বোম্বাই মরিচ ঠোঁটে লেগে রয়েছে। জ্বলছে। কিন্তু পুড়ছে না। মিস্টি মিস্টি লাগছে। কত বছর পরে হবে ঠিক মনে নেই, মায়ের হাতে ভাত খেলাম গতকাল রাতে। ইলিশ মাছ, বোম্বাই মরিচের ঠোট জ্বলুনী আর সুঘ্রানের সাথে মায়ের আঙুল চেটে খাচ্ছিলাম। মনে পড়লো কেষ্টর কথা, কেস্ট একটু বেশি খেয়ে মায়ের কাছ থেকে বাগিয়ে নিত এটা সেটা। আমিও একসময় কেস্ট ছিলাম। মায়ের হাতে ভাত খেলে পেতাম ঘুড়ির পয়সা, লাটিম আর মাছ ধরার বড়শী কেনার পয়সা। ঘুড়ি উড়ে যেত দুদিনেই, লাটিম বড় জোর তিন দিন টিকতো, আর মাছ কঞ্চি সমেত বড়শী নিয়ে হাওয়া হতো। কিন্তু সেজন্য আমার শৈশবের প্রিয় জিনিসগুলো পেতে অসুবিধা হতো না। ঘুড়ির চেয়ে নাটাইয়ের দাম বেশী, সেটা হারালে দুধভাত খেতে হতো। কষ্ট ঐ অতটুকুই, নাক চেপে দুধটুকু পাটালী গুড়ের পিয়াসহ খেয়ে নেয়া - কি কুৎসিত খাদ্য বলে মনে হতো তখন!
গতকাল যখন মা বললেন, ভাত খাবি, আমি তখন অনবরত মাথা ঝুঁকিয়ে বাবু বাবু হয়ে পড়লাম। তার কোলে শুয়ে হা করে আছি। এক লোকমা মুখে পুড়ে আমি একদশক পেছনে ফিরি। তারপরে আরো এক লোকমা মুখে যায় আমি পিছিয়ে যাই আরো দশবছর। তৃতীয়বার যখন গ্রাস নিতে উদ্যত - তখন মা'এর চোখ থেকে অশ্রু টপকে পড়ে আমার মুখে, আমি তাকিয়ে দেখি, মায়ের চোখ ছলছলে। কি হয়েছে মা? মা, চোখের জলে মিশানো লোকমা তুলে দেয় মুখে, কত বড় হয়ে গেছিস!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



