somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিস্ময় সৃষ্টি করা চীনের 'ডাইভিং রাজকুমারী' কুও চিংচিং

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এবারের মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশীপে চীনা খেলোয়াড় কুও চিংচিং নারীদের তিনমিটার স্প্রিংবর্ডের একক ও দ্বৈতে চ্যাপিয়ন হন। তিনি হন প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের ইতিহাসে একী ইভেন্টে একটানা চারবার স্বর্ণপদক অর্জিত খেলোয়াড়। তিনি বিস্ময় সৃষ্টি করেন। এবারের অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের কাছে কু চিংচিং সম্বন্ধে কিছু বলবো।

চীনের জাতীয় ডাইভিং দল আন্তর্জাতিক সাঁতার মহলে 'সপ্ন দল' আখ্যায়িত। কু চিংচিং হন বর্তমানে এ দলের আলোকিত খেলোয়াড়। ২৬ বছর বয়সী কু চিংচিং এথেন্স অলিম্পিক গেমস ২০০৪তে নারীদের তিনমিটার স্প্রিংবর্ডের একক ও দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে আরো ফলপ্রসূ। ১৯৯৮ সালে ১৭ বছর বয়সী কু চিংচিং প্রথমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেনও নারীদের তিনমিটার স্প্রিংবর্ডে রৌপ্যপদক লাভ করেন। এরপর, তিনি ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৫ সালে তিনবার সাঁতার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে নারীদের তিনমিটার স্প্রিংবর্ডের একক ও দ্বৈতে স্বর্ণপদক লাভ করে।

নারীদের তিনমিটার স্প্রিংবর্ডের এককের ফাইনাল প্রথমে খেলা ছিল। কয়েক হাজারের চীনা ডাইভিং প্রেমী চীনের জাতীয় পতাকা ও 'চীনা ড্যাগনের' শব্দ লেখা শ্লোগান প্লেকার্ড ওঠায় কু চিংচিংকে উত্সাহ দেন। প্রতিযোগিতায় কু চিংচিং প্রতি ক্রিয়াকলাপ সম্পন্ন করেন এবং সকল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানে ছিলেন। শেষে চ্যাম্পিয়নশীপ লাভ করেন। তিনি বিস্ময় করে সাঁতার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের ইতিহাসে প্রথম এবটানা একী ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খেলোয়াড় হন।

প্রতিযোগিতার পর, কু চিংচিং সংবাদদাতাদের কাছে বলেছেন, প্রতি চ্যাম্পিয়নশীপের স্বর্ণপদক হল তাঁর ডাইভিং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইফলক। তিনি বলেছেন, 'প্রতি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপের স্বর্ণপদক আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'


তিনি বলেছেন, প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপের স্বর্ণপদক লাভের সময়ের পরিদর্শন আমি আমার জীবনে ভূলে যাবো না। কারণ এটি হল আমি প্রথমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে স্বর্ণপদক লাভ করা। ২০০৩ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ হল ২০০৪ সালে অলিম্পিক গেমসের আগের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং চীনের জাতীয় ডাইভিং দল এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে অনেক স্বর্ণপদক হারিয়ে গেছে। সেজন্য স্বর্ণপদক লাভ খুবই কঠিন। ২০০৫ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমি তখন আমি বরাবরই বিশ্বের পর্যায় বজায় রাখার প্রমাণ করতে চাইতাম। এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপও হল ২০০৮ সালে অলিম্পিক গেমসের আগের সর্বশেষ বার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। সেজন্য প্রতি স্বর্ণপদক আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নারীদের তিনমিটার স্প্রিংবর্ডের দ্বৈতের যোগ্যতা প্রতিযোগিতায় কু চিংচিং ও উ মিনসিয়া প্রথমের ফল নিয়ে ফাইনালে উঠেন। তাঁরা ৩৫৫ দশমি ৮০ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। তাঁদের সাফল্য দ্বিতীয় স্থানে রওয়ার জার্মান খেলোয়াড়দের ফলের চেয়ে ৩৭ দশমি ৩৫ বেশি হয়।

কু চিংচিং একটানা পাচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপে আটটি স্বর্ণপদক এবং একটি রৌপ্যপদক লাভ করেন। তিনি বিস্ময় সৃষ্টি করেন। মেলবুর্ন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপ হল ডাইভিং রাজকুমারী কু চিংচিং অংশ নেয়া সর্বোশেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপ। কারণ তিনি পেইচিং অলিম্পিক গেমসের পর অবসর নেবেন। প্রতিযোগিতার পর এর জন্য তাঁর দুঃখ লাগে নি, শুধু এ চমত্কার সাফল্যের জন্য আনন্দ লাগে। তিনি বলেছেন, 'আমি এ সাফল্যে সন্তুষ্ট হই। আমার কোনো দুঃখ লাগে না। কারণ আমি পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেই। আমি ছাড়া এখন কোনো খেলোয়াড় পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেননি। আমার কোনো কিছু দুঃখ লাগে না।'


তিনবার অলিম্পিক গেমস, পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপ, ২০ বছরের কঠোর অনুশীলন ও অসংখ্য সুখ এবং দুঃখ কু চিংচিংয়ের সাফল্য সংগঠন করে। তিনি বলেছেন, তিনি এখনও খেলার চালক-শক্তি হল বরআস্ত আর বজায় রাখা। তিনি বলেছেন, 'আমি বজায় রাখবো। কারণ আমি বহু বছরে অনুশীলন করতে থাকি। প্রতি পর্যায়ে আমি বিভিন্ন সমস্যা সম্মূখীন হই। আমি একজন পুরানো খেলোয়াড়, আমি ২০ বছরে ডাইভিং অনুশীলন করেছি। আপনারা আমার খেলা দেখে মনে করেন আমি সহজভাবে প্রতিযোগিতা জয়ী করি, আসলে আমি কঠোর অনুশীলনের ফলে সাফল্য লাভ করি। যদি কোনো সময়ে আমার খুবই ক্লান্ত লাগে এবং আমি ত্যাগ করতে চাই, তবুও আমি বজায় রাখি, সেজন্য আমার পর্যায় উন্নত হয়।'

সবার থেকে যাওয়ার অনুরোধ মূখ কু চিংচিং বলেছেন, তিনি পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপে নিজের সাফল্যে সন্তুষ্ট হন। তিনি একটানা পাচঁবার তিন মিটার স্প্রিংবর্ডের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লাভের সৃষ্টি করতে চান না। আগামী বছরে পেইচিং অলিম্পিক গেমস হবে তাঁর সর্বশেষ প্রতিযোগিতা। অবসর নেয়ার ব্যাপার সম্বন্ধে কু চিংচিং বলেছেন, 'আপনারা আমাকে জিজ্ঞাস করেন যে আমার অবসর দেয়ার কারণ কি? আমার কারণ হল অবসর দেয়ার ঠিক সময় হবে। চীনের ডাইভিং খেলোয়াড়দের মধ্যে আম বয়স বেশি। এরআগে খুবই কম খেলোয়াড় আমার এত বেশি বছর অনুশীলন করতে থাকেন।'

আমরা অলিম্পিক গেমস ২০০৮তে কু চিংচিংয়ের সুন্দর হাসা প্রত্যাশা করি।




০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×