somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘আমি’ দর্শন

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের সবারই যেন দুইটা ‘আমি’ আছে। একটা আমি (I), আরেকটা আমি (Me)। প্রথম ‘আমি’টার সাথে দ্বিতীয় ‘আমি’র সম্পর্ক সম্ভবত খুব একটা ভালো না। প্রায় খারাপই বলা যায়।

প্রথম ‘আমি’টা নিজেরে নিয়া সবসময় কনশাস থাকে। অন্তত থাকার ভান কইরা যায়। এই আমি (I) টা কনশাস হইলেও, সে সবসময় একটা হঠাৎ বন্ধি হইয়া পড়া প্রাণীর মতই কনফিউজড আর হতবিহ্বল অবস্থায় থাকে। আর এই আমিতেই ইগোর বসবাস।

অন্যদিকে দ্বিতীয় আমি (Me) টা প্রকৃতির সাথে জড়াইয়া এক হইয়া থাকে। তাঁর কোন চিন্তা ভাবনা নাই। সে প্রকৃতির সাথে সাথেই প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। তাঁর এই পরিবর্তন প্রথম ‘আমি’র চাওয়ার সাথে বেশীরভাগ সময়ই মিলে না।

প্রথম আমি (I) দ্বিতীয় ‘আমি’রে বশে আনতে চায় সবসময়। কিন্তু বেশীর ভাগ সময়ই তা হইয়া উঠে না। কারণ দ্বিতীয় আমি, প্রকৃতি আর এই মহাবিশ্বের স্বভাবই হইলো পরিবর্তনের উপরে থাকা। এরা যেন সেই সুন্দরী মাইয়ার মত, যারে কখনই ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, সবসময় থাকে নাগালের বাইরে, আর তাঁর এই অস্থিরতাই তাঁর সৌন্দর্যের মূল। এই অস্থিরতাই তাঁর চার্ম।

কেউ কেউ বলে, এই প্রথম আমি বাস করে মানুষের মাথায়, আর দ্বিতীয় আমিটা থাকে হৃদপিণ্ডে। তাই উৎসাহদাতারা মানুষরে উৎসাহ দেওয়ার সময় বইলা থাকে “ফলো ইউর হার্ট”। আর প্রত্যেকেই বিভিন্ন সময় নিজের কর্মকাণ্ডের জন্যে নিজেরে ভেতরে ভেতরে বকাজকা করে। এইটা একটা চলমান কনফ্লিক্ট। এই প্রথম আমি যখন দ্বিতীয় ‘আমি’র সাথে একটা কনস্ট্যান্ট কনফ্লিক্টে জড়াইয়া থাকে, তখন কোন আমিই ঠিক মত নিজেরে উপভোগ করতে পারে না। চলতে থাকে ‘আমি’র লগে ‘আমি’র যুদ্ধ।

এই দুই ‘আমি’র মধ্যে মূল পার্থক্য হইলো মেমরির ইল্যুশন। প্রথম ‘আমি’ মেমরি দিয়া নিজেরে এক জায়গায় স্থির কইরা রাখতে চায়। তাঁর কাছে পরিবর্তন একটা হতাশাজনক বিষয়। সে সবসময় নস্টালজিয়ায় ভোগে। আর চায় সবকিছু আগের মতই থাকুক। এই হতাশা কাটাইয়া উঠার একমাত্র উপায় হইলো পরিবর্তন মাইনা নেওয়া। এই মাইনা নেওয়ার মধ্য দিয়া দুই ‘আমি’ পুরোপুরি এক হইতে না পারলেও সেইখানে আর কনফ্লিক্ট থাকে না, থাকে প্যারাডক্স। আর জীবনের গোপন সত্যিটা হইলো — জীবন একটা প্যারাডক্স।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:১৩
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।

ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×