somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চীনে এক বিলিয়ন টনেরও বেশি মজুদের তেল ফিল্ড আবিস্কৃত হয়

২৩ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চীনের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস গোষ্ঠী সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, উত্তর চীনের হোবেই প্রদেশের বোহাই উপসাগরের থানহাই অঞ্চলে ১ বিলিয়ন ২কোটি টনেরও বেশি মজুদ একটি তেল ফিল্ড চিতংনানফু তেলক্ষেত্র আবিশ্কারিত হয়। নতুন তেল ফিল্ড চীন ও বিশ্বের ফোকার পরিণত হয়।

বোহাই উপসাগর হল চীনের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে সমৃদ্ধ এক অঞ্চল। নতুন আবিশ্কারিত নানফু তেলক্ষেত্রে তেলের মজুত বেশি এবং তেলের গুনমান ভাল। এটি হল একটি উত্কৃষ্ট গুনমান এবং সমৃদ্ধ মুজতের এক তেলক্ষেত্র। এটি হল ৩০ বছর ধরে চীনে আবিশ্কারিত বৃহত্তম তেলক্ষেত্র। তেলক্ষেত্রটি আবিশ্কারের সময়ের পরিদর্শন চীনের তেল গোষ্ঠীর চিতং তেলক্ষেত্রের সহকারি প্রধান ভূবিদ্যাবিদ তং ইউয়েসিয়ার মনে থাকে। তিনি বলেছেন, 'আমরা এ তথ্য শুনে আনন্দে আত্মহারা হই। আমরা অফিসে আনন্দে চিত্কার করি।'
কিন্তু এ আনন্দ খুবই কঠিন পাওয়া হয়। চিতং তেলক্ষেত্র কোম্পানি নানফু তেলক্ষেত্র পরিচালনা করে। চিতং তেলক্ষেত্র কোম্পানি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বোহাই উপসাগরের তীরের সাত তেলক্ষেত্রের মধ্যে চিতং তেলক্ষেত্রের আয়তন এবং উত্পাদিত পরিমাণ সবচেয়ে কম। আগে চিতং তেলক্ষেত্র প্রধানত স্থলে তেল আবিষ্কার করে, প্রতি বছরের উত্পাদিত পরিমান শুধু ৩.৫লাখ টন। পুঁজি ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে নানফুতে তেল আবিষ্কারিত কাজ ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হল। চিতং তেলক্ষেত্র কোম্পানি দু'টি বিদেশী তেল কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা করে, কিন্তু সাত ও আট বছর ধরে কোনো সন্তুষ্ট সাফল্য অর্জিত হয় নি।

এরপরে, চিতং তেলক্ষেত্র কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থা নিয়ে সঠিক ও বিস্তারিত ভূগর্ভস্থ গঠন কাঠামোর তথ্য লাভ করেছে। এ ফরে আবিষ্কারিত কাজ উন্নত হচ্ছে। চীনের তেল গোষ্ঠীর চিতং তেলক্ষেত্রের মহাপরিচালক চৌ হাইমিন বরেছেন, দৃড় প্রত্যয় হল তাঁরা নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের একটি কারণ। তিনি বলেছেন, 'আমরা বরাবরি মনে করি, এ অঞ্চলে বড় তেলক্ষেত্র রয়েছে এবং বিশ্বাস করি এ বড় তেলক্ষেত্র আমরা খোঁজতে পারবো। আমরা চার বছরের মাধ্যমে দু'বছরে প্রস্তুত দেই এবং দু'বছরে বাস্তবায়ন করি, শেষে আমরা ১ বিলিয়ন টন মজুতের তেলক্ষেত্র খোঁজেছি।'

চীনের বিজ্ঞান গবেষণা একাডেমি ও চীনের তেল কোম্পানির উপপরিচালক চিয়া ছেংচাও বলেছেন, নতুন তেলক্ষেত্রের খোঁজা চীনের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নিরাপত্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য রয়েছে। কিন্তু আবিষ্কারিত কাজ উন্নয়নের পাশাপাশি আরো নতুন সাফল্য অর্জিত হবে। তিনি বরেছেন, 'পূর্ব চীনের অর্থনীতি উন্নয়ন অঞ্চলে ও রাজধানী অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে এ বড় তেলক্ষেত্র আবিষ্কার করে জাতীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রারজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাত্পর্য রয়েছে। সকল বোহাই উপসাগর অববাহিকায় জ্বালানী শক্তির আবিষ্কারের সুপ্ত শক্তি বিরাট, আগের প্রযুক্তি দিয়ে আবিষ্কারিত হবে না। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, পূর্ব চীনে নতুন প্রযুক্তি দিয়ে তেলক্ষেত্রের সুপ্ত শক্তি আবিষ্কার করা উচিত।'

বর্তমানে চীন হল যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত তেল ভোক্তা দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পর বিশ্বের তৃতীয় তেল আমদানিকারক দেশ। ২০০৬ সালে চীন ১৬কোটি টন আমিরাতের তেল আমদানি করে। এটি আমিরাতের তেল ভোজনের শতকরা ৫০ ভাগ। সেজন্য বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, নানফু তেলক্ষেত্রের আবিষ্কার ব্যাপকভাবে চীনের জ্বালানী শক্তি অভাব অবস্থা পরিবর্তন করা এবং চীনের জ্বালানী শক্তি সাশ্রের ক্ষেত্রে চাপ কমানো যায়।

এ সম্বন্ধে চীনের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমির চাং চংহুয়া বলেছেন, এ মনোভাব বেশি আশাবাদী হয়। তিনি বলেছেন, 'আমি মনে করি, নানফু তেলক্ষেত্রের আবিষ্কার চীনের বর্তমান জ্বালানী অভাব অবস্থা পরিবর্তন করবে না। কারণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা উন্নয়নের পাশাপাশি চীন ব্যাপাক গাড়ী ভোগের শীর্ষ পর্যায়ে উঠেছে। এটি তেলের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বেশি হচ্ছে।

চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের জ্বালানী গবেষণালয়ের পরিচালক চৌ তাডি মনে করেন, এক বিলিয়ন টন মজুত এক বিলিয়ন টন আবিষ্কারিত পরিমাণ হবে না। নতুন তেলক্ষেত্রের আবিষ্কার মূলকভাবে চীনের প্রচুর তেল আমদানির অবস্থা পরিবর্তন করবে না। তিনি বলেছেন, 'বর্তমানে বিশ্বের তেলের মোট পরিমাণ একশো বিলিয়ন টন। সেজন্য এ বিলিয়ন টন তেল মজুত বিশ্বের তেল মজুতের ভারসাম্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে না। আন্তর্জাতিক তেলের মূল্যের পরিবর্তন সৃষ্টি হবে না। চীনের বর্তমানে তেল ভোগের পরিমাণ হল প্রতি বছরে ৩০কোটিরও বেশি। এক এক বিলিয়ন টন মজুতের তেলক্ষেত্রের আবিষ্কারিত পরিমান প্রায় ৫ থেকে ৬ পর্যন্ত টন। কিন্তু প্রতি বছরে এ তেলক্ষেত্রে সুধু কয়েক মিলিয়ন টন আবিষ্কারিত হবে। সেজন্য এটি আমাদের ভবিষ্যতে তেলের ভোগ পরিবর্তন করা হবে না।'

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের আনন্দে চিত্কার করার পাশাপাশি আমাদের উচিত সংযম বজায় রাখা। তেল একবারব্যবহৃত জ্বালানী শক্তি হিসেবে অবশ্যই কম থেকে কমতর হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের উচিত জ্বালানী শক্তির আবিষ্কার ও সাশ্রের কাজ একই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখা। যাতে মূল্যবান তেল জ্বালানী শক্তির যোগ্যতা বাস্তবায়ন করা যায়। চীনের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমির চাং চংহুয়া বলেছেন, জ্বালানীর সাশ্র বরাবরি চীনের অর্থনীতি উন্নয়নের পাশাপাশি বজায় রাখা লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, 'আমাদের উচিত অব্যাহতভাবে জ্বালানী সাশ্র করতে, ক্ষতি কমাতে, পরিবেশের সুরক্ষা করতে, দুষণের কমাতে ও মূলকভাবে আমাদের বর্তমান অর্থনীতি উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে থাকা।

বর্তমান ,মানব ও সরজ্ঞান শক্তি নিয়োগ এবং প্রচুর জ্বালানী শক্তির ভোগের পদ্ধতিতে সূদূরপ্রসারী দৃষ্টিতে দেখতে গেলে অর্থনীতির অবিরাম উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে না। সেজন্য, নানফু তেলক্ষেত্রের আবিষ্কারের ফলে আমাদের সম্পদ সদ্ব্যবহারী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে না।

পরিকল্পনা অনুয়ারী, চিতং তেলক্ষেত্র আগামী বছরে এককোটি টন আমিরাতের তেল উত্পাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন। চিতং তেলক্ষেত্রের দায়িত্ববান ব্যক্তি সম্প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, চিতং তেলক্ষেত্র ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে তেলক্ষেত্রের দুষিত পানি নিঃসরণ না করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন।


: সিআরআই :
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×