somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বিয়ের আগে ব্লাড টেস্ট? বিয়েই করুম না!"

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাপানিজ মেয়েরা এমনিতেই দেখতে সুন্দর হয়ে থাকে। চেহারায় কেমন একটা পুতুল পুতুল ভাব আছে। তার উপর বলা হয়ে থাকে যে তারা গৃহবধূ হিসেবেও অতুলনীয়া হয়।
আমার এক কাজিন বোধয় এই কথাগুলো শুনেই ইনস্পায়ার্ড হয়ে একদিন ঘরে জাপানি ভাবি নিয়ে আসলেন।
যেভাবে লিখছি ঘটনা আসলে এত সহজ ছিল না, মানে তিনি জাপানে পড়তে গিয়েছিলেন, তারপর সেখানে এক জাপানি মেয়ের সাথে প্রেম হয়েছিল, বিয়ে করেছিলেন, ঘরে অনেক ড্রামাও নিশ্চই হয়েছিল - যেখানে সিলেটিরা সিলেটের বাইরে বেঙ্গলিদেরই বিয়ে করতে চায় না, সেখানে তিনি হলুদ চামড়ার জাপানি মেয়ে বিয়ে করে ফেলেছেন!
যাই হোক, আমি শুধু এইটা দেখলাম, একদিন চাচা চাচি ও ইসাম ভাইয়ার সাথে সেলোয়ার কামিজ পড়ে ফুটফুটে এক তরুণী আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এলেন, আব্বু আম্মুকে খাঁটি বাঙ্গালি কায়দায় সালাম দিলেন, টুকটাক বাংলা কথাও বললেন। বিদায় নেবার সময়ে যখন হাসিমুখে সবাইকে 'খোদা হাফেজ' বললেন, আমি তখন ডিসিশন নিয়ে নিলাম বড় হলে আমিও জাপানি মেয়েই বিয়ে করবো।
তখন আমার বয়স আটও হয়নি। ঘন ঘন বিবাহের সিদ্ধান্ত নেয়ার সেটাই প্রকৃত বয়স।
যাই হোক, এর কয়েক বছর পরে শুনি ভাইয়ার জাপানি ভাবির সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে। ঘটনাটা খুবই শকিং ছিল আমাদের জন্য। তাঁরা যদিও জাপানেই থাকতেন, তাঁদের মধ্যে কখনও টুকিটাকি ঝগড়ার কথাও আমরা অন্তত শুনিনি। ভাবি এতই ভাল ছিলেন যে চাচা চাচি পর্যন্ত তাঁদের বিদেশী বউয়ের প্রশংসা করতেন। বাঙ্গালি সমাজে ভাল বউয়েরই যেখানে দূর্নাম করা স্বভাব, সেখানে একজন বিদেশিনী কত ভাল হলে সবার প্রশংসা পান!
কাজেই ডিভোর্সের ঘটনায় আমরা খুবই অবাক হলাম।
পরে শুনেছিলাম তাঁদের (ভাইয়া, ভাবীর) রক্তে নাকি কী একটা সমস্যা আছে, যার ফলে তাঁদের কখনও সুস্থ্য বাচ্চা হওয়া সম্ভব নয়। একটি বাচ্চা হয়েছিল, সেও মানসিক প্রতিবন্ধী।
বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করালে তাঁদের জীবনে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না।
আমাদের সমাজে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়া হলে নানান ভাবে মেয়েকে পরীক্ষা করা হয়। মেয়ে হাঁটে কিভাবে, গান জানে কিনা, কোরআন শরীফ পড়ে কিনা, বেতের নামাজ কয় রাকাত, সরিষা ইলিশের রেসিপি কী ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারো সব আজাইরা প্রশ্ন। মেয়ে পক্ষ্য এতে বিন্দুমাত্র অপমানিত হন না। কিন্তু যদি এইসব বাদ দিয়ে বলেন, একটা ব্লাড টেস্ট হয়ে যাক, তখনই দেখবেন সবাই চোখ মুখ তীক্ষ্ণ করে ফেলেছেন। ছেলেকে ব্লাড টেস্ট করতে বললেতো বদ ব্যাটা বিয়েই করতে রাজি হবে না। সরু মুখ করে বলবে, "আমাকে এত বড় অপমান করা হলো!"
কিন্তু বিয়েতে এটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি বিষয়। এর উপর আগামী বংশধরদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে!
মেয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড ছিল কিনা, ছেলের চরিত্রে কোন দোষ ত্রুটি আছে কিনা - এইসব জানার চাইতেও সবচেয়ে বেশি জরুরি ছেলে মেয়ের রক্তে এমন কোন উপাদান আছে কিনা যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে এফেক্ট করতে পারে।
আধুনিক প্রযুক্তি যখন সুলভ আছেই, এর ব্যবহার করতে ক্ষতি কী?
এতে এত ইমোশনাল হবার কিছু নেই। আমাদের প্র্যাকটিকাল হওয়া শিখতে হবে।
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বান্ধবী জানালো তাঁর শিশুর থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে। রোগটির উপকারী দিক হচ্ছে এদের ব্রেইন অত্যন্ত ধারালো হয়। পড়ালেখায় দারুন রেজাল্ট করে! এ প্লাস পেতে হলে তাকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উপর নির্ভর করতে হবেনা।
তবে ভয়াবহ দিকটা হলো এদের জন্য রেগুলার বেসিসে রক্ত লাগে।
এতটুকু একটা শিশু, তাঁকে কিনা এখন বেঁচে থাকতে হচ্ছে অন্যের দয়ার উপর নির্ভর করে! ষোল কোটির দেশে অতি সাধারণ বি+ রক্ত পেতেও তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। মানুষ রক্তদানে এতটাই অনাগ্রহী।
তারচেয়ে বড় কথা, মা বাবার মনের অবস্থাটা একটু চিন্তা করুন!
আল্লাহ প্রতিটা শিশুকে সুস্থ্যতা দান করুন। একটি সুস্থ্য শরীরের চেয়ে বড় নেয়ামত আর কিছুই হতে পারেনা।
শিশুটির বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে, তাহলেই তাঁর এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। নাহলে আজীবন রক্তের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। আজীবন!
তাঁর যদি অন্য কোন ভাই বোন হয়, তবে সে তাঁর বোনম্যারো নিয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারে। সমস্যা হচ্ছে, তাঁর মা যদি আরেকটি বাচ্চা নেয়, তবে সেই শিশুটিরও এই একই রোগ হবার সম্ভাবনা শতকরা পঁচিশ ভাগ!
চিন্তা করুন, দুই দুইটা সন্তানের যদি একই থ্যালাসেমিয়া রোগ থাকে, মা বাবার অবস্থা তাহলে কী হবে!
আমরা ভাবতে পারিনা। ভাবতে চাইও না।
অথচ বিয়ের আগে একটা ব্লাড টেস্ট করালে আরামসেই এই সমস্যা এড়ানো যেত। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক হয়তো ভাঙ্গতে হতো, অথবা কোন শিশু এডপ্ট করা যেত - মোট কথা যেই পদক্ষেপই নেয়া হতো না কেন, 'মোহাম্মদ' নামের শিশুটিকে অন্তত এত কষ্টের ভিতর দিয়ে যেতে হতো না।
আমাদের উপলব্ধি করার সময় এসেছে, বুঝার সময় এসেছে যে কোন কাজটা আমাদের নিজেদের উপকারের জন্যই বেশি জরুরী।
শিশুটির মায়ের অনুরোধেই আজকের এই লেখাটি লেখা।
জগতের সকল শিশুর ভবিষ্যত হোক সুস্থ্য শরীর!
https://www.facebook.com/groups/canvasbd/
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×