somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রজ্জলিত মেশকাত
ব্যক্তিজীবনে অহিংসায় বিশ্বাস করি। বুদ্ধের দর্শন গভীরভাবে ভাবায় আমায়। “আসক্তিই সকল দুঃখের কারণ, অধিকারবোধ থেকেই দুঃখের সৃষ্টি।” এই দুটো বাক্যের উপর অগাধ বিশ্বাস। কারো চিন্তা-চেতনাকেই ছোট করে দেখিনা। আমি বিশ্বাস করি যে মতবাদই হোক, তার গভীরে না ঢ

মার্ক্স এবং ফ্রয়েডের থিউরিঃ বাস্তবতা এবং প্রাসঙ্গিকতা।।

২৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক সময় অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত দূর্বলতা, সময়ের সুবিন্যাসের অভাব আর সামাজিক-রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর জন্য লেখা হয়ে উঠেনা। কবিতা লিখতে পারিনা। কারণ ছন্দের অন্তঃমিল খুঁজে পাইনা। কিছু বিশ্লেষণমূলক লেখা আর ছোটগল্পই আমার সম্বল।

আজ আমার বিশ্বাসবোধ থেকে দুইটা বিষয়ের অবতারণা করতে চাই। অনেকেই দুটো বিষয়কেই বালখিল্যতা মনে করেন। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। কিন্তু এগুলোই বাস্তবতা। Exception may not be an example- কথাটি কে বলেছিলেন এই মুহূর্তে মনে নেই। অবশ্য গুগলে দেখলেই পাওয়া যাবে। প্রকৃতপক্ষেই ব্যতিক্রম কোন উদাহরণ হতে পারেনা। যেমনটি দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথমেই আসবে কার্ল মার্ক্সের কথা। তিনি সবসময় বলেছিলেন সবকিছুই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। সেটা অর্থ, পুঁজি, মূলধন, বিত্ত যে নামেই অভিহিত করিনা কেন। সবকিছুর পেছনেই এই বিষয়টা জড়িত। সব সংগ্রামের মূল হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রাম। সবকিছু একে কেন্দ্র করেই ঘুরছে। আমরা যদি Altruism বা নিঃস্বার্থ দানের কথা চিন্তা করি তাহলে মার্ক্সের নীতি মার খায়। যদি আব্রাহাম মাসলোর হিয়ারার্কি অফ নিডস এর কথা মনে করি তাহলে প্রথমেই আসে জৈবিক সকল চাহিদার ফুলফিলমেন্ট। তারপর সেফটি নিড, এসটিম নিড, সামাজিক স্বীকৃতি... সবশেষে আসে সেলফ একচুয়ালাইযেশন বা আত্ম-পরিপূর্ণতা। এই আত্ম-পরিপূর্ণতা বা সেলফ একচুয়ালাইযেশন এর জন্যসর্বপ্রথম যে শর্তটি পূরণ করতে হবে তার জন্য প্রয়োজন অর্থ বা পূঁজি। তাই আমরা এক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি অর্থ বা পূঁজিই হচ্ছে সবকিছুর জ্বালানি।

এবার আসি সিগমন্ড ফ্রয়েডের কথায়। ফ্রয়েডের অনেক কথাকে অনেকেই অবান্তর মনে করে থাকেন। সিগমন্ড ফ্রয়েড সাইকোএনালাইসিসের জনক। সর্বোপরি তিনি সাইকোলজির একজন পাইয়োনিয়ার। তাঁর হাত ধরেই সাইকোলজির আজকের এই অবস্থান। ফ্রয়েডের মতে, মানুষ দুইটা মৌলিক ড্রাইভ দ্বারা পরিচালিত হয়। একটা হচ্ছে এরোজ, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় জৈবিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের তীব্র বাসনা। আরেকটি হচ্ছে থানাটোজ, যার অর্থ দাঁড়ায় মৃত্যু বা ধ্বংসের বাসনা।

এরোজের জন্য মানুষ সবকিছু অর্জনের চেষ্টা করে। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি। শিশুরা এরোজ পূরণ করে মায়ের নিপুল সাক করে দুগ্ধ পানের মাধ্যমে। পরবর্তি সময়ে এরোজ পূরণের জন্য অর্থ উপার্জন, ক্যারিয়ার, ভাল গার্লফ্রেন্ড, ভাল জীবনসংগী খুঁজে। সামাজিক কারণে এরোজের সাইকো-সেকচুয়াল দিকটি অনেকটা চেপে রাখে মানুষ। আর এজন্যই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। এটাকে বলে সাবলিমেটেড বা অবচেতনে লুকিয়ে রাখা ড্রাইভ। এরোজের আরেকটা নাম আছে- দ্য ড্রাইভ ফর প্লিজার। এরোজের জন্যই মানুষের মধ্যে পাশবিকতার জন্ম নেয়। সামাজিক বন্ধন, রীতিনীতি, আইন-আদালত, নৈতিকতা পাশবিকতাকে দমন করে রাখে।

এবার আসি থানাটোজের বিষয়টিতে। প্রত্যেক মানুষ তার মনের মধ্যে, অবচেতন মনে মৃত্যুর চিন্তা ধারণ করে। মানুষের ধ্বংসাত্মক আচরণ এই থানাটোজ ড্রাইভ থেকেই সৃষ্টি। হতাশা হচ্ছে থানাটোজের আরেকটি রুপ। ফ্রয়েডের ফ্রাষ্ট্রেশন-এগ্রেশন হাইপোথেসিস রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে হতাশা থেকেই সকল আগ্রাসন আর ধ্বংসাত্মক আচরণের সৃষ্টি। সব ধরণের ভয়ও হচ্ছে এই মৃত্যু ভয় বা থানাটোজের ছ্বদ্মাবরণ। মানুষ সব ধ্বংসের দিকে ছুটে যায় এই থানাটোজের কারণে।

সবশেষে আমি আমার মন্তব্য দিয়ে শেষ করতে চাই। যে যাই বলুকনা কেন,মার্ক্স এবং ফ্রয়েড দুইজনই মানুষের মানবিক এবং অমানবিক দিকসমূহ, চাওয়া-পাওয়া এবং সামাজিক, রাজনৈতিক আর রাষ্ট্রীয় জীবনের গূরুত্বপূর্ণ দিকসমূহের মৌলিক ভিত্তির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভিত্তির উপর আলোকপাত করেছেন। মার্ক্সের পূঁজির থিউরিই আমার জীবনের বাস্তবতা। ফ্রয়েডের থানাটোজ থিউরিটাও রয়েছে। এর জন্যই আপাতঃদৃষ্টিতে সব সুবৃত্তি থেকে পিছিয়ে পড়ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:১৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×