somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে ‘নারী’ বুঝি ‘বীরাঙ্গনা’ ছাড়া আর কেউ নন

২১ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবির সংখ্যা হাতেগোনা। আবার মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে রয়েছে নানান মাত্রায় আলোচনা-সমালোচনা। যার অন্যতম একটি হলো- মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধে নারী যেন বীরাঙ্গনা ছাড়া আর কোনও চরিত্র নেই। সে যেন অস্ত্র হাতে নেয়নি, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেনি। এসব বিতর্ক বহুদিন ধরেই চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর ছবিগুলোর অধিকাংশের মধ্যে তাকালে দেখা যায় ‘হাঙর নদীর গ্রেনেড’ এবং ‘গেরিলা’ ছাড়া নারীকে যোদ্ধা চরিত্রে দেখা যায় না। যদিও `হাঙর নদীর গ্রেনেডে'র প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। এতসব বাহাসের মধ্যেই মুক্তি পেল ফাখরুল আরেফিন খানের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র ‘ভুবন মাঝি’।
প্রশ্নটা হলো- কেমন হলো ‘ভুবন মাঝি’?
উত্তর দেওয়ার আগে বলে নিতে হয়, ‘ভুবন মাঝি’ বর্তমান ছবিগুলোর মধ্যে আলোচনায় আসতে পেরেছে। কেন আসতে পেরেছে- এর উত্তরে অনেকেই একবাক্যে বলবেন, ওপার বাংলার অভিনয়শিল্পী পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বলে। সে যে কারণেই হোক- এবারও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো হলে ফিরেছেন ‘ভুবন মাঝি’ দেখবেন বলে। প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করেছে সেটার চেয়ে বড় বিষয় হলো- মানুষ হলমুখো তো হলো!
২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘অনিল বাগচীর একদিন’ দর্শককে হলে ফেরাতে পারেনি। যদিও ‘ভুবন মাঝি’র চেয়ে ‘অনিল বাগচীর একদিন’র গল্প বলার ধরন, নির্মাণশৈলী, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট সব দিক বিবেচনায় এগিয়ে ছিল। কিন্তু অজানা কারণে হলগুলোর সিট খালি রেখেই ‘অনিল বাগচীর একদিন’ সুনাম কুড়িয়েছিল শুধুমাত্র চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের কাছে। সে বিবেচনায় ‘ভুবন মাঝি’ অবশ্যই ব্যতিক্রম।


ফাখরুল আরেফিন খানের ‘ভুবন মাঝি’ সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র বললে অবশ্য ভুল হবে। এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটকেও তুলে ধরেছে। বলতে হয়, ‘ভুবন মাঝি’ হলো রাজনৈতিক বাস্তবতার ছবি। গল্পটা ফাখরুল শুরু করেছেন ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কিছু আগে থেকে। তারপর বলেছেন ১৯৭১ সালের কুষ্টিয়ার গল্প। এসবের মাঝে মাঝে তিনি ঘুরে ফিরেছেন ১৯৭০, ১৯৭১, ২০০৪, ২০১৩ সাল নাগাদ।
গল্পের প্রধান চরিত্র নহির। এই চরিত্রেই অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। নহির গ্রাম থেকে আসে কুষ্টিয়ায় পড়াশোনা শেষ করতে। তখন ১৯৭০’র নির্বাচনের কিছু সময় আগে। নহির ছিলেন সাদামাটা। পড়াশোনা, থিয়েটার- এসবের মধ্যেই ডুব দিয়ে থাকতে পছন্দ করতেন। দেশের উত্তাল সময়কে এড়িয়ে চলতে চান নহির। তিনি যখন কুষ্টিয়ায় প্রবেশ করেন তখন দেয়ালে দেয়ালে স্লোগান দেখানো হয়- যেখানে লেখা থাকে- ‘পিন্ডি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা…’। নিশ্চিতভাবে দর্শকের কাছে ১৯৭০/৭১’র চিত্রটি পরিচালক খুব চমৎকারভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। বিশেষ করে নহিরের চালচলন, কথা বলার ধরন। সবকিছুতে পরমব্রত ছিলেন পুরনো তার মতোই- অসাধারণ।
যা হোক, গল্পের ভেতর আরও কিছু সময় কাটানো যাক। নহিরের সঙ্গে কুষ্টিয়া শহরে তার চাচাতো বোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় ফরিদার। ফরিদা চরিত্রে অভিনয় করেছে অপর্ণা ঘোষ। যিনি সবসময় নহিরকে একজন রাজনৈতিক চেতনার মানুষ হয়ে ওঠার উৎসাহ দিতে থাকেন। একসময় ঠিকই নহির হয়ে ওঠেন রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। সে সংগ্রামে জড়ায়, যুদ্ধ করেন দেশের জন্য।
গল্পের বাঁকে:
মূল গল্পটা আসলে ২০১৩ সালের। কুষ্টিয়ায় একজন লালন সাধুর মৃত্যুকে ঘিরেই সিনেমার আসল গল্প বাঁক নিয়েছে। পরিচালক গল্পটির মধ্যে অনেককিছু বলতে চেয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বলতে চেয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি পরে সাধু হয়ে গেছেন তার গল্পটাও বলতে চেয়েছেন। তিনি ২০১৩ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতাও ছুঁয়ে দেখাতে চেয়েছেন। সবকিছুর মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলার মতোই। যার কারণে গল্পের বাঁক বারবার ঘোরাতে হয়েছে পরিচালককে। এজন্য সিনেমা হলজুড়ে দর্শকের কিঞ্চিৎ বিরক্তির অভিপ্রকাশ ঘটেছে।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই বলেছেন, ‘কী হলো? এটা আবার কোন সাল?’
সংগীতশিল্পী ওয়াকিল এবং তার বান্ধবী চরিত্রে নওশাবার অভিনয় ছিল ভালো। ওয়াকিলই সিনেমার বাঁকটাকে ঘোরান। তিনি আনন্দ সাঁইকে নিয়ে এক ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেন। সেখানেই উঠে আসে আনন্দ সাঁই মূলত একজন মুক্তিযোদ্ধা।
ছবির মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার জায়গাটা হলো, যখন পরমব্রত এবং অপর্ণা ১৯৭০/৭১-এ প্রেম করে বেড়াচ্ছেন, ২০০৪ সালে এসে ওয়াকিল এবং নওশবাও প্রেম করছেন! মনে হচ্ছিল, সত্যিই তো প্রেমের আবেগ চিরদিন একই থাকে। বদলায় না। প্রেম যেন চিরকাল একই রূপ নিয়ে ধরা দেয়। তা সে যার সঙ্গে হোক।


ভুবন মাঝির শৈলী:
‘ভুবন মাঝি’ বর্তমান সময়েরই ছবি। রাজনৈতিক বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রেমকে তুলে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন লেখক। দর্শককে বোঝাতে চেয়েছেন, যুদ্ধ এখনও চলছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখানোর চেয়ে মানুষ কিভাবে ঐক্যবদ্ধ হলো সেটাই দেখানোর চেষ্টা করেছেন পরিচালক। বিশেষ করে যখন একজন অফিসারের কক্ষে সবাই বসা এবং অফিসার প্রশ্ন করছেন, যুদ্ধের নির্দেশনা কে দিয়েছে? তখন নহির তার রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণের শেষ কয়েকটি লাইন শোনান। যা সত্যিই অসাধারণ এক দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। তৈরি করতে পেরেছে বাস্তবতা। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ছাড়া বাঙালি যে উত্তাল হওয়ার কথা ছিল না সে প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচালক শতভাগ সফল।
শুরুতেই বলেছি, নারীকে মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনা ছাড়া আর কোনও চরিত্রে সচরাচর দেখা যায় না। অথচ মুক্তিযুদ্ধে নারীর বহু অবদান রয়েছে। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ তো করেছেনই, মুক্তিযোদ্ধাদের বহুভাবে সহযোগিতাও করেছেন বাঙালি নারীরা। অধিকাংশ চলচ্চিত্রে যা অনুপস্থিত, সেটারই উপস্থিতি দেখা গেলো ভুবন মাঝিতে। সেটি একটি নার্সের চরিত্র। ভারতে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাজির হয় একটি নার্সের চরিত্র। যার আসল বাড়ি বাংলাদেশেই কিন্তু দেশ ভাগের সময় তাকে ভারতে চলে আসতে হয়েছে। চরিত্রটির সময়কাল অনেক অল্প হলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনার তার গুরুত্ব রয়েছে।
প্রধান চরিত্র ফরিদা তথা অপর্ণা এই চলচ্চিত্রে একজন বীরঙ্গনাই বটে। তবে ফরিদাকে যখন রাজাকার ধর্ষণ করার জন্য এগিয়ে আসছিল, তখনকার দৃশ্যটির যে রূপক ছিল তা ছিল দুর্দান্ত। ফরিদাকে একটি অন্ধকার ঘরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হলো। ফরিদা কুকড়ে যাচ্ছে, দরজা দিয়ে হালকা আলো আর সেখানে ছায়া এগিয়ে আসছে। কী এক অসাধারণ রুপক। দর্শক এই দৃশ্য অনেকদিন মনে রাখবেন। শুধু তাই নয়, রাজাকারকে মারার জন্য যখন মাঝ নদীতে নৌকা নিয়ে যাওয়া হয়, তখন রাজাকারকে গুলি করার দৃশ্যটি লংশটে নেওয়া হয়েছে- পুরো অন্ধকার শুধু গুলির আলো এবং আওয়াজ... সত্যিই চমৎকার।
চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণে মুন্সিয়ানার ছাপ রয়েছে স্পষ্ট। বিশেষ করে পাকশী ব্রিজের পিলারের ওপরে নহির এবং ফরিদার লংশট থেকে বসার দৃশ্যটি ছিল অরেকটি অসাধারণ দৃশ্য। সংলাপ নিঃসন্দেহে ভালো। নদী তীরে বসে নহির ফরিদাকে বলছিলেন, ‘মরতে খুব ভয় লাগে ফরিদা, যেখানে কিছু নেই, সেখানে আমার যেতে ইচ্ছে করে না।’
চলচ্চিত্রের গানগুলো অসাধারণ। সদ্য অকালপ্রয়াত কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের ‘আমি তোমরাই নাম গাই’ অসাধারণ একটি গান। ছবিটি তাকেই উৎসর্গ করা হয়েছে।
সমালোচনা:
‘ভুবন মাঝি’র প্রধানতম সমালোচনা হতে পারে সংলাপের একটি অংশ নিয়ে। একটি জায়গায় বলা হয়, পাকিস্তান আর্মি কুষ্টিয়া শহরে ঢুকে পড়ে। আওয়ামী লীগারদের ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যা চালায় (হুবহু সংলাপটি মনে পড়ছে না)। পাকিস্তান আর্মি আওয়ামী লীগের বড় নেতাদের ঘরে ঘরে ঢুকেছে এটা সত্যি। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা আপামর জনতার ওপরই তাণ্ডব চালায়। সেখানে কোনও দল-মত-ধর্ম তারা সে অর্থে দেখেনি। আর এজন্য আমরা সাধারণত বলে থাকি- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে।
দ্বিতীয় সমস্যা ছিল গল্প বলার ধরনে। কেন যেন পরিচালক অনেক কিছু বলতে গিয়ে তালগোল পাকিয়েছেন বারবার। যেমন-
ক. নহির চরিত্রটি নিয়ে তিনি ৭১-এর গল্প বলেছেন। তারপর ২০১৩ সালে যখন নহির মারা গেলেন তখন হয়ে যান আনন্দ সাঁই। নহির কি নাম বদলেছেন? এবং নহির কেন সাঁই হলেন? নাকি আগে থেকেই তার নাম ছিল আনন্দ সাঁই?
হ্যাঁ, বলা যেতে পারে নহির যুদ্ধ শেষে ফরিদাকে খুঁজে না পেয়ে সাঁই হয়ে গেছেন, সাধু হয়ে গেছেন। এটা কি দর্শক ভেবে নেবেন নাকি পরিচালকেরও কিছু বলার ছিল?


খ. পরিচালক খুব দ্রুত ১৯৭০ থেকে ২০১৩ , আবার ১৯৭১ আবার ২০০৪—এমনভাবে ট্রানজেকশন করিয়েছেন যা একসময় খুব বিরক্তেরই উদ্রেক করেছে। দর্শক হিসেবে সবাই তালগোল পাকাচ্ছিল। অনেক দর্শক একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করছিলেন- ‘এটা কোন সাল?’ দর্শককে কনফিউশনে ফেলা এবং সালের হিসেব ভুলে যাওয়ার মধ্যে নিশ্চয় পরিচালকের কোনও মুন্সিয়ানা নেই। বরং এটা মাইনাস পয়েন্ট হিসেবেই বিবেচিত হবে।
গ. ২০১৩ সালে আনন্দ সাঁই মারা গেলে একটি ছেলে এবং ক্যামেরা নিয়ে একটি মেয়ে হোন্ডায় চড়ে হাজির হন কুষ্টিয়ায়। সেখানে মরা বাড়িতে ঢুকে পড়েন তারা। প্রথম প্রশ্নটি আসে, তারা কারা? এই চলচ্চিত্রের গল্পে তাদের ভূমিকা কী? আবার ফটোগ্রাফার মেয়েটি ক্যামেরা বের করে হুট করে ছবি তোলা শুরু করেন। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি এগ্রিসিভলি উত্তর দিয়ে বলেন, ‘ছবি তোলা আমার কাজ’। বোঝা মুশকিল তাদের পরিচয়।
ঘ. নদীর মাঝখানে নৌকাতে রাজাকারকে গুলি করে মারার দৃশ্যটি যে অসাধারণ তা শুরুর আলোচনাতেই আছে। তবে পরে জানা গেলো, সেই রাজাকার নাকি মরেনি! বেঁচে গিয়েছিল। এত সামনে থেকে গুলি করার পরও কেন বেঁচে গেলো? নাকি নহির যে মানুষ হত্যা করতে চায় না এবং শেষ পর্যন্ত বোঝালো নহির আসলেই মানুষ হত্যা করেনি। সে যত বড় রাজাকার হোক আর ফরিদার ধর্ষক হোক!
ঙ. দেখানো হয় ফরিদাকে মুক্তিযুদ্ধের পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভালো কথা। তবে ২০১৩ সালে ফরিদা কোথা থেকে হাজির হলেন একটি চিঠি নিয়ে? ফরিদা তাহলে কোথায় ছিলেন?
এসব অসামাঞ্জস্য ছাড়াও ফরিদা চরিত্রটি নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনার উদ্রেক হয়। ১৯৭০ সালে কুষ্টিয়া শহরে প্রগতিশীল একজন নারী এত পরিপাটি হয়ে একজন পুরুষের সঙ্গে নদীঘাটে কিংবা ভ্যানগাড়িতে পা দুলিয়ে চলে বেড়াতে পারতেন? পুরো চলচ্চিত্রে মিজান চরিত্রটির প্রশংসা করতে হয়। তার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই তিনি দিয়েছেন। তবে ফরিদা চরিত্রে পরিচালক যেন অপর্ণাকে কিছুটা গ্ল্যামার টিকিয়ে রাখতে গিয়ে পরিপাটি করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সবসময় পরিপাটি শাড়ি, ঠোঁটে লিপিস্টিক, গালে মেকআপ...।
একটা কথা বলতেই হয়, একমাত্র মিজান এবং নহিরকে দেখেই বোঝা গেছে দেশে যুদ্ধ চলছে। আর বাকি চরিত্রগুলো ততোটা ফুটে ওঠেনি।

পরিচালকের হাতে সুযোগ ছিল চমৎকার কিছু দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলার। যেমন অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের দৃশ্যটিকে উন্মোচিত করেছেন অরিজিনাল ফুটেজ দিয়ে। সেটা তুলে ধরার জন্য নহিরকে সেখানে গানের আশ্রয় নিতে হয়।
বলতে হয়, চলচ্চিত্রটির গাঁথুনি খুবই দুর্বল ছিল, গল্প বলাতে বারবার এসেছে বাধা।
শেষ আলাপ:
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বহু চলচ্চিত্র নির্মাণ জরুরি। সরকারি অর্থায়নে ফাখরুল আরেফিন খানের ‘ভুবন মাঝি’ যথেষ্ঠ সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। এক বাউলের জীবন কাহিনির ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিছুটা হলেও তো তুলে ধরা গেল। অন্তত এটা তো মৌলিক গল্প। কোনও কাট-কপি-পেস্ট চলচ্চিত্র তো আর পরিচালক নির্মাণ করেননি। এই সাধুবাদটা তিনি পেতেই পারেন। এই দেশের মানুষের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে এবং দেশাত্ববোধ তৈরিতে অবশ্যই ভুবন মাঝি ভূমিকা রাখবে। এই চলচ্চিত্রটি দর্শক মোটামুটি গ্রহণ করেছে সেটাই বড় বিষয়। মুক্তির এক সপ্তাহ পরও যখন হাউজফুল সিনেমা হল দেখতে পাওয়া যায় তখন অন্তত বলতে হয়, গল্পটি দুর্বল গাঁথুনি হলেও ‘ভুবন মাঝি’র নৌকা চলছে দুরন্ত গতিতে…।
পাদটিকা:
‘ভুবন মাঝি’র কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ফাকরুল আরেফীন খান। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার পরমব্রত চট্রপাধ্যায়, বাংলাদেশের অপর্ণা ঘোষ, মামুনুর রশীদ, মাজনুন মিজান, নওশাবা প্রমুখ। এটি মুক্তি পেয়েছে ৩ মার্চ ১১টি প্রেক্ষাগৃহে।
সরকারি অনুদান পাওয়া ছবিটি নির্মিত হয়েছে গড়াই ফিল্মস-এর ব্যানারে।
সম্পাদনা: মাহমুদ মানজুর/ সমালোচক: শেরিফ আল সায়ার
মার্চ ১৯, ২০১৭/ বাংলা ট্রিবিউন
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×