বর্তমান সময়ে শিশু কিশোরসহ সবাই তথ্য প্রযুক্তির পিছনে ছুটছে। ছুটবেই না কেন আমরা কে না চাই আমাদের সন্তান তথ্য প্রযুক্তিতে মাস্টার হোক। আমাদের সবার ঘরেই এখন টিভি, সিডি, কম্পিউটার আছে। আমরা সবাই আনন্দদায়ক কিছু দেখতে ভালবাসি। তা টিভিতে হোক কিংবা সরাসরি। বর্তমান সময়ে আমরা টিভিতেই নানা রকম আনন্দাদায়ক জিনিস দেখতে পারি। এর মধ্যে কিছু সুবিধা-অসুবিধা, উপকার-অপকার তো আছেই। এ কারণেই তথ্য প্রযুক্তির এসময়ে নানা সুবিধা-অসুবিধা আমাদের মানতে হয় বা হচ্ছে। আর এর মধ্যেই একটি বড় সমস্যা শিশুদের কার্টুন দেখা।
যাদের বাসায় ছোট শিশু আছে, তারা প্রায় সব সময়ই এই অসুবিধায় ভুগছেন। তাদের সব পরিবারেরই অভিযোগ শিশুদের কার্টুন দেখা নিয়ে। এমনকি শিশুরাও উৎসাহী এই কার্টুন দেখতে । তারা মজাও পায় বটে। একটি জিনিস বিশেষভাবে খেয়াল করলে আমরা দেখতে পাই যে, শিশুদের কাছ থেকে বড়দের চ্যানেলগুলো আড়াল করতেই মা-বাবাই ছেলে মেয়েদের হাতে কার্টুন চ্যানেল ধরিয়ে দেয় এবং একসময় এটা বাচ্চাদের নেশায় পরিনত হয়ে যায় তখন হাজার চেষ্টা করেও ছাড়ানো যায় না।
বাংলাদেশে অনেক হিন্দি টিভি চ্যানেলে কার্টুনগুলো হিন্দিতে ভাষান্তরিত করা। শিশু নিশ্চয়ই এগুলোই দেখে! এতে করে দেশের নতুন প্রজন্মের জাতি আমাদের প্রিয় মাতৃভাষাকে ভুলে যাচ্ছে। এই নতুন প্রজন্মের শিশুরা যদি অতি মাত্রায় এই হিন্দি ভাষায় কার্টুন গুলো দেখে তাহলে তার মধ্যে অবশ্যই এই ভাষার বর্হিপ্রকাশ ঘটবে। বর্তমান সময়ে হাজারো টিভি চ্যানেল এর ভিড়ে কয়েকটি চ্যানেল কার্টুন দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা প্রচার করে। আজকাল বাচ্চারা তো প্রচন্ড মাত্রায় হিন্দি ভাষা ব্যবহার করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অনেক পরিমানে ঝুঁকে পড়ছে।
ছোট্ট শিশুরা যখন কার্টুন দেখে তখন তারা অতি মনোযোগ সহকারে দেখে এবং টিভি সেটের অনেক সামনে গিয়ে দেখে। যা তাদের চোখেরও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনিতেই টিভি দেখলে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব রেখে দেখায় ভালো। বর্তমানে কার্টুন সিরিয়াল গুলোতে অনেক আর্কষণীয় এ্যানিমেশন দেওয়া হয় শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য। যা শিশুদের চোখের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর।
আরেকটি দিক যা শিশুদের মানসিক দিককেও ক্ষতি করে। যে শিশুটি ঘন্টার পর ঘন্টা টিভি সেটের সামনে বসে কার্টুন দেখে এতে তাদের চোখের ক্ষতির পাশাপাশি তাদের মানসিক দিককেও কিছুটা পরিবর্তন করে। এত ছোট বয়সের যে শিশুরা কার্টুন দেখে এতে তাদের মন মানসিকতারও পরিবর্তন দেখা দেয়। এতে শিশুদের অভিভাবকদেরও ক্ষতি করার আশঙ্কা থাকে। কারণ, বর্তমান সময়ের কার্টুন গুলোতে মারামারির দৃশ্য বেশী থাকে। যা শিশুদের মস্তিস্ককে ভাবিয়ে তোলে। পরবর্তীতে তা মারাত্মক ভাবে শিশুদের মাঝে প্রকাশ হতে পারে। একই পরিবারে একাধিক বাচ্চা থাকলে তাদের মধ্যে এর প্রভাব পড়ে ফলে এবং তারা মারামারির করাটাকে একটা খেলা হিসেবে নিয়ে মাঝে মাঝে দূর্ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে। অথবা একটি পরিবারে যখন শুধু একটি বাচ্চা থাকে সে প্রচন্ড পরিমানে আগ্রাসন/ রাগ/ হতাশায় ভুগে ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়।
হিন্দি কার্টুনগুলো প্রচার করছে হিন্দি টিভি চ্যানেল গুলো। তা তাদের স্বার্থেই জন্যই তারা এগুলো প্রচার করছে। আর আমাদের দেশীয় চ্যানেলো এসব প্রচার করে নির্বিঘ্নে। আমাদের উচিত আমাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি কিংবা বেসরকারী টিভি চ্যানেল গুলো এই কার্টুনগুলো সংগ্রহ করে বাংলায় ডাবিং করে প্রচার করা। কিংবা নিজস্ব উদ্যোগে ভালো ভালো শিক্ষামূলক কার্টুন প্রচার করা। এসব বিষয় গুলো চিন্তা করার মনে হয় এখনই সময়। আর অবশ্যই পরিবারের বড় সদস্যরা শিশুটিকে পর্যাপ্ত সঙ্গ দিবে যাতে সে টিভি চ্যানেলের প্রতি অতি মাত্রায় ঝুঁকে না পড়ে।
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।