somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলার তিন শ' বছর নামে বৃহত প্রদর্শনী পেইচিংয়ে উদ্বোধন

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চীনের চালুকলা গ্যালারীতে প্রদর্শিত ' যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলার তিন শ' বছর ' নামে একটি প্রদশর্নী চীনে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রদশর্নী । এই প্রদর্শনীসার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলা প্রসারের গতিপথ প্রতিফলিত হয়েছে । প্রতি দিন এ প্রদশর্নীতেচীনা দশর্কদের ভীড় জমে।
' যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলার তিন শ' বছর ' নামে প্রদশর্নীতে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলা ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২০জন শিল্পীর ১৩০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে । এই সব শিল্পকর্ম উত্তর আমেরিকার উপনিবেশ যুগ থেকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের তিন শ' বছর ইতিহাসের বিভিন্ন সময়পর্বে শিল্পকলা প্রসারের গতিপথ চিত্রিত হয়েছে । জানা গেছে , ১৯৯৮ সালে ' চীনাজাতির পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতা ' নামে একটি প্রদশর্নী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে প্রদর্শীত হয় । যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রদশর্নী তার ফিরতি প্রদশর্নী । চীনের সংস্কৃতি মন্ত্রী সুন চিয়া চেন প্রদশর্নীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন , যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের চীনের পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতা সম্পর্কিত প্রদশর্নীর প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ দেখানোর মতো চীনা জনগণও যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রদশর্নীর প্রতীক্ষায় রয়েছেন । চীন-মার্কিন সম্পর্ক হলো বতর্মান বিশ্বের এক অদ্ভুত ব্যাপার । দুটি দেশের মধ্যে প্রায়ই ভিন্ন মত থাকে , তবে পরস্পরের প্রতি আশা পোষন করে । মতবিরোধ ও আশা পোষনের প্রক্রিয়ায় আমাদের সমঝোতা ক্রমেই বাড়ছে । শিল্পকলা ও সংস্কৃতি আমাদের দুটি দেশের মানসিক সেতু । আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রদশর্নী অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে জানতে চীনা জনগণকে সাহায্য করবে । আমি এটাও বিশ্বাস করি যে ভবিষ্যতে দুটি দেশের জনগণের মধ্যেকার বন্ধুত্ব আরো বাড়বে ।

জানা গেছে , এ প্রদশর্নীর প্রস্তুতির সময় দীর্ঘ আট বছর । প্রদশর্নীর শিল্পকর্মের মধ্যে বিখ্যাত নিউইয়র্কের গুগেনহেম তহবিল ও টেরা তহবিল তহবিলসহ পাশ্চাত্য দেশগুলোর অনেক যাদুঘরের শিল্পকর্ম রয়েছে । এ ধরনের প্রদশর্নী যুক্তরাষ্ট্রেও প্রদর্শীত হয় নি । চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্লার্ক থোপ রেন্ট প্রদশর্নীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন , যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথমবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক শিল্পকর্ম সংগ্রহ করে বিদেশে প্রদশর্ন করছে । এ প্রদশর্নীতে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলা রকমারিতা দেখানো হয়েছে । দশর্করা এ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারবেন ।

এ প্রদশর্নীতে দশর্করা চিত্রকর্ম , তৈজষপত্র ও চলচ্চিত্র থেকে উত্তর আমেরিকার আদিম অধিবাসী ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি ও রাখাল বালক এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পের উন্নয়ন ও শিল্পকলার প্রসারের গতিপথ দেখতে পাবেন । গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের পরিবর্তে পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পকলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্রে অনেক আধুনিক শিল্পী আছেন । তাদের মধ্যে আছেন ভাবমূলক অভিব্যক্তিবাদের শিল্পী ক্যাক্সন পোলোক , গত শতাব্দীর ষাটের দশকে বিশ্বে বহুল প্রচারিত পোপ শিল্পের প্রতিনিধি আনদি ওয়াহোল ও জ্যান মিশেল বাসকুয়েট । প্রদশর্নীতে দশর্করা যুব শিল্পী মাথিউ বারনেইয়ের তৈরী আট ঘন্টা স্থাযী প্রামান্যচিত্র দেখতে পারেন । যদিও ছবির অর্থ বোঝা সহজ নয় , তবুও দশর্করা দেখতে পছন্দ করেন । প্রদশর্নীর শেষ অংশে স্বচ্ছ কাগজ দিয়ে মোড়া বাদামী রঙের টফী দিয়ে একটি সলিড আকারের স্টুপ থেকে উজ্জ্বল কিরণ চারপাশে আলোকিত করে তুলে । দশর্ক লি ইউন হাই বলেছেন , আমি এই সলিড আকারের টফি স্টুপের তাত্পর্য আন্দাজ করি , কিন্তু বুঝতে পারছি না । আমি মনে করি এটাও যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের সংস্কৃতি । আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তা সংস্কৃতি সমৃদ্ধ , তার ঐতিহ্যিক শিল্পের উপর বেশি কম দৃষ্টি রাখি ।

দর্শক সুজি বলেছেন , আমি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি এবং সেখানকার অনেক যাদুঘর পরিদর্শন করেছি । আমি মনে চীনের প্রদর্শিত এ প্রদর্শনী খুব ভালো । কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সব যাদুঘর পরিদর্শন আমার পক্ষে সম্ভব হবে না । এই প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে । এ থেকে আমি মার্কিনীদের দৃঢ মনোবল ও খোলামন অনুভব করতে পেরেছি ।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×