তিনদিন ধরে অনশন করছে জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি যৌন নিপীড়ক শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু অনশনের দিকে আপাতত প্রশাসনের নজর নেই। শাস্তির প্রসঙ্গ তাদের আমলে আসছে না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের মরণপন দাবিতে অটল। দিন দুয়েক আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একটা প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছিলেন। প্রেস রিলিজটি এখানে তুলে দিলাম।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
শুভেচ্ছা নিবেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে নিপীড়ক গোলাম মোস্তফার বরখাস্তের দাবিতে দীর্ঘ এতোদিন পরেও আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা জানেন গত 26 ডিসেম্বর'06 এর অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট ছাত্রদের ঘেরাওয়ের মুখে প্রশাসন বলেছিলেন অতিদ্রুত এই সংক্রান্ত বিচারের কাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু বরাবরের মতোই প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনের অজুহাতে এই সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। নিপীড়ক গোলাম মোস্তফা প্রশাসনিক আইনের সুযোগ নিয়ে তার জবাব দিতে বিলম্ব করে। প্রশাসনও এই বিষয়ে নির্বিকার থাকে। যা গোলাম মোস্তফাকে প্রশ্রয় দেবার নামান্তর। এই সময়ে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের সাথে কথা বলতে গেলেও বারে বারেই তিনি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তার প্রতিনিধিরা এবং তিনি নিজেও জানিয়েছেন 'তদন্ত কমিটির প্রধান হয়ে তিনি আমাদেও সাথে কথা বলাটা সঠিক হয় না। এই ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। আপনারা জানেন বাংলা বিভাগ গত প্রায় আড়াই মাস ধরে অচল হয়ে আছে। এই বিষয়ে কি করে একজন উপাচার্য নিশ্চুপ থাকতে পারেন? গোলাম মোস্তফা সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রধান-ই কি তার এরকমাত্র পরিচয়। প্রশাসনপন্থী শিক এবং নানা মহল থেকে কাস চালুর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। আমরা মনে করি এটা অবিবেচনাপ্রসূত। বাংলা বিভাগের নির্যাতিত শিার্থীরা গোলাম মোস্তফার বরখাস্ত ছাড়া কি নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারে? প্রতি মুহূর্তে হুমকি মোকাবেরা করে কাস পরীা চালু রাখা তাদের প েকি সম্ভব? এই সময়ে কাস চালু হলে কি তারা মানসিক স্বস্তির মধ্যে থাকতে পারবেন? তাছাড়া আন্দোলন বাদ দিয়ে কাস করতে থাকলে কি প্রশাসন তার বিচার কাজ সত্যি সত্যিই সম্পন্ন করবেন? এই আস্থা অর্জনে প্রশাসন কি ব্যর্থ হয় নি? যে প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সাথে দেখাই করে না তার উপর আস্থা রাখা কি সম্ভব?
বন্ধুরা,
গোলাম মোস্তফার ছলনার অন্ত নেই। যে এখন তার পরে একজন উকিল নিয়োগ করেছে তদন্ত কমিটিতে। সেই উকিল প্রশ্ন করার নামে হয়রানি করছে অভিযোগকারীদের। সেই উকিল বিশ্ববিদ্যালয়কেও তার আদালত ভেবেছেন। ফলে যা ইচ্ছে তাই প্রশ্ন কওে অভিযোগকারীদের নাজেহাল করার চেষ্টা করছেন। আর প্রশাসনও তা মুখ বুজে সহ্য করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই উক্ত উকিলের এ ধরনের কাজ বন্ধ রাখতে পারেন। কিন্তু তা না করে ওই উকিলের জঘন্য আচরণকে প্রশ্রয় দেবার উদ্দেশ্য কি? এখানে উল্লেখ্য যে, গত 30.01.07 তারিখে তদন্ত কমিটির কাজ বিকেল তিনটায় শুরু হবার কথা থাকলেও তা শুরু হয়েছে পৌনে 6টায়। এর কারণ কি? তদন্ত কাজে প্রশাসন কোন রকম ঘাটতি রাখতে চান না। আর তার দায় হিসেবে মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে অভিযোগকারী আর আন্দোলনকারীদের। কিন্তু এভাবে আর চলতে পারে না।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
গোলাম মোস্তফা আজো হুমকি-ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চলছে অভিযোগকারীদের প্রতি। কিন্তু সকল হুমকি উপো করে অভিযোগকারীরা তাদের অবস্থানে দৃঢ় আছেন। কিন্তু পরিবার-সমাজের চাপ আর কতোদিন তাদের মোকাবেলা করতে হবে? দিনের পর দিন নির্যাতনের যন্ত্রণা বয়ে চলা, একের পর এক সেই নির্যাতন প্রমাণে সাাৎকার দেয়া, মোস্তফার হুমকির মুখে পড়া আর কতোদিন? ফলে আমরা এধরনের প্রশাসনিক নির্লিপ্ততার প্রতি অসহযোগ প্রদর্শন করছি। আজ থেকে যতোদিন নান গোলাম মোস্তফা বরখাস্ত হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো দিবস ঘোষণা করছি। এবং গোলাম মোস্তফাকে চিরতরে বরখাস্তের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছি আগামি 5 ফেব্রুয়ারি থেকে। জরুরি মতা আইন 2007 এর 3(3) অনুযায়ী মানবাধিকার সংক্রান্ত বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বৈধতা রয়েছে। ফলে পরবর্তীতে মিছিল কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
আপনারা আমাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি আমাদেও পরবর্তী কর্মসূচিতেও আপনারা সহযোগীতা করবেন।
পক্ষে,
নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাভার, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



