(আগের পর্বের পর)
আইডিয়া তৈরীর প্রথাগত পদ্ধতি
---------------------------
সৃজনশীলতা যে কিছু মানুষের কুক্ষিগত সম্পদ নয় বরং যে কেউ চর্চার করে সেটা আয়ত্ত্ব করতে পারে সেটা আবিষ্কার হয়েছে বেশ অনেকদিন হল। মার্টিন লেইথ নামে এক ভদ্রলোক চমৎকার একটি গবেষনা করেছেন এ বিষয়ে। তার মতে পৃথিবীকে তিনভাবে দেখা যায়: ১। মেশিন হিসেবে: যখন চিন্তা করা হয় অনেক বেশী আইডিয়া তৈরী করতে পারলে তার মধ্যে একটা ভাল আইডিয়া বের হবেই; ২। সিস্টেম হিসেবে: যখন চিন্তা করা হয় ছোট ছোট উন্নতি বড় উন্নতিকে সামগ্রিকভাবে সাহায্য করে; ৩। শক্তি এবং সত্ত্বার একটি ক্ষেত্র: যখন চিন্তা করা হয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সঠিক দিকে আগাতে হয়। এখানে পাওয়া পুরো লেখাটা তার নিজের যোগ্যতার পড়বার দাবী রাখে। এছাড়াও উইকিপিডিয়ার এই লেখাটিও এবিষয়ে ভাল একটি লেখা।
আমি সৃষ্টিশীলতার অন্যান্য অনেক দিক নিয়ে আলোচনা না করে বরং আইডিয়া তৈরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো সাধারন ভাবে আপনাদের লেখালেখি থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজে আসবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ বড় কোন কাজে কোন পদ্ধতি বেছে নেবার আগে আরেকটু গভীরে পড়াশোনা করতে। এজন্য উপরের লিংকদুটো ব্যবহার করুন - আর গুগলতো রয়েছেই।
ব্রেইনস্টর্মিং
----------
এটা বোধহয় আইডিয়া তৈরীর সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রচুর ভাল এবং খারাপ সমাধান আসে সমস্যার জন্য। কখনও সেটা গ্রহনযোগ্য হয় কখনও হয়না। কিন্তু একদল লোক একসাথে বসে দ্রুত বেশ অনেকগুলো আইডিয়া তৈরী করতে পারেন বলে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই পদ্ধতি। এই পদ্ধতির কিছু বেসিক নিয়ম আছে:
১। সংখ্যাধিক্যে জোর দাও: ধরে নেয়া হয় প্রচুর আইডিয়া তৈরী করা হলে একটা না একটা ভাল আইডিয়া বের হবেই। তাই ভালো হোক খারাপ হোক প্রচুর আইডিয়া তৈরী করতে হবে।
২। কোন ক্রিটিসিজম চলবে না: প্রথম নিয়মকে গ্রহনযোগ্য করতে এই নিয়ম পালন করা দরকার।
৩। উদ্ভট আইডিয়া সুস্বাগতম
৪। ছোট আইডিয়া জোড়া লাগিয়ে ভাল আইডিয়া তৈরী করা যাবে
এ পদ্ধতিতে এক সাথে বেশ কয়েকজন বসেন। প্রথমে নেতা জাতীয় কেউ সমস্যাটা বলেন। সমস্যাটা বুঝার জন্য কেউ প্রশ্ন করলে তার আলোচনা করা হয়। তারপর কেউ কারো সাথে কথা না বলে একটা কাগজে নিজ নিজ সমাধানগুলো লিখে ফেলেন। তারপর একে একে সেই সমাধানগুলো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য ব্রেইনস্টর্মিংয়ের বিভিন্ন ধরনের ভার্সন আছে। যেমন প্রোডাক্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে ৬-৩-১ নামের একটা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেখানে ছয়জন লোক তিনটি করে আইডিয়া লিখে তার পাশের জনকে একবারের জন্য পড়তে দেন। তারপর সেটা রিভিউ করা হয়। কোলাবোরেটিভ স্কেচ নামে এক পদ্ধতিতে একেকজন একেকটি প্রোডাক্ট আইডিয়া স্কেচের মাধ্যমে প্রকাশ করে পাশের জনকে দেন, তিনি তা ইমপ্রুভ করে তার পাশের জনকে দেন এইভাবে অনেকগুলো আইডিয়ার একটা ইমপ্রুভড ভার্সন পাওয়া যায়।
এভাবে ব্রেইন স্টর্মিং দিয়ে তৈরী করতে পারেন আপনার পরবর্তী লেখার আউটলাইন, কিংবা পরবর্তী নাটকের স্ক্রীপ্ট।
মাইন্ড ম্যাপিং
-------------------
মাইন্ড ম্যাপ হচ্ছে কথা, আইডিয়া এসব ছবির মাধ্যমে একটি কেন্দ্রের চারিদিকে ছড়িয়ে প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি। এটা ব্যবহার করে আইডিয়া তৈরী, দৃষ্টিনন্দনভাবে দেখতে, সমস্যাকে ভেঙ্গে টুকরো করতে এবং সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। ছবিতে দেখানো পদ্ধতিতে প্রথমে মূল সমস্যাটা লিখুন তারপর তার উপ সমস্যাগুলোকে চারপাশে জুড়ে দিন। এভাবে আস্তে আস্তে ভাঙ্গতে থাকুন যতক্ষন সমাধান না পাওয়া যায়।
মজার ব্যাপার হচ্ছে মাইন্ড ম্যাপ তৈরী করার জন্য এখন ফ্রী সফটওয়্যার পাওয়া যায়। আমার সবচেয়ে পছন্দের হচ্ছে ফ্রি-মাইন্ড নামের একটি সফটওয়্যার।
মাইন্ডম্যাপ এমনকি আপনার নিত্যদিনের চিন্তা ভাবনাকেও অনেক সহজ করতে পারে। যেমন আপনার বাজারের লিস্টিও তৈরী করতে পারেন মাইন্ড ম্যাপ ব্যবহার করে। মূল উদ্দেশ্য বাজার, তার চারপাশে মাংসের দোকান, সবজীর দোকান, মুদি দোকান। তারপর মাংসের দোকানের চারপাশে গরুর গোশ, মুরগী ইত্যাদি। সবজীর দোকানের চারপাশে বাঁধাকপি, আলু ইত্যাদি। এভাবে কাজগুলোকে সহজে সাজিয়ে ফেলা যায়। মাইন্ড ম্যাপিং তাই নোট বুক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
শেষ কথা
---------
এখানে উল্লেখিত দুটি পদ্ধতি ছাড়াও আরো অনেক পদ্ধতি আছে আইডিয়া তৈরীর এবং সৃষ্টিশীল হবার। বেশীরভাগ পদ্ধতি বিশেষ কিছু কাজের জন্য কাস্টোমাইজ করা বলে অনেক সময় অন্যান্যদের জন্য বুঝতে সমস্যা হতে পারে। আমার লেখার পাঠক গোষ্ঠী মূলত: ব্লগাররা বলে আমি অন্যান্য বিষয় আর টানলামনা এখানে। আশা করব এখান থেকে আপনার সৃষ্টিশীল পদ্ধতি খোঁজার যাত্রা শুরু হবে আর নিজের প্রয়োজনে সঠিক পদ্ধতি খুঁজে বার করে ব্যাবহার করতে পারবেন। সৃষ্টিশীল হবার এ পদযাত্রায় আপনাকে আমার সালাম।
আলোচিত ব্লগ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে মুক্ত হলো স্বদেশ?
কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত তারা?
কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাস্তার ডাক ও স্মৃতির চাকা: দু-চাকার ঈদযাত্রা যখন আবেগের নাম
প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাছে এলেই শহরের চেনা রাজপথগুলো এক অন্যরকম রূপ নেয়। চারদিকে এক অস্থির অথচ আনন্দময় ব্যস্ততা। আজ সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েই চোখে পড়ল সেই চিরচেনা দৃশ্য—সারি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।