somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জ্বিনের বাদশা
দয়াল বাবা কেবলা কাবা আয়নার কারিগর

কত অপমান করেছি তোমাদের, মা!

০৫ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
গতবার দেশে গিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। মূল বিষয় ছিল, বাসার সবাইকে নিয়ে একদিন পুরো বাইরে খাওয়া।
পুরো সফল হইনি, কারণ সকালের নাস্তাটা কোনভাবেই বাইরে করানো যায়নি।
যাই হোক লাঞ্চটা সারলাম বসুন্ধরা সিটির ৮ তলায় ফুড কোর্টে। দাম কিন্তু ঢাকার সাধারণ মানের রেস্তোরাগুলোর (যেখানে অন্তত পরিচ্ছন্ন খাবার আছে বলেই মনে হয়) মতই। সবাই একটা করে চিকেন/মাটন/বীফ আইটেম, ভাত, কিছু সালাদ আর ড্রিংকস নিলাম। বিল আসল ১৬০০ টাকা। ওহ, আমরা সদস্য ছিলাম ৮ জন।
বিকেলে একটু ঘুরাঘুরি করে একটি সাধারণ ফাস্টফুড শপে ঢুকে লাইট কিছু খাবার (কেউ ঝাল, কেউ মিস্টি) খেলাম, সাথে চা/কফি/লাসসি। মোটামুটি ৪০০ টাকা বেরিয়ে গেল।
রাতে 'ভূত' নামে একটা রেস্তোরায় খেলাম, সাধারণ আইটেম। দামবেশী দেখে সবাই পেট না ভরলেও পেট ভরেছে ভাব করে উঠে আসল। এখানে বিল পড়েছিল ২৫০০ টাকার মতো।
ধরে নিলাম সকালে নাস্তাটা একসাথে করলে আরও ৫০০ টাকা যেত।
একদিন সবাই বাইরে খেলে খরচ হয় ৫০০০ টাকা।
একমাসে দেড় লাখ টাকা!!

২.
আমরা বাসায় যখন খাই, তখন এর চেয়ে ভাল খাই। হয়ত তেলটা একূ কম দেয়া থাকে খাবারে, কিন্তু ভ্যারাইটি/স্বাদ দুইদিক থেকেই বিচার করে দেখলে বলা যায় যে বাসার খাবার অনেক বেটার।
তারপর চা-টা খাওয়া হয় অনেকবার। ফলমুলও কমবেশী খাওয়া হয় বাসায়।
এবং সবচেয়ে বড় কথা খাবারের মান বাসার মতো একইরকম রাখতে গেলে বাইরে খাওয়ার সময় উপরে লেখা একটু দামী জায়গায় খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। (তাও আমার ধারনা উপরের খাবারের হিসেবটা বিলাসিতা না, বিলাসিতা করলে ঢাকায় একদিনে ৮ জন মিলে ২০-২৫ হাজার খরচ করা যায়)

মাকে জিজ্ঞেস করলে বলে বাসার খাওয়া খরচ ১০ থেকে ১২ হাজারে হয়ে যায়। আরও কমেও নাকি হয়!!
মায়ের এসিস্ট্যান্ট কাজের মেয়েটাকে বেতন দেয়া হয় ৩ হাজারের মতো।
আচ্ছা, সবমিলিয়ে খরচ কোনভাবেই ১৫ হাজার ক্রস করেনা।

সাধারণ এ্যাকাউন্টিং অনুযায়ী সংসারে মার 'শেফ' হিসেবে অবদান কত?
১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা!!
মা কিন্তু শুধু শেফই না, আরও অনেক অনেক কাজ করে।

প্রতি বছর একটা জরিপ হয় যুক্তরাস্ট্রে, একজন গৃহিনী কতটাকা সমসমূল্যের শ্রম দেন তা নিয়ে। এবছর তা হলো ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার!!

৩.
ছোটবেলায় মনে আছে-- জামা ছিঁড়ে গেল, দৌড়ে যাও মায়ের কাছে। সাথে সাথে ঠিক করে দেবে।
খেলতে গিয়ে হাঁটু ছিলে গেছে? অথবা রাতে জ্বর এসেছে? অথবা বদহজমে বমি হয়েছে? মা তো আছেই, সেইতো সবচেয়ে ভাল জানে তখন আমার কি দরকার।
বাসার প্রত্যেকটা সদস্য, এমনকি বাবাও, সবকিছুর জন্য মার দিকে চেয়ে আছে। যেন এই দেবী মুহূর্তে সবার সবসমস্যা সমাধান করে দেবে।
আমার কি প্রয়োজন, সেটা অনেক সময় মুখ ফুটে বলতে না পারলেও মুচকি হেসে মা ঠিকই বুঝে নেয়। মনখারাপ হলে মনভালো করার জন্য বাচ্চার কাছে মায়ের চেয়ে ভাল আশ্রয় আর কি?
একজন মা একাধারে শেফ, ম্যানেজার, কাউন্সেলার, টিচার, টেইলার, ফার্সট এইডার, প্ল্যানার -- কতকিছু। একজন মা রবীন্দ্রনাথের চেয়ে কম কি? রবীন্দ্রনাথের গড়ে উঠাওতো একজন মায়ের অবদান।

৪.
এইসব মায়েদের মাঝে একগ্রুপ আছেন যারা একই সাথে বাইরেও চাকুরী করেন, ঘরেও দেখেন।
আবার একগ্রুপ আছেন যারা শুধু ঘরটাকেই দেখেন। এরা এখনও সংখ্যায় অনেক বেশী।

এদের জন্যই বলছি।

সভ্যতা এদেরকে 'গ্রান্টেড ফর' ধরে নিয়েছে।
সভ্যতা এদেরকে স্বীকৃতি দেয়না।
এইসব মায়েদের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলা হয়, 'দেখো নারী জাতি পিছিয়ে আছে!!'
এদেরকে নিয়ে সাহিত্যে, টিভিতে, নাটকে হ্যারাস করা হয় সবচেয়ে বেশী -- মাঝেমাঝে অপমান, মাঝেমাঝে ব্যাঙ্গ।
এবং, আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এদের সন্মানের পক্ষে এদের অবদান স্বীকার করে কেউ কোন কথাও বলেনা!!

আমি এসব দেখলে ভাবি, আমার মা কিভাবে এসব হজম করছে, সে কেনো প্রতিবাদ করতে পারছেনা!
কারণ আমি তো জানি আমার সেই "সহজ-সরল" আটপৌরে মা'র শক্তি কতখানি!!

কিন্তু আমি জানি কেন তাঁদের সন্মান দেয়া হয়না।
কারণ, এই পুঁজিবাদী সমাজে তাঁদের হাতে সরাসরি অর্থ আসেনা!!!

৫.
একটা প্রস্তাব!!!!!

আজ হয়ত অনেকেই প্রস্টাবটা শুনে হাসবেন, তবে এই মেলশভেনিস্ট সোসাইটিতে যেদিন অনেক পুরুষেরা স্টে-এট-হোম হিসেবে কাজ করবে, তখন দেখবেন এই প্রস্টাব এমনেই পাস হয়ে গেছে।

প্রস্তাবের পক্ষে ভূমিকাটা হলো,
এই যে মায়েরা সরকারের জন্য, কর্পোরেটদের জন্য এরকম যোগ্য যোগ্য মেশিন বানিয়ে দিচ্ছে নিজের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে, সেই মায়েদের কি সরকারের বা কর্পোরেটদের লাভ্যাংশে অধিকার নেই?
চিন্তা করুন, হঠাৎ সব গৃহিনী মায়েরা যদি সিদ্ধান্ত নেন যে আগামী ১৫ বছর কেউ বাচ্চার কেয়ার নেবেননা, তাহলে কর্পোরেটগুলো ঝরে পড়বে।

তাই প্রস্তাবটা হলো,
গৃহিনীদের জন্য রাস্ট্রীয় ভাতা-ব্যাবস্থা চালু করা। সন্তান যত ভাল করবে, তার সাথে সাথে এই ভাতার পরিমাণ বাড়বে। এবং এজন্য ট্যাক্স হিসেবে কর্পোরেটরা সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবে।
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×