somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশন করছে

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তিনদিন ধরে অনশন করছে জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি যৌন নিপীড়ক শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু অনশনের দিকে আপাতত প্রশাসনের নজর নেই। শাস্তির প্রসঙ্গ তাদের আমলে আসছে না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের মরণপন দাবিতে অটল। দিন দুয়েক আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একটা প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছিলেন। প্রেস রিলিজটি এখানে তুলে দিলাম।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
শুভেচ্ছা নিবেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে নিপীড়ক গোলাম মোস্তফার বরখাস্তের দাবিতে দীর্ঘ এতোদিন পরেও আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা জানেন গত 26 ডিসেম্বর'06 এর অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট ছাত্রদের ঘেরাওয়ের মুখে প্রশাসন বলেছিলেন অতিদ্রুত এই সংক্রান্ত বিচারের কাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু বরাবরের মতোই প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনের অজুহাতে এই সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। নিপীড়ক গোলাম মোস্তফা প্রশাসনিক আইনের সুযোগ নিয়ে তার জবাব দিতে বিলম্ব করে। প্রশাসনও এই বিষয়ে নির্বিকার থাকে। যা গোলাম মোস্তফাকে প্রশ্রয় দেবার নামান্তর। এই সময়ে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের সাথে কথা বলতে গেলেও বারে বারেই তিনি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তার প্রতিনিধিরা এবং তিনি নিজেও জানিয়েছেন 'তদন্ত কমিটির প্রধান হয়ে তিনি আমাদেও সাথে কথা বলাটা সঠিক হয় না। এই ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। আপনারা জানেন বাংলা বিভাগ গত প্রায় আড়াই মাস ধরে অচল হয়ে আছে। এই বিষয়ে কি করে একজন উপাচার্য নিশ্চুপ থাকতে পারেন? গোলাম মোস্তফা সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রধান-ই কি তার এরকমাত্র পরিচয়। প্রশাসনপন্থী শিক এবং নানা মহল থেকে কাস চালুর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। আমরা মনে করি এটা অবিবেচনাপ্রসূত। বাংলা বিভাগের নির্যাতিত শিার্থীরা গোলাম মোস্তফার বরখাস্ত ছাড়া কি নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারে? প্রতি মুহূর্তে হুমকি মোকাবেরা করে কাস পরীা চালু রাখা তাদের প েকি সম্ভব? এই সময়ে কাস চালু হলে কি তারা মানসিক স্বস্তির মধ্যে থাকতে পারবেন? তাছাড়া আন্দোলন বাদ দিয়ে কাস করতে থাকলে কি প্রশাসন তার বিচার কাজ সত্যি সত্যিই সম্পন্ন করবেন? এই আস্থা অর্জনে প্রশাসন কি ব্যর্থ হয় নি? যে প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সাথে দেখাই করে না তার উপর আস্থা রাখা কি সম্ভব?
বন্ধুরা,
গোলাম মোস্তফার ছলনার অন্ত নেই। যে এখন তার পরে একজন উকিল নিয়োগ করেছে তদন্ত কমিটিতে। সেই উকিল প্রশ্ন করার নামে হয়রানি করছে অভিযোগকারীদের। সেই উকিল বিশ্ববিদ্যালয়কেও তার আদালত ভেবেছেন। ফলে যা ইচ্ছে তাই প্রশ্ন কওে অভিযোগকারীদের নাজেহাল করার চেষ্টা করছেন। আর প্রশাসনও তা মুখ বুজে সহ্য করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই উক্ত উকিলের এ ধরনের কাজ বন্ধ রাখতে পারেন। কিন্তু তা না করে ওই উকিলের জঘন্য আচরণকে প্রশ্রয় দেবার উদ্দেশ্য কি? এখানে উল্লেখ্য যে, গত 30.01.07 তারিখে তদন্ত কমিটির কাজ বিকেল তিনটায় শুরু হবার কথা থাকলেও তা শুরু হয়েছে পৌনে 6টায়। এর কারণ কি? তদন্ত কাজে প্রশাসন কোন রকম ঘাটতি রাখতে চান না। আর তার দায় হিসেবে মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে অভিযোগকারী আর আন্দোলনকারীদের। কিন্তু এভাবে আর চলতে পারে না।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
গোলাম মোস্তফা আজো হুমকি-ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চলছে অভিযোগকারীদের প্রতি। কিন্তু সকল হুমকি উপো করে অভিযোগকারীরা তাদের অবস্থানে দৃঢ় আছেন। কিন্তু পরিবার-সমাজের চাপ আর কতোদিন তাদের মোকাবেলা করতে হবে? দিনের পর দিন নির্যাতনের যন্ত্রণা বয়ে চলা, একের পর এক সেই নির্যাতন প্রমাণে সাাৎকার দেয়া, মোস্তফার হুমকির মুখে পড়া আর কতোদিন? ফলে আমরা এধরনের প্রশাসনিক নির্লিপ্ততার প্রতি অসহযোগ প্রদর্শন করছি। আজ থেকে যতোদিন নান গোলাম মোস্তফা বরখাস্ত হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো দিবস ঘোষণা করছি। এবং গোলাম মোস্তফাকে চিরতরে বরখাস্তের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছি আগামি 5 ফেব্রুয়ারি থেকে। জরুরি মতা আইন 2007 এর 3(3) অনুযায়ী মানবাধিকার সংক্রান্ত বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বৈধতা রয়েছে। ফলে পরবর্তীতে মিছিল কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
আপনারা আমাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি আমাদেও পরবর্তী কর্মসূচিতেও আপনারা সহযোগীতা করবেন।
পক্ষে,
নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাভার, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুপান্তর

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭


কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×