ফাং ছেং হলেন চীনের বিখ্যাত ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী। তার বয়স এখন ৮৯ বছর। তিনি এখনো ব্যঙ্গবিত্র তৈরীর কাজ নিয়ে ব্যাস্ত আছেন। তার আঁকা ব্যঙ্গচিত্র লাইনের মাধ্যমে জীবনের কিছু হাস্যকর ঘটনার বর্ণনা করতে পারে। তাছাড়া, তিনি ব্যঙ্গকৌতুক সম্পর্কিত তত্ত্ব নিয়েও গবেষণা করেন এবং ইর ওপর বই লিখেন।
ফাং ছেং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে নিয়মিত দেখা করা ছাড়া বাকি সব সময় তিনি প্রবন্ধ লেখায় ব্যস্ত থাকেন। বয়স বেশি হলেও তার স্মরণ শক্তি কিন্তু খুব ভাল।
বিংশ শতাব্দীর ৩০ দশকে হাই স্কুলে পড়াশোনার সময় তিনি ব্যঙ্গচিত্র আঁকতে শুরু করেন। তখন চীন জাপানের আক্রমণের হুমকি'র সম্মুখীন। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মিছিল বের করে তাদের অভিযোগ জানায়। ফাং ছেং তখন স্লোগান আঁকার কাজে অংশ নিয়েছেন। আস্তে আস্তে তার আঁকা ছবি উন্নত হয়েছে। ১৯৪৬ সালে তিনি শাংহাইয়ের একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানিতে চাকরি পান। তিনি বলেছেন:
"বিজ্ঞাপন কোম্পানিতে তখন একজন চিত্র কর্মীর প্রয়োজন ছিল । ১৯৪৬ সালে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয় হয়েছে। অনেকেই চাকরি করার চেষ্টা করে। আমরাও কাজ করার ইচ্ছা ছিল। তাই খুব ভোরে আমি সেই অফিসে গিয়েছিলাম। তখন ওই কোম্পানির পরিচালক ছিলেন একজন আমেরিকান। আমার ব্যঙ্গচিত্র দেখে সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে তিনি চাকরি দিলেন।"
বিজ্ঞাপন কোম্পানি'র কাছ ছাড়া তিনি শাংহাইয়ের বেশ কিছু বড় পত্রিকার কাছেও ব্যঙ্গচিত্র পাঠিয়ে দেন। তার প্রকাশিত ব্যঙ্গচিত্র একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদকের দৃষ্টি আকষর্ণ করে। পরে তিনি নিজগুণে এই ম্যাগাজিনের সম্পাদক হয়েছেন।
তিনি হংকংয়েও কাজ করতেন। ১৯৫০ সালে পেইচিংয়ে ফিরে আসার পর তিনি চীনের সরকারি পত্রিকা "পিপলস ডেইলি"তে কাজ করতে শুরু করেন। প্রথম কয়েক বছর তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের জন্য ব্যঙ্গচিত্র তৈরী করেন। প্রতিদিন একটি। তখনকার কাজ করার অবস্থা স্মরণ করে ফাং ছেং বলেছেন:
"রাতে আমি শিনহুয়া বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতাম। প্রতিবেদন বের হওয়ার পর সকাল ৯টায় আমি নিয়মিত সম্পাদীয় সম্মেলনে অংশ নেই এবং দিনের প্রধান খবর ঠিক করি। তারপর আমি ব্যঙ্গচিত্র তৈরী করতে শুরু করি। রাতে বারোটার আগে আমি ছবিটি শেষ করি। প্রতিদিন মাত্র একটি।
বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে ফাং ছেং ১০০টি ব্যঙ্গচিত্র সৃষ্টি করেছেন। এসব ছবি কিছু কিছু সমাজের অযোগ্য আচরণ ও তামাসার ওপর এবং কিছু কিছু কাজকর্মের বাজে অভ্যাসের পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে "উ তা লাং দোকান পরিচালনা করে" খুব জনপ্রিয় ছিল। উ তা লাং চীনের একটি উপন্যাসের একজন ব্যক্তি। তিনি খুব বেটে। এই ব্যঙ্গচিত্রে উ তা লাং একটি দোকান খুলেছে। তার কর্মকর্তাদের উচ্চতা তার চেয়ে বেশি এই ভয়ে তিনি শুধু তার চেয়ে আরো বেটে কর্মীকে চাকরি দেন। ফাং ছেং এই ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে যে হিংসাপূর্ণ লোক নিজের চেয়ে ভাল লোককে চাপা দেয়ার প্রচেষ্টার তামাশা করেছেন সে কথাই তুলে ধরেছেন। কয়েকটি শহরে তার ছবির প্রদর্শনী হয়েছে। অনেকেই তার ছবি খুবই পছন্দ করে। ফাং ছেং বলেছেন:
"আমার প্রদর্শনী খুবই সফল হয়েছে। অনেকেই অন্য শহর থেকে আমার ছবি দেখতে এসেছেন। প্রদর্শনী শেষে আমার ছবিও বিক্রি হয়েছে। প্রায় দশটিরও বেশি শহরে প্রদর্শনী করেছি।"
ব্যঙ্গচিত্র তৈরী করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যঙ্গকৌতুক তত্ত্বের ওপরও গবেষণা করেন। এই ক্ষেত্রে তার দশটিরও বেশি বই বের হয়েছে। ফাং ছেংয়ের মতে ব্যঙ্গকৌতুক হল ভাষা ব্যবহারের একরকম কৌশল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার তত্ত্বের ওপর ক্লাস নিয়েছেন। তার বয়স বেশী হলেও তিনি নতুন তথ্য জানতে খুবই আগ্রহী। তিনি ভালভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন এবং যুবকযুবতীদের কার্টুন দেখতেও খুব পছন্দ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


