হয়তো সিগন্যাল পরতে আরও পাঁচ মিনিট কিংবা ওভারব্রিজ টা হয়তো একটু দূরে। ৫ টা মিনিট সময় হাতে নিয়ে কি একটু অপেক্ষা করতে পারিনা সিগন্যাল এর জন্য কিংবা একটু কষ্ট করে হেটে ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা টা পাড় হই। তা না করে তড়িঘড়ি করে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পাড় হই যেখানে নিজের এ জীবন টা চলে যাওয়া এক সেকেন্ড এর ব্যাপার মাত্র।

আর বাস ড্রাইভার এদের কাছে তো সময় থাকেই না কখনো। আরেক বাস কে পেছনে ফেলে, ফাক ফোঁকর দিয়ে কিভাবে ঝড়ের গতি তে চলবে এটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। যাত্রী উঠানোর সময়েও ধীরে সুস্থে উঠানোর মত তাদের সময় থাকেনা আর নামানোর সময় তো পারে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এমন ঝড়ের গতি তে চলতে গিয়ে রাস্তার দু একটা মানুষ পিষে মেরে ফেলতে ও তাদের বাধেনা, যার নজির আমরা পত্র পত্রিকায় ও খবরে প্রায় ই দেখতে পাই।

প্রাইভেট কার, সি এন জি, রিকশা এদের ও এক ই অবস্থা। সামনে কোন মানুষ কিংবা অন্য গাড়ি পরলে হর্ন বাজাতে বাজাতে অস্থির। আরে বাবা, রাস্তায় তো আর কেউ বসে থাকতে আসেনি, তোমার যেমন গন্তব্বে পৌছাতে হবে তোমার সামনের গাড়িটির কিংবা সামনের মানুষটির ও তাই।

ঢাকা শহরে আরও একটি পরিচিত যানবাহন হচ্ছে লেগুনা। যেখানে ভেতরে ৫ জনের বসার জায়গায় ৬ জন তো গাদাগাদি করে বসেই তার উপর দরজায় দাড়িয়ে থাকে আরও ৩-৪ জন মানুষ। আমার জানামতে ৫-৬ কিংবা ১০ মিনিট পর পর লেগুনা পাওয়া যায়। কেন আমরা কি দরজার মধ্যে দাড়িয়ে ঝুলে ঝুলে না গিয়ে পরের গাড়িটির জন্য অপেক্ষা করতে পারিনা ? এমনিতেই তো লেগুনার গতি কোন রকেটের চাইতে কম না তার উপর যাচ্ছেন বাঁদরের মত ঝুলে ঝুলে, ওখান থেকে যে কোন সময়ে ছিটকে মাঝ রাস্তায় আরেক গাড়ির নিচে পরতে আপনার ১ মিনিট লাগবে মাত্র।
১০ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে আপনার মূল্যবান জীবন টাই চলে গেল কিংবা শরীরের মূল্যবান কোন অঙ্গ।

সময় তো অবশ্যই মূল্যবান তবে জীবনের চাইতে বেশী কিন্তু নয়। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই সময়কে মূল্য দিব তবে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে গিয়ে সময়ের চাইতে না হয় নিজের জীবন ও অন্য আরেকটি মানুষের জীবন কে মূল্য দেই। ৫-১০ মিনিট সময় বাঁচানোর জন্য তাড়াহুড়ো ও ধৈর্য হীন হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে গিয়ে নিজের বা অন্য আরেকটি মানুষের জীবন বা শরীরের কোন গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ কেড়ে না নেই।

প্রতিদিন খবরের কাগজে কিংবা টিভি তে এমন অনেক দুর্ঘটনার খবর আমাদের চোখে পরে কিন্তু তারপরেও আমরা সচেতন হইনা যতক্ষণ না এমন একটা ঘটনা আমাদের নিজেদের জীবনে ঘটে। আমরা কি পারিনা তার আগেই সচেতন হতে ?

একটা জীবন মানে শুধু ঐ একটি মাত্র জীবন ই না , এই জীবনের সাথে আরও অনেকগুলো মানুষের জীবন জড়িত থাকে। এই জীবন একবার ই আসে। সেই জীবন টা চলে গেলে কিংবা শরীরের কোন মূল্যবান অঙ্গ চলে গেলে তার ও তার পরিবারের যে ক্ষতি টা হয় তা শুধুমাত্র সেই মানুষগুলোই বুঝে।

তাই আমরা সময় থাকতে সচেতন হই। সময়ের মূল্য বোঝার পাশাপাশি একটা জীবনের মূল্য ও বুঝি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৩৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×