somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাত্মা

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্ম যবন এলাকায়
ধর্মান্ধ উন্মাদ এক উপমহাদেশের দক্ষিণপূর্ব কোণায়।
যোদ্ধা ও উৎসাহীবোদ্ধা শাসন করার চেষ্টা করেছে সারাটাকাল।
বলছি, নাবালক বহন করে সন্দেহ, মন্দির ও মাজারের মশাল,
সেই কাহিনী।
আমি দৃষ্টির জন্য আকুল ছিলাম কিন্তু বলতে পারিনি।

আমি যেসব শহরে বড় হয়েছি তার অধিকাংশই স্থলভাগ।
এক ছিল রাজধানী, স্থাপত্যের সাথে সোহাগ,
অন্যটি বর্ষায় কয়েক মাসের জন্য হারিয়ে যায় একদম।
একটা প্রবীণ, আরেকটা হতগরীব; দুটোতেই খুব গরম।
তাপ চিন্তা ও শৃঙ্খলাকে বাষ্পীভূত করে,
ইচ্ছার অবসান, বিলুপ্ত অবসরে।

আমি যেকোন শহরে, সতের অবধি, নির্বোধ আর অস্থায়ী
একজন দেশপ্রেমিক সম্রাটের যেমন বিজয়ী
হয়ে শত্রু ধরে রাখা।
বছর ধরে, সমাধির দৃশ্যসমেত দেখা
জীবনগুলোই করছিলাম স্মরণ।
আমি তখন ছন্দপ্রকৌশল নিয়েই ছিলাম বেশি সচেতন,

এবং ঘর, তিনটা, আমার মাথার ভিতরে।
রাস্তায় মৃত্যু, সবুজ অথবা জাফরান,
যাই একটি সাইকেলে করে
বইখাতাসহ। রান্নাঘরের সোপান
থেকে একটা মরিচগাছ বাতাসে ধূলিকণা হয়ে গঁজায়।
এই জলবায়ুতে কিছুই বাঁচে না সূর্যের তাড়নায়

অথবা খনিত্রে, এমনকি একটি পাথরের গম্বুজও নয়
যা চারশ' বছরী কণ্ঠের প্রতিরোধী হয়
প্রার্থনা বা যুক্তিতে। রেলগাড়ি
প্রতিদিন একটি খালি প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়
আগে ছিল চায়ের দোকান যা যাত্রীদের পরিবেশনায় আনাড়ী-
হয়ে ওঠে বিখ্যাত উপাসনালয়।

আমি বদলে যাই: পশ্চিমে পালাই
সময়মতো, একটি শতাব্দীর শেষ আর
অন্যটার শুরু দেখতে। গ্রীষ্মের কথা মনে নাই
২০০১ সালের। মনে করা কি আসলেই দরকার?
সেখানে রোদ আর বৃষ্টি প্রতিনিয়ত।
মনে নেই, আমি সেখানে ছিলাম হয়তো,

সেই বছরে শরতের সূচনা।
এখন, মধ্যত্রিশ, আমার চুল তেমন ঝরে না,
আমি ছোট নীড়ের কবিকাহিনী:
দালান, ঘরবাড়ি, ঠান্ডাপানি
সকালে, দুই বা তিন তলায় বসবাস।
আমার এখনো ছোটদের তুই করে ডাকাই অভ্যাস।

আমি চিনতে পারি প্রতিটি কার্নিশ আর পাঁচিল ,
আকাশের পরিচিত প্রবণতা, জানালার খিল
আমি হেঁটে গিয়ে দিন কাটাই,
আমি দিনগুলিকে ডাকি বিভিন্ন ধর্মীয় নামে
আর নিজেকে পাশ্চ্যাত্যের দামে.
যেন নিজস্ব কারাগারে বিভ্রান্ত একলাই।

জমকালো অতলান্তিক সাগরে
শ্যাওলা, ঝিঁনুক, কাঁচের টুকরো জমে তীরে।
পরিমিত ছন্দোবিশেষ, সাঁজানো পরিপাটি
শহরগুলির দেয়াললিখন নিওন আলোয় দেখে হাঁটি।
একটি ইঁদুর হরিণ হয়ে দৌঁড়ায়, রাত পা ঘষে।
দূর দূরান্ত চলে যায় আকাশে

বাদশাহী নামে নিজেকে ভাবতে চায় না মন।
আমি শস্যাগারে পেঁচা ডাকলে শুনি কোকিল।
সমস্ত জিনিস একত্রিত এবং পুনরায় সংমিশ্রণ,
আকাশে রঙের অমিল ।
আমি আমার বাবা এবং সন্তানের বয়ষ্ক সমন্বয় চিরকাল।
যা কিছু আছে, তা থাকেই বহাল।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ৮:১৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মিনি পোস্ট!

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

ইদানীং ব্যস্ততার কারণে সামুতে আসা হয়না। মাঝে মাঝে ঢু মারলেও লগইন করা হয়না।
আজ একটা ভাবনা মনে উদয় হওয়ায় সবার সাথে শেয়ার করতে এলাম-

জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×