"Usually আমি বিকালে বাইরে নাস্তা করতে যাই। তাই আম্মু আমাকে সন্ধ্যায় এসে টাকা দিয়ে বলল, "বাইরে যা তুই, নাস্তা করে আয়।"
আমি আম্মুকে রিপ্লাই দিলাম যে, "তুমি যাও, একটু পরে যাচ্ছি।"
আজানের দুই থেকে তিন মিনিট পরে আমার রুমে আগরবাতি বা এই টাইপের একটা 'স্মেল' ঘুরতে লাগলো। আমি প্রথমে নরমালি নিলাম। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরে রুমের আগরবাতির স্মেলটা এত বেশি বারলো যে নিঃশ্বাস নেয়াটাই টাফ হয়ে গেল।
এরমধ্যে ইলেকট্রিসিটি চলে গেল, আমি পিসি শাট ডাউন করে পাশের রুমে গেলাম ফ্রেশ হবার জন্য। কিন্তু আমি যখন পাশের রুমে যাই, গিয়ে দেখি যে আগরবাতির কোন স্মেল নেই, বাট আমি যে রুমে ছিলাম, সেই রুমে আগরবাতি বা এই টাইপের কিছুর ভরা একটা 'এস্মেল' ছিল।
সো আমি ফ্রেশ হবার জন্য ওয়াশ রুমে ঢুকলাম, যেহেতু ইলেকট্রিসিটি নাই, ওয়াশরুমটা পুরা অন্ধকারই ছিল। ওয়াশরুমে ঢুকার পর আমার জাস্ট ফীল হতে থাকে যে একটু ভয় ভয় লাগছে। বাট এইটা ফিল হবার কোন কারন নেই, কারন আমি বাসায় অনেকদিন যাবৎ আছি।
ফ্রেশ টেস হয়ে বাইরে যাবার জন্য একটা প্রিপারেশন নিলাম।
যেই টাইমে আমি আমার বাসার গেইটটা ক্লোজ করে বেরোচ্ছি, সিড়িতে অন্ধকার ছিল, ইলেকট্রিসিটি ছিল না, এই সময়ে আমি আমার মোবাইলের লাইটটা 'ওপেন' করে নামা শুরু করলাম। একবার যখন গ্রাউন্ড ফ্লোরে নেমে হেঁটে হেঁটে হোটেলে রিচ করলাম, এরপর খাওয়া দাওয়া পরে যখন বিল টিল দিয়ে বাসায় ব্যাক করবো....আমার বাসায় ব্যাক করার দুইটা রাস্তা আছে, লেফ্ট সাইডে একটা, রাইট সাইডে একটা, তখন আমি ফিল করলাম একজন কেউ আমাকে পিছন থেকে ডাকলো।.........
বড় ভাইকে ask করতে তার কাছে রিচ করে ব্যাক হয়ে দেখি লোকটা নাই।"
এই হচ্ছে বিখ্যাত রেডিও অনুষ্ঠান ভূত এফ এমে গল্প শোনাতে আসা এক তরুনের কথাবার্তার কিছু অংশ।
বেচারার গল্প শুনে ভয় পাব কী, ইচ্ছে হলো কষ্ট করে প্লেনের ইমার্জেন্সি টিকিট কেটে বাংলাদেশ চলে যাই। রেডিও স্টেশনে গিয়ে তার ঠিকানা নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হই। এবং সেখানে গিয়ে নিজের পায়ের থেকে স্যান্ডেল খুলে তার পশ্চাৎদেশ লাল বানিয়ে দেই।
ফাজিলের মতন কথাবার্তা! আগে ঠিক কর বাংলায় কথা বলবি, নাকি ইংলিশে। যখন যেটা বলবি, সেটা যেন শুদ্ধ হয়।
"আগরবাতির এস্মেল" "মোবাইল ফোনের লাইট ওপেন" "ব্যাক হয়ে দেখি" এইসব কী ধরনের ফাইজলামি? গাধার বাচ্চা রাম ছাগল কোথাকার!
বেশ অনেকদিন ধরেই দেশের পোলাপানদের মধ্যে 'বাংলিশে' কথা বলা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন ভাব যেন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, দিন রাত ইংলিশে কথা বলে, তাই বাংলায় কথা বলা ভুলেই গেছে। খুবই গর্বের সাথে বলে, "ও মাই গড, আমি না বাংলায় ফেল করেছি!"
আরে আহাম্মক, বাংলা মিডিয়ামের পোলাপান কিন্তু ইংলিশ পরীক্ষায় ফেল করেনা। আরবিতেও না। মাতৃভাষায় ফেল করার মধ্যে গর্বের কিছু নেইরে ছাগল। ওটা আসলেই তোর failure.
মজার ব্যপার হচ্ছে আমার যতগুলা ইংলিশ মিডিয়ামের বন্ধু ছিল, যাদের পড়াশোনা স্কলাস্টিকা, গ্রীন হেরাল্ড, আগা খান কিংবা মাস্টার মাইন্ডের মতন বাঘা বাঘা স্কুলে, তাদের একজনকেও আমি এই বিচিত্র ভাষায় কথা বলতে শুনি নাই। উল্টা তাদের বাংলা ছিল যথেষ্টই 'চলিত,' আইছি, বইছি, খাইছি, গেছি ধরনের। দাদা বাবুরা যাকে 'বাঙ্গাল' বলে চেনেন আর কি!
ঢাকায় থাকতে একবার এক ছেলে আমাকে বলেছিল, "আমি অনেক জোরে 'রান' করেও ওর কাছে 'রিচ' করতে পারি নাই। 'ডিলে' হয়ে গেছিল। তাই ওকে টাকা 'গিভ' করতে পারলাম না।"
ব্যাকগ্রাউন্ড খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম পোলা হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একজন ছাত্র, কোন এক ছোট জেলার এক অখ্যাত বাংলা মিডিয়াম স্কুল থেকে পাশ করে ঢাকায় পড়তে এসে 'স্মার্ট' হয়ে গেছে।
এদেশে এমন অনেক ইমিগ্র্যান্ট বাবা মাকেই দেখেছি যারা বাচ্চাদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলেন। ফলে বাচ্চারাও এক বর্ণও বাংলা শিখে না। সমস্যা বাঁধে যখন বাচ্চার নানী দাদী তাদের সাথে কথা বলতে যান।
বেশিরভাগ নানী দাদীই ইংরেজি পারেননা। কাজেই বাচ্চারাও তাঁদের কাছে গিয়ে আনন্দ পায়না। ভাষা না বুঝলে কতটুকুই বা আদর বুঝবে?
তখন দেখি মা বাবা চোখ পাকিয়ে বলেন, "দাদির কাছে যাও! নানির কাছে যাও! এরকম বেয়াদবি করছো কেন?"
ভাইজানেরা, তাদের এই অবস্থার জন্যতো আপনারাই দায়ী! আপনারা ওদের স্পোকেন বাংলা কোর্স করালে আপনার বাচ্চা 'বেয়াদব' হতো না।
নানী-দাদির কাছে রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে ঘুমানোর কী সুখ সেটা এরা কখনই বুঝতে পারেনা।
উল্টো দৃশ্যও দেখা যায়। এক দাওয়াতে এখানে জন্মানো এক বাচ্চা তার বাবার কাছে গিয়ে ইংলিশে কিছু একটা আবদার করছিল। বাবা মেয়েকে ধমক দিয়ে বললেন, বাংলায় কথা বলতে। না বললে তিনি কোন কথাই শুনবেন না।
মেয়েটি বাধ্য হয়ে বাংলায় কথা বলল।
বাবার যুক্তি হচ্ছে, এরা ইংলিশে কথাবার্তা এমনিতেই শিখে। সারাদিন স্কুল থাকে, স্কুলের বন্ধুবান্ধব থাকে। এখন যদি বাসায়ও বাংলায় কথা না বলা হয়, তাহলে এরা মাতৃভাষা শিখবে কিভাবে?
তাঁর মতন পিতাদের সালাম!
যাই হোক, আজকাল বাংলিশে কথা বলাটাই স্মার্টনেসের একমাত্র লক্ষণ। বাংলায় কথা বলা ক্ষ্যাত। আমি দেশে থাকতেও ক্ষ্যাত ছিলাম, এখনও ক্ষ্যাতই রয়ে গেছি।
অ্যামেরিকায় আসার কিছুদিনের মধ্যে এক ছেলের সাথে কথা হয়েছিল যে আমার সাথে ধুমায়া ইংলিশে কথা বলছিল। আমি তখন একদম নতুন এসেছি। ইংরেজি গুছিয়ে বলতে গিয়ে প্যাচিয়ে ফেলি। এদিকে ওদিকে শব্দের জন্য হাতড়ে ফিরি আর কি। তবু কথাবার্তা চালিয়ে গেলাম।
পরে ছেলেটা যখন বলল যে সে দুই বছর আগে অ্যামেরিকায় এসেছে। এখন বাংলা ভাষা প্রায় ভুলতেই বসেছে - তখন বিরবির করে এমন একটা গালি দিলাম যাহাকে বইয়ের ভাষায় লিখতে গেলে লিখতে হবে "ছাপার অযোগ্য।"
আমি ভাইজানকে জিজ্ঞেস করলাম দেশে থাকতে কোন স্কুলে পড়েছিল। সে জানালো, মতিঝিল মডেল।
এইবার গালিটা দ্বিতীয়বার দিয়ে মনে মনে বললাম, ফাজিলের আওলাদ! তুমি এতক্ষণ আমার সাথে ভাব নিচ্ছিলা!
এরপর থেকে 'ব্রাউন চামড়ার' কারও সাথে কথা বলার সময়ে, সে এই দেশে জন্মাক অথবা বহু বছর আগে এদেশে আসুক, আমি বাংলায় কথা চালিয়ে যাই।
সহজ যুক্তি, তোমার যদি বাংলায় কথা বলতে সমস্যা হয়ে থাকে, তবে অতি গর্বের সাথে বলছি, আমারও ইংরেজিতে কথা বলতে একই সমস্যা হয়।
আমার সুবিধার জন্য তুমি যেমন বাংলায় কথা বলতে রাজি নও, তাহলে আমি কেন কষ্ট করে আমার সব কথাকে ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করবো
https://www.facebook.com/groups/canvasbd/
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



