somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বালক বালিকাদের গল্প । পর্ব - ২

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব-১
জয়ী দাড়িয়ে আছে মোকাররম ভবনের সামনে । বুঝতে পারছেনা কি করবে। বাসায় যাবেনা - বাসায় এখন কেউ নেইও! কোথায় যাওয়া যায়? আকাশটা কেমন গুমোট হয়ে আছে । বাতাসে বদ্ধ আটকা পড়া ভাব । ভাল লাগছেনা । হঠাৎ মনে হলো আজকের দিনটা ইচ্ছামতো কাটালে কেমন হয়? সারাদিন যা যা করতে ইচ্ছা হয় করবে - ঘুরবে -একা একা- বিকেল বেলা যথারীতি বাসায় ফিরে যাবে।

কথাটা ভাবতেই জয়ীর মনের খুশীর ভাবটা আবার ফিরে এলো । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে এখন বাজছে ৭টা ২৯ । দারুন! পুরো দিনই তো পড়ে আছে সামনে ।

হাটতে হাটতে সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর দিকে চললো জয়ী ।

শামসুন্নাহার হলের সামনে এত সকালেও দেখা যাচ্ছে কয়েকটি জোড়া । একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে আছে । দুজনেই মাথা নীচু । ওদেরকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে - সারা দুনিয়ার সব সমস্যার চাইতেও বড় সমস্যা হয়তো চলছে দুজনের এখন । উদাসীন - মনমরা ! আহারে!!

সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনেটা একদম ফাঁকা । কোনার দিকের চায়ের দোকানের ঝাপিটা খুলেছে মাত্র । তোড়জোড় চলছে নানারকম । বারান্দায় বসে জয়ী হাতের ইশারায় ডাকলো চায়ের দোকানের পিচ্চিটাকে ।

"একটা দুধ চা"
এখানে এর আগে একবার কি দুবার এসেছে জয়ী । এদিকটায় আসা হয়না তেমন । কিন্তু এ জায়গাটা বেশ ভাল লাগে জয়ীর । এখন আরাম করে এক কাপ চা খাবে । তারপর লাইব্রেরীতে বসে লতাকে চিঠি লিখবে। লতা পড়ছে সিলেট মেডিকেলে । ভাবছে পরীক্ষাটা শেষ হলে ঘুরে আসবে সিলেট থেকে । ও আর লতা ক্লাস ফাইভ থেকে একসাথে পড়েছে । কতদিন বেচারাকে চিঠি লেখা হয়নি ।

"আপা চা" পিচ্চিটা চা নিয়ে ফিরে এসেছে ।

জয়ী আরাম করে চুমুক দিলো চায়ের কাপে । দুপুরে এখানে নাকি পাতায় খিচুরী বিক্রি হয় শুনেছে । আজ এই খিচুরী খেতেই হবে । মাঝে মাঝে জয়ীর মনে হয় - ইউনিভার্সিটিতে অনেক অনেক খাবারের দোকান থাকা উচিত । ভ্রাম্যমান দোকান । ছেলেমেয়েরা রাস্তায় - গাছের নীচে - চত্বরে আড্ডা দিবে -- আর তাদের চারপাশে থাকবে প্রচুর ভ্রাম্যমান নানান খাবারের দোকান । মনে হবে মেলা হচ্ছে -- সবসময় -- আনন্দের মেলা!

চা শেষ করা মাত্রই পিচ্চিটা ভুতের মতো সামনে উদয় হলো । নিশ্চয়ই খেয়াল করছিলো কখন শেষ হয়!

"দুই টাকা আপা"

ব্যাগ থেকে পার্সটা খুলে চোখ রাখতেই জয়ীর কলজেটা হিম হয়ে গেলো! একটা একশ টাকার নোট হ্যা হ্যা হাসছে! একটাও খুচরা টাকা নেই! ইস! এখন কি হবে? আশপাশে টাকা ভাঙানোর মত কোন দোকানও নেই । ওতো এমনকি কাউকে চেনেওনা এখানে । খুব লজ্জা লাগছে ।

"মামা ভাঙতি নাই"

মোকাররমের চায়ের মামা ভাল করেই চেনে ওকে । কিন্তু এ মামাকে কোনওদিনও দেখেনি জয়ী । মামা কিছু বলছেনা দেখে জয়ী বললো "আচ্ছা একশ টাকা রেখে যাই । দুপুরে এসে বাকী টাকা নিয়ে যাবো!"

"দুই টাকা তো!! এই নেন মামা" পিছন থেকে কে যেন বলে উঠলো । জয়ী পিছন ফিরতেই দেখে একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে । ওদের সাবজেক্টেই ! মাষ্টার্সের থিসিস করছে এখন । কি যেন নাম!

"ও... ভাইয়া আপনি? না... না... দিতে হবেনা" । ও আপত্তি করার আগেই টাকা দেয়া হয়ে গেছে দেখলো জয়ী ।

"তুমি জয়িতা না? এখানে কি করছো? ক্লাস নেই আজ?"

"আছে! আমি ...এমনিই... একটা কাজে এসেছি" জয়ীর কিছুতেই মনে পড়ছেনা ছেলেটার নামটা। কি যেন? নিনিমেষ.... না না অনিমেষ..?

"ও"

"আপনাকেতো ইদানীং দেখিইনা" - জয়ী জিজ্ঞাসা করলো । ভাগ্যিস জুনিয়র না! তাহলে নাম ধরে ডাকতে হতো!

- "হ্যাঁ - আমি থিসিসের কাজ করছিতো - নিজের সময়মতো করি"
- "তাহলে আপনাকে কোথায় পাবো"
- "কেন বলতো?"
- "এই যে টাকাটা ফেরত দিতে হবেনা!"

একথায় ভাইয়াটা কেমন যেন বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
- "ও আচ্ছা এই দুই টাকা? একটা কাজ করলে কেমন হয়? - দুটাকা ফেরত নেয়া কেমন ব্যাপার না? তুমি বরং আরো কিছু টাকা ধার করো! - তারপর একসাথে পুরো টাকাটা ফেরত দিও কেমন? "

জয়ীর খুব মজা লাগলো। এখন আর থাকা যায়না । "ভাইয়া আমার কিন্তু কিছুতেই আপনার নামটা মনে পড়েছেনা! স্যরি"

" না... না... ঠিক আছে... আমি অনি... অনিকেত" ।

(চলবে)


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৩:৪৪
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×