শেষ হলো এক সময় অর্গানাইজিং সিনড্রম। ব্লগের সময়টুকু আমার বিনোদন। এখান থেকে কেউ বাস্তবের জীবনে ঢুকে পড়ে, টুকিটাকি সম্পর্ক নির্মিত হয়। এমন একজন ব্রাত্য রাইসু। প্রথম দিকে তার লেখা পড়ে আমার মনে হতো লোকটার মাথায় গন্ডগোল আছে, হালকা প্রকৃতির। এ বিশ্বাসটা গাঢ় হতে থাকে অন্যদের নিক্ষিপ্ত মন্তব্য থেকে। সবাইকে দেখতাম তাকে উত্যক্ত করতে। আমিও যোগ দিলাম। একবার রাইসু তার একটা ছবিসহ পোস্ট দিল, রমনায় ২০০০ বা ২০০১ হইতে পারে শিরোনামে। সেটাকে ব্যঙ্গ করে একটা পোস্ট দিলাম, কোরবানীর ছাগলের। শিরোনাম ছাগল বা গরু হইতে পারে। বিষয়টা আমার এত চরম বিনোদনের বিষয় ছিল যে কয়েক সপ্তাহ শুধু সেটা স্মরণ করে আমি হাসতে পারতাম। এমনকি ঘুমের মধ্যে হেসে উঠতে দেখে স্ত্রী অবাক হয়ে ঘুতো দিতো, কি হলো তোমার!
সেসময়টা ছিল রাসেল বনাম রাইসুর ফাইটের সময়। রাইসু আর রাসেলের প্রথম সাক্ষাত নিয়ে হিমুর একটা তুঘলকী গল্প বেশ রসালো উপাদান জুগিয়েছিল। তবে ছাগলের পোস্টটা করার পরে রাইসুর রেসপন্স আমাকে ভাবতে বাধ্য করলো নতুন করে। ভদ্রলোককে কি অযথাই উত্যক্ত করছি! এর কিছুদিন পড়ে রাসেলের অভিমত শুনে আমি আরও বিষ্মিত। রাসেল বলছে, রাইসু একটা জিনিয়াস! ব্লগারদের সন্বন্ধে আমার কেবল একজনকেই মনে হতো হু নোজ পার্ফেক্ট ব্লগিং, বিড়াল রিভ্যুলুশনের জননী! এবার তার সাথে রাইসুকে ভাবতে শুরু করলাম। ক্রমশ নতুন করে পড়তে থাকলাম তার লেখাগুলো। এবার চোখে পড়লো কতগুলো বেসিক শক্ত গাথুঁনি, যা একজন উচুঁমানের লেখকের মধ্যই কেবল দেখা যায়। যেমন শব্দ বিন্যাস, শব্দের ভান্ডার, বাক্যের গঠনে বৈচিত্রতা, অভিনবত্ব, সহজভাবে জটিল বর্ণনা সবই রাইসুর চমৎকার একটা নিজস্বতায় মোড়ানো।
আমার এরপরে মনে হলো ব্লগ থেকে সবচেয়ে বড় অর্জন যদি কিছু হয় তা হচ্ছে রাইসুর সাক্ষাত। এরপরে দেখা হলো, কোথায় ভুলে গেছি। স্মরণ শক্তি অত্যন্ত দূর্বল বলে এখন মনে হচ্ছে চিনি বোধহয় অনেককাল আগে থেকেই!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




