আজ একুশে নভেম্বর। সশস্ত্র বাহিনী দিবস। দিন টা অন্য সবার কাছে ক্যালেন্ডারের বাকী দিন গুলোর মতো সাধারন হলেও একজন সাবেক বিমান সেনার সন্তান হিসেবে আমার কাছে অনেক গর্বের।
সেই ছোট বেলা থেকেই এয়ার ফোর্সের আকাশি শার্ট আর নেভি ব্লু প্যান্টের ইউনিফর্মের সাথে আমার খাতির। আব্বু প্রতিদিন সকালে ইউনিফর্ম গায়ে আর ক্যাপ মাথায় অফিস যেত আর দুপুর হতে হতে ফিরে আসত। তাছাড়া যেসব জায়গাতে বেড়ে উঠেছি তার সবখানেই বিমান সেনা দের বসবাস। দুই বছর কুর্মিটোলা বেইজে (বর্তমান নাম বঙ্গবন্ধু) থাকার সৌভাগ্যও হয়েছে।
দেখতে দেখতে বড় হয়ে উঠলাম। ইউনিফর্মের সাথে ছোট বেলার সেই খাতির এক সময় মোহ তে রুপ নিল। আকাশি ইউনিফর্ম ভেদ করে মোহ গিয়ে পৌঁছল ইউনিফর্মের কাঁধে লাগানো সাদা-কালো রং এর অফিসার Rank ব্যাজের প্রতি, বুকে লাগানো 'উইং' এর প্রতি।
আমার মতো গাধা টাইপের স্টুডেন্টের ক্ষেত্র অফিসার Rank ব্যাজের স্বপ্ন দেখাটা কল্পনায় আকাশে বাড়ি বানানোর মতো ব্যাপার। অবশ্য কল্পনাতেই যখন বাড়ি বানাব তখন রড সিমেন্ট দিতে কিপ্টামি করব কেনো!
মিলিটারির অফিসার বললেই জাঁদরেল ধরনের মানুষের ছবি ভেসে উঠে যার কপাল রাগে সবসময় কুঁচকে থাকে। বাস্তবে এরকম অফিসারের অভাব না থাকলেও কিছু উল্ট স্রোতের ভালো মনের অফিসারও আছে। আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আমার দেখা সেরকমই এক ভালো অফিসারের ঘটনা বলব-
প্রায় তিন-চার বছর আগের কথা। আমি আর আমার ছোট ভাই প্রতি দিনের মতো রিকশায় করে স্কুলে গেছি। আগেই বলে নেই যে আমার স্কুল (বি এ এফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা) এয়ার ফোর্সের বেইজের ভিতরেই। রিকশা থেকে নেমে একটা ছোট্ট রাস্তা পার হতে হয়। আগে অল্প কিছু গাড়ি চলত। হুট করে রাস্তা পার হতে গিয়ে ছোট ভাই ধাক্কা খেল এয়ার ফোর্সের এক প্রাইভেট কারের সাথে। আর কারের ভিতরে ছিল এক অফিসার।
ধাক্কা খেয়ে ছোট ভাই মাটিতে পড়ে গেল। আমি ছুটে গিয়ে তাড়াতাড়ি টেনে তুললাম। পিচ্চির তেমন কিছুই হয় নি। তবে কিছু হওয়ার যে ভয় ছিল তার চেয়েও বেশি ভয় ছিল গাড়ির ভিতরে বসে থাকা অফিসার কে নিয়ে। ধমক তো দিবে এটা জানাই ছিল তাছাড়া চড় থাপ্পড়ের ভয়ও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
কিন্তু আমাদের সব ভয় কে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে অফিসার (Rank খুব জোর স্কোয়াড্রোন লীডার আথবা উইং কমান্ডার) সাহেব ব্যাস্ত ভঙ্গিতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ছোট ভাইয়ের হাত পা ঝেড়ে দিতে দিতে বললেন
"কোথাও লাগেনি তো? লাগলে গাড়িতে উঠ, মেডিক্যালে নিয়ে যাই।"
আমার ছোট ভাই ততক্ষনে মানসিক ধাকা সামলে উঠেছে
"না আংকেল। আমি ঠিক আছি।"
"ভয় পেয় না। কোথাও ব্যাথা পেলে বল।"
"না আংকেল সমস্যা নাই।"
এবার উপদেশের স্বরে বললেন
"আচ্ছা ঠিক আছে, এরপর থেকে সাবধানে রাস্তা পার হবে।"
"জ্বি আংকেল।"
অফিসার সাহেব গাড়িতে করে চলে গেলেন। উনার নাম মনে নেই। শুধু মনে আছে পেট টা অর্ধ চন্দ্রাকার।
এক আর্মি অফিসারের নির্মমতার ঘটনা আমার জানা আছে। সেটা আজকের দিনে আর বলতে চাচ্ছি না।
সশস্ত্র বাহিনীর যে সকল সদস্যরা আকাশ, স্থল আর সমুদ্র সীমা পাহাড়া দিয়ে সদা সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করছে তাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনা বাহিনীর সিপাহী থেকে জেনারেল, বিমান বাহিনীর এয়ার ক্রাফট ম্যান থেকে এয়ার মার্শাল আর নৌ বাহিনীর সী ম্যান থেকে ভাইস অ্যাডমিরাল কে জানাই মিলিটারি স্টাইলে স্যালুট।
#সমরে_আমরা_শান্তিতে_আমরা_সর্বত্র_আমরা_দেশের_তরে
#বাংলার_আকাশ_রাখিব_মুক্ত
#শান্তিতে_সংগ্রামে_সমুদ্রে_দূর্জয়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



