ফিরোজ ভাইর নাকি আলুর দোষ আছে। আতিক সবসময় আমাকে সাবধান করতো। তখন আর কত বয়স হবে, এই সেভেন এইটে পড়ি। ফিরোজ ভাই আমাদের কলোনীর শিবিরের নেতা। ভাল ক্যালিওগ্রাফী করতেন। সাইনবোর্ড লিখতেন। সাইনবোর্ড লিখে টাকা পেলে তা দিয়ে চা ও পাওরুটি খাওয়াতেন। দুপুরের আগে হলে সিংগাড়া। আমি, আতিক, সুমন তিনজনই তার আপ্যায়নের একনিষ্ঠ ভক্ত। কাজেই আতিক যখন আলুর দোষ খুঁজে পেল তখন থেকে আমি তার রুমে আলু খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ভয়ে আবার জিজ্ঞেস করতেও পারি না যে আলুগুলো কোথায়!
একদিন ফিরোজ ভাইয়ের রুমে। রঙ, তুলি আর ক্যানভাসের ছড়াছড়ি। ফিরোজ ভাইয়ের ছাগুলে দাড়ি আর শর্ট পাঞ্জাবী, চিকনচাকন শরীরে আমার অদ্ভুত লাগতো। ডিগ্রি পড়ে। হাতের লেখা কি সুন্দর! আমি গেলেই কয়েকটা চকলেট দিত। হাফপ্যান্ট পড়তাম বলে তিনি মাঝে মাঝে বলতেন হাঁটুর উপরে কাপড় তোলা হারাম! কিন্তু রানে হাত দিয়ে বলতেন, অবশ্য তুমি এখনও অনেক ছোট, বড় হলে আর পরবে না! ফিরোজ ভাই আমাকে আর্ট শেখালেন। কিভাবে বড় অক্ষরগুলো লিখতে হয়, কোন পয়েন্টের পেন্সিলে কোথায় আঁক দিতে হবে ইত্যাদি।
আমি তার বিশাল জনসভার একটা ব্যানার দেখছিলাম। ফিরোজ ভাইদের নিচতলার বাসার জানালার কাছে বসে তার লেখা দেখছিলাম আর জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম মাঠের দিকে। বিকেল হয় হয়, কিছুক্ষণের মধ্যে বন্ধুরা আসবে খেলতে। হঠাৎ দেখলাম আতিক ফুটবল নিয়ে জানালার পাশে উপস্থিত। ফিরোজ ভাইকে দেখলাম অন্য রুমে যেতে। আতিক আমাকে বললো, তুই আবার ফিরোজ ভাইয়ের রুমে ঢুকেছিস! বললাম না, ব্যাটার আলুর দোষ আছে! আমি স্বর নীচু করে বলি, কোথায়ও তো আলু দেখলাম না! এর মধ্যে ফিরোজ ভাই এসে আমার পিঠে হাত দিয়ে জানালায় উঁকি দিয়ে বললেন, কে ওখানে? আতিক ফিরোজ ভাইকে দেখে দিল ভোঁ দৌড়, আর পিছনে ফিরে চেঁচিয়ে বললো, কৌশিক সোগা সামলা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



