
ছোটবেলায় আমরা সময়ের মূল্য রচনা পড়েছি। আসলেই তো সময় অনেক বেশী মূল্যবান। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা কে কিভাবে সময় কে মূল্য দেই, কার কাছে সময়ের মূল্য কেমন আমার তা জানা নেই তবে আমি এটা বলতে পারি যে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক মানুষ যখন রাস্তায় বের হয় চলাফেরা করতে তখন তাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে সময়। এখন সে মানুষ রাস্তার কোন পথচারী হোক, কোন প্রাইভেটকার চালক হোক, রিকশা চালক বা সি এন জি চালক বা বাস ট্রাক চালক কিংবা কোন যানবাহনের যাত্রী হোক। কারও কাছে সময় নেই, সবার তাড়াহুড়ো । কেন ? কেন এত তাড়াহুড়ো ? ? ?
বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার অধিকাংশ ঘটে এই তাড়াহুড়ো বা সময়কে অতিরিক্ত বেশী মূল্য দেওয়ার কারনে। আরে ভাই সময় একবার চলে গেলে হয়তো বা তার কোন উপায় বের হবে যদি জীবনটা থাকে কিন্তু সময় বাঁচাতে গিয়ে যদি জীবন টাই চলে যায় সেই জীবন কি আর ফিরে পাওয়া যাবে ? আপনার জীবন না গেলেও যদি আপনার তাড়াহুড়োর কারনে অন্য আরেকটা মানুষের জীবন চলে যায় সেই ব্যক্তির আপনজন দের কষ্ট ও ক্ষতি কি আপনি পূরণ করতে পারবেন ? ভাবুন প্লিজ !
রাস্তা পাড় হচ্ছি, হয়তো সিগন্যাল পরতে আরও পাঁচ মিনিট কিংবা ওভারব্রিজ টা হয়তো একটু দূরে। ৫ টা মিনিট সময় হাতে নিয়ে কি একটু অপেক্ষা করতে পারিনা সিগন্যাল এর জন্য কিংবা একটু কষ্ট করে হেটে ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা টা পাড় হই। তা না করে তড়িঘড়ি করে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পাড় হই যেখানে নিজের এ জীবন টা চলে যাওয়া এক সেকেন্ড এর ব্যাপার মাত্র।
আর বাস ড্রাইভার এদের কাছে তো সময় থাকেই না কখনো। আরেক বাস কে পেছনে ফেলে, ফাক ফোঁকর দিয়ে কিভাবে ঝড়ের গতি তে চলবে এটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। যাত্রী উঠানোর সময়েও ধীরে সুস্থে উঠানোর মত তাদের সময় থাকেনা আর নামানোর সময় তো পারে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এমন ঝড়ের গতি তে চলতে গিয়ে রাস্তার দু একটা মানুষ পিষে মেরে ফেলতে ও তাদের বাধেনা, যার নজির আমরা পত্র পত্রিকায় ও খবরে প্রায় ই দেখতে পাই।
প্রাইভেট কার, সি এন জি, রিকশা এদের ও এক ই অবস্থা। সামনে কোন মানুষ কিংবা অন্য গাড়ি পরলে হর্ন বাজাতে বাজাতে অস্থির। আরে বাবা, রাস্তায় তো আর কেউ বসে থাকতে আসেনি, তোমার যেমন গন্তব্বে পৌছাতে হবে তোমার সামনের গাড়িটির কিংবা সামনের মানুষটির ও তাই।
ঢাকা শহরে আরও একটি পরিচিত যানবাহন হচ্ছে লেগুনা। যেখানে ভেতরে ৫ জনের বসার জায়গায় ৬ জন তো গাদাগাদি করে বসেই তার উপর দরজায় দাড়িয়ে থাকে আরও ৩-৪ জন মানুষ। আমার জানামতে ৫-৬ কিংবা ১০ মিনিট পর পর লেগুনা পাওয়া যায়। কেন আমরা কি দরজার মধ্যে দাড়িয়ে ঝুলে ঝুলে না গিয়ে পরের গাড়িটির জন্য অপেক্ষা করতে পারিনা ? এমনিতেই তো লেগুনার গতি কোন রকেটের চাইতে কম না তার উপর যাচ্ছেন বাঁদরের মত ঝুলে ঝুলে, ওখান থেকে যে কোন সময়ে ছিটকে মাঝ রাস্তায় আরেক গাড়ির নিচে পরতে আপনার ১ মিনিট লাগবে মাত্র।
১০ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে আপনার মূল্যবান জীবন টাই চলে গেল কিংবা শরীরের মূল্যবান কোন অঙ্গ।
সময় তো অবশ্যই মূল্যবান তবে জীবনের চাইতে বেশী কিন্তু নয়। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই সময়কে মূল্য দিব তবে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে গিয়ে সময়ের চাইতে না হয় নিজের জীবন ও অন্য আরেকটি মানুষের জীবন কে মূল্য দেই। ৫-১০ মিনিট সময় বাঁচানোর জন্য তাড়াহুড়ো ও ধৈর্য হীন হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে গিয়ে নিজের বা অন্য আরেকটি মানুষের জীবন বা শরীরের কোন গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ কেড়ে না নেই।
প্রতিদিন খবরের কাগজে কিংবা টিভি তে এমন অনেক দুর্ঘটনার খবর আমাদের চোখে পরে কিন্তু তারপরেও আমরা সচেতন হইনা যতক্ষণ না এমন একটা ঘটনা আমাদের নিজেদের জীবনে ঘটে। আমরা কি পারিনা তার আগেই সচেতন হতে ?
একটা জীবন মানে শুধু ঐ একটি মাত্র জীবন ই না , এই জীবনের সাথে আরও অনেকগুলো মানুষের জীবন জড়িত থাকে। এই জীবন একবার ই আসে। সেই জীবন টা চলে গেলে কিংবা শরীরের কোন মূল্যবান অঙ্গ চলে গেলে তার ও তার পরিবারের যে ক্ষতি টা হয় তা শুধুমাত্র সেই মানুষগুলোই বুঝে।
তাই আমরা সময় থাকতে সচেতন হই। সময়ের মূল্য বোঝার পাশাপাশি একটা জীবনের মূল্য ও বুঝি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




