somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোন করলে পাশের গ্রাম থেকে হয়তো কেউ আসতে পারে আমাদেরকে সাহায্য করতে।

০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকট শব্দ। গুমগুম আওয়াজ। কানে তালা লেগে গেছে। সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। পোড়া গন্ধ। মাংস পুড়ছে, কাঠ জ্বলছে, দালানকোঠা অগ্নিদগ্ধ হয়ে বীভৎসভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমি যেখানটায়, শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া। হ্যাঁ, কেউ একজন কাতরাচ্ছেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় আমার চোখ জ্বলছে, পানি গড়াচ্ছে। আমি ভালো করে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। পরিবেশটা বুঝা দরকার। এখনো কি ওরা আশপাশে আছে? সম্ভবত নেই। এখানে ওদের অপারেশন কমপ্লিট হয়েছে। ধ্বংস করার মতো আর কিছু নেই এখানে।

একটু আগে ঐখানটায় দুটি শিশু ছোঁয়াছুঁয়ি খেলছিল, হ্যাঁ, ঐখানে একজন বৃদ্ধা সুতা বুনছিলেন। কুয়ার ধারে কয়েকটি মেয়ে কলস নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল; খোশগপ্প করছিল বোধয়। কুঁকড়ো চুলের বেঁটেমতো ছেলেটা আজ পত্রিকা দিতে এসেছিল একটু দেরিতে। রোজ যেখানে সাইকেল রাখে আজ ওখানেই রেখেছে। আজ মাস শেষ, পত্রিকার বিল তুলছিল ও। ছেলেটির ছোট একটি ভাই আছে, খুব দুষ্টু। আর হ্যাঁ, উঠানের পশ্চিম পাশের ঐ ঘরটাতে আজ সম্বন্ধ আসার কথা, এসেছে কিনা জানি না। আমাকে ওদের কেউ ডাকতে আসে নি। আমি আবার সবার বিপদেআপদে পাশে থাকি।

ইন্না লিল্লাহ, কী যা-তা ভাবছি! এখন আমার উঠতে হবে। কার কী অবস্থা খোঁজ নিতে হবে। নিশ্চয়ই সবাই মরে যায় নি! এদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমরা আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। আমার দুইহাত বামের ঐ ভাইটি একটু আগে কাতরাচ্ছিলেন, এখন নিথর। যা করার তারাতারি করতে হবে। কিন্তু আমি উঠতে পারছি না কেনো? ইয়া আল্লাহ! আমার দু'নো পা নেই! রক্ত গড়াচ্ছে। জমাট বেঁধে গেছে। ছোপ-ছোপ রক্তে চারিদিক কালচে-লাল হয়ে আছে! আমার ডান হাত কাঁধের সঙ্গে ঝুলে আছে। শুধু চামড়া একটু বাকি আছে। আমি নিরুপায়। আমি অপারগ। হে আমার গোত্রের ভাইয়েরা, আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারছি না। আমি নিজেই অচল হয়ে গেছি। হে আল্লাহ, আমায় শক্তি দাও। আমায় সাহস দাও।

পকেটে মুঠোফোন আছে। ফোন করলে পাশের গ্রাম থেকে হয়তো কেউ আসতে পারে আমাদেরকে সাহায্য করতে। আমি গাড়ির শব্দ শুনতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, গাড়ির শব্দ। কেউ হয়তো ধুঁয়ার কুণ্ডলি দেখতে পেয়েছে। আমাদেরকে সাহায্য করতে আসছে। আমার ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হল। মিলিটারিদের ট্রাক উঠানের মাঝখান দিয়ে শেষপ্রান্তে গিয়ে থামল। মাটিতে পড়ে থাকা দেহগুলো চাকায় পিষ্ট হল। ছড়াৎ করে এক পশলা রক্ত আমার উদাম বুকে এসে পড়ল। গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। নড়াচড়া করতে থাকা কয়েকটি মানুষ নিঃস্প্রাণ হল। এরা সম্ভবত আগের টিমের ব্যাকআপ ছিল। পিছনের কাফেলা। কিছু ফেলে গেল কিনা দেখতে দেখতে এগিয়ে যাওয়া এবং অপারেশনে হ্যাপি এন্ডিং টানা এদের কাজ। একটি বুলেট আমার কপাল ভেদ করল। আমি মারা যাচ্ছি। সবকিছু অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। আমি স্বর্গীয় স্বাদ পাচ্ছি। ওফ! কী মজা! বর্ণনা করে বুঝাতে পারবো না। আমি সফল। আমি সার্থক। আমি জান্নাত দেখতে পাচ্ছি...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×