somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

থাংচে মন্দির

২৩ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পেইচিংয়ের পশ্চিম উপকন্ঠ এলাকায় একটি ১৭০০ বছরেরও বেশি পুরানো থাংচে মন্দির রয়েছে । তা পাহাড়ের পাশে নির্মিত একটি মন্দির, এর কাছে ৯টি উঁচু পাহাড় রয়েছে । ৩০৭ সালে তা নির্মিত হয়েছে । এ মন্দিরের ইতিহাস পেইচিংকে রাজধানী করার ইতিহাসের চেয়েও পুরনো । থানচে মন্দিরের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাও সিন চিয়ান বলেছেন, উত্তর চীনের রাজার নাম ছিল ওয়াং চুন । ৩০৭ সালে তাঁর স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেন । তিনি তাঁর স্ত্রীকে পেইচিংয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পাপাওশান অঞ্চলে সমাহিত করেন । একই বছর তিনি তাঁর স্ত্রীর ও দেশের শুভকামনা প্রার্থনার জন্য চীনের পশ্চিম উপকন্ঠে চিয়াফু মন্দির নির্মাণ করেন । তা হচ্ছে থানচে মন্দিরের পুরনো নাম ।

থানচে মন্দির পৌঁছার পর অবশ্যই মন্দিরের একটি বৈশিষ্ট্যময় দৃশ্য দেখতে পাবেন । তা হচ্ছে মন্দিরের সন্ন্যাসীদের খাবার রান্না করার একটি বড় ধাতব পাত্র । এ পাত্রের ব্যাস ৪ মিটার, উচ্চতা ২ মিটার । এক পাত্রে সিদ্ধ ভাত তৈরী করলে ১০ ঘন্টারও বেশি সময় লাগত । পাত্র পরিস্কার করার সময় সন্ন্যাসীরামইয়ে উঠে পাত্রের ভিতরে দাঁড়িয়ে তা পরিস্কার করতেন । পাত্রের নীচে রান্নার বেঞ্চিতে থাংচে মন্দিরের চীনা ভাষা অক্ষর খোদাই রয়েছে । তাহলে কেন এ তিনটি অক্ষর খোদাই করা হয়েছে ? এ সম্পর্কে সহকারী পরিচালক হাও সিন চিয়ান বলেছেন, রূপকথায় বলা হয়েছে , থানচে মন্দিরের সব স্থাপত্য ভবন কাঠ দিয়ে তৈরী ,সহজভাবেই অগ্নিকাণ্ড হতে পারে । সন্ন্যাসীদের প্রধান মন্দিরে অগ্নিকণ্ড এড়ানোর জন্য অনেক উপায় বের করেন । এক রাতে তিনি তাঁর স্বপ্নে দেখতে পান যে , থানচে মন্দিরকে আগুণে রাখলে মন্দিরে আর কোনোদিন অগ্নিকণ্ড ঘটবে না । এ জন্য তিনি রান্নার বেঞ্চিতে থানচে মন্দির এ তিনটি অক্ষর খোদাই করেন ।

থানচে মন্দিরে দু'টি শ্রেষ্ঠ জিনিস আছে । এ বড় পাত্র ছাড়া আরেকটি হচ্ছে সুপরিচিত পাথর মাছ । এ পাথর মাছের দৈর্ঘ্য ১.৭ মিটার, ওজন ১৫০ কিলো গ্রাম, এর রঙ কালচে সবুজ । গাইড মিস লি লু বলেছেন, স্থানীয় অধিবাসীদের বিশ্বাস, এ পাথর মাছ নানা ধরনের রোগের চিকিত্সা করতে সক্ষম । তিনি বলেছেন, রূপকথায় এ পাথর মাছ হচ্ছে দক্ষিণ সমুদ্রের ড্রাগন রাজপ্রাসাদের একটি শ্রেষ্ঠ জিনিস । ড্রাগন রাজা তা উপহার হিসেবে আকাশের দেবতা রাজাকে দেন। লোকজনের রোগ চিকিত্সা করার জন্য দেবতা রাজা পাথর মাছ থানচে মন্দিরকে দেন । তার সামর্থ্য রোগের চিকিত্সা করা এবং দুর্ঘটনা নির্মূল করা । তখনকার লোকেরা তার সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করতেন । মাথা ব্যথার সময় পাথর মাছের মাথা স্পর্শ করতেন পেট ব্যথার সময় তার পেট স্পর্শ করতেন । এভাবে নিজেদের রোগ চিকিত্সা করা যেতো ।

আসলে এ পাথর মাছ শিল্পীরা থানচে মন্দিরের পড়ে যাওয়া একটি অগ্ন্যুত্পাতের পাথর খোদাই করে তৈরী করা হয়েছে । পাথরের ভিতরে ধাতবসহ বিভিন্ন ধরনের লৌহ-জাত জিনিস রয়েছে । পাথর মাছের বিভিন্ন অংশে টোকা দিলে আপনারা নানা ধরনের শব্দ শুনতে পাবেন । তা বাদ্যযন্ত্রের মতোই খুবই সুন্দর । দীর্ঘকাল ধরে লোকজনের বিশ্বাস পাথর মাছের অনেক আশচর্য শক্তি রয়েছে ।

থাংচে মন্দিরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল মন্দিরের পুরনো গাছগুলো । চে হচ্ছে মন্দিরের শ্রেষ্ঠ গাছ । এর পাতা খেয়ে রেশমগুটি বাঁচতে পারে এবং কাঠ দিয়ে বিলাসবহুল আসবাবপত্র তৈরী করা যায় ।মন্দিরের পিছনে ড্রাগন হ্রদ অথবা লোংথান এবং পাহাড়ে চে গাছ থাকার জন্য মন্দিরের নাম হয়েছে থাংচে মন্দির । চে গাছ ছাড়া মন্দিরে আরেকটি দামী ও উপকারী গাছ ফার্ন গাছ রয়েছে । এ গাছের উচ্চতা ৪০মিটারেরও বেশি, ৭ বা ৮ জন লোক হাতে হাত মিলিয়ে গাছটি কোল করতে সক্ষম । গ্রীষ্মকালে এ গাছের পাতার ছায়ার আয়তন ৬০০ বর্গমিটার । শরত্কাল আসার সময় গাছের পাতাগুলো সোনালী রঙে পরিণত হয় , তা বাতাসের সঙ্গে মাটিতে পড়ে যায় ,দেখতে সোণালী প্রজাপতির পাখার মতোই ,খুবই সুন্দর ।

চমত্কার এই রাজা গাছ ছাড়াও , মন্দিরে আরো দু'টি বেগুনী ম্যাগ্নোলিয়া গাছ রয়েছে । যদিও পেইচিংয়ে বেগুনী ম্যাগ্নোলিয়া গাছ কম দেখা যায় না , তবুও মন্দিরের দু'টি বেগুনী ম্যাগ্নোলিয়া গাছ খুব উঁচু ও তার আয়ুষ্কাল অনেক দীর্ঘ । জানা গেছে, দু'টি গাছের আয়ুষ্কাল ৪০০ বছরেরও বেশি । ফুল ফোটার সময় অনেক দূর থেকে দেখলে খুব সুন্দর লাগে । প্রতি বছর ফুল ফাটার সময় হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে তা পরিদর্শন করেন । পেইচিংয়ের পর্যটক ম্যাডাম ওয়াং লিন বলেছেন, আমি ছাওইয়াং এলাকা থেকে এসেছি । শুনেছি ম্যাগ্নোলিয়া ফুল ফুটেছে, আমি তা দেখার জন্য এখানে এসেছি । তা খুবই সুন্দর, দেখার পর আমি অনেক খুশি হয়েছি ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×