বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকার বেশ নির্ভিঘ্নে রাজত্ব করছে। একটাই স্বস্তি - জনগণের নিরংকুশ সমর্থন তাদের সাথে আছে। এটা বোঝার জন্য বিখ্যাত কোম্পানীর মতামত জরিপ দরকার নেই, প্রতিটি মানুষই টের পাচ্ছে সেটা। আমার কাছে তার চেয়েও বড় কারণ যেটা মনে হচ্ছে সেটা হচ্ছে, বৃহৎ দলগুলো বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ৯০ এর অভ্যুথ্যানের পরে যে চমৎকার সহাবস্থানের নজীর স্থাপন করেছিল সেটা ভুলে যাবার বিষয় নয়। দলের চ্যালা-চামুন্ডা, সুবিধাবাদীরা সুযোগ নেয় সর্বকালে, কিন্তু এই দলগুলো (আমি যখন দলগুলো বলি তখন ধর্মনির্ভর দলগুলো বাদ দিয়ে বলি) দেশের, স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র বিকাশ করেছে। দূর্নীতিবাজ আমলা, সামরিক জান্তা, ব্যবসায়ী আর মৌলভীরা কেবল তার সুযোগ নিয়েছে।
প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে এবং এজন্যই সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের জনসমর্থন দেখছেন। দুই নেত্রীকে নিয়ে দেশ-বিদেশ নাটকে দলগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় সরকার বুঝতে পেরেছিলেন এখনও এদের ক্ষমতা কত দূর্দান্ত। তারা পিছু হটলেন। নেত্রীরা নিজেদের মধ্যে ঐক্যমত না হতে পারায় তৃতীয় শক্তির ক্ষমতা উপভোগকে নিজেদের স্ব স্ব জয় দেখছেন। অনেকটা এমন মনোভব, বিপক্ষকে ঠেকানো গ্যাছে তো! যার অর্থ খুবই সাধারণ - পার্টির যে একনায়ক চরিত্র তা পরিবর্তন হচ্ছে না। নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থায় দলগুলো তাদের নেত্রীদেরকে আরো মহীয়ান করবেন কেবল, দলের অভ্যন্তরে গনতন্ত্র চর্চা চালু হবে না।
সজীব ওয়াজেদ জয় এ প্রেক্ষিতে বেশ খোড়া একটা যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন তার ব্লগে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে গনতন্ত্র চর্চা আছে। দলের কাউন্সিলেররা বারবার তার মা'কে নির্বাচিত করলে সেটা তো গনতান্ত্রিকই। প্রসংগটা যখন হচ্ছে নেতৃত্বের আধুনিকায়ন বা যোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে আসা সেখানে নতুন নেতৃত্ব যেন আসতে পারে সে ভূমিকা শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে। সে যদি নতুন কাউকে পার্টি প্রধান করার সুযোগ দেয়, কার সাধ্য আছে সেটাকে অমান্য করে! এই একই কথা খালেদা জিয়ার দলকে নিয়েও প্রযোজ্য। এমদুই নেত্রী দলের অভ্যন্তরে গনতন্ত্র চর্চা ঠিকমত হচ্ছে কিনা, সঠিক নেতৃত্ব বিকশিত হচ্ছে কিনা সেটা ভালভাবে নিশ্চিত করতে পারবেন।
দুই নেত্রীর শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, দেখিয়ে দিক আবারো বাংলাদেশ যা করতে পারে কারো সাধ্য নাই তা পূর্বধারণা করা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


