somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবীজিকে (সঃ) করা সর্বোচ্চ অপমান।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন তিনি সবাইকে বলতে শুরু করলেন এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও সামনে মাথা নত করো না, এবং মেনে নাও আমি তাঁর শেষ পয়গম্বর, তখন থেকেই তাঁর পেছনে শত্রুরা লেগে ছিল।
আবু জাহেল এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা তাঁকে জাদুকর, লোভি, বাটপার ইত্যাদি কত অপবাদই না দিয়েছে। কোন কিছুতেই কাজ না হওয়ায় তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। হিজরতের রাতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত ঘিরে ফেলেছিল খুনি বদমায়েশের দল! কিন্তু না তিনি, না তাঁর সাহাবীরা একজন মানুষকেও (কেবল মাত্র যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া) সে কারণে হত্যা করেছেন।
এমন নয় যে তাঁরা দূর্বল ছিলেন। তখনই মুসলিম দলে ছিলেন হযরত হামযাহ (রাঃ), হযরত উমারের (রাঃ) মতন মক্কার শ্রেষ্ঠতম বীর পুরুষেরা। কার সাধ্য বা সাহস ছিল তাঁদের সামনে গলা উঁচিয়ে কথা বলার?
উপরন্তু মক্কা বিজয়ের পরে যখন কুরাইশরা মাথা নিচু করে মৃত্যুদন্ডের অপেক্ষা করছিল, তখন তিনি সবাইকে সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
কেন জানেন? যাকে আল্লাহ স্বয়ং বলেছেন তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আসমান-জমিন-বেহেস্ত-দোযখ , জ্বিন-ফেরেস্তা ও মানব জাতির সবার মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ আসনধারী, the ultimate master piece, তাঁকে সামান্য আবু জাহেল কেন, তামাম দুনিয়ার কোটিকোটি মানুষ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করলেও তাঁর সম্মানের এতটুকুও কিছু আসবে যাবে না। একটা কার্টুন, একটা সিনেমা অথবা একটা উন্মাদের প্রলাপ আজকে আল্লাহর দেয়া সম্মানের চেয়ে বড় হয়ে গেল?
তায়েফে যখন তাঁকে পাথর মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলা হয়েছিল, জ্ঞান ফেরার পর তিনি আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে দোয়া করেছিলেন ওদের যেন সঠিক জ্ঞান দেয়া হয়। আল্লাহ যেন তাঁদের ক্ষমা করেন।
তিনি কী নিজের অপমানে বা ব্যথায় কষ্ট পেয়ে কেঁদেছিলেন? না! তিনি কেঁদেছিলেন এই কষ্টে যে তারা কেউ তাঁর কথা বুঝতে চাইছে না।
বিদায় হজ্জের দিনে আরাফাহর ময়দানে লক্ষাধিক মুসলমানের সামনে মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ভাষণটি শেষ করে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, "আমি কী তোমাদের কাছে ইসলামের (কল্যাণের) বাণী পৌছে দিতে পেরেছি?"
সমবেত জনতা উৎফুল্ল কন্ঠে জবাব দিয়েছিলেন, "হ্যা!"
জবাব শুনে তিনি তৃপ্তির হাসি হেসেছিলেন।
কিন্তু আজকে যদি তিনি আমাদের সামনে থাকতেন, তবে আমি নিশ্চিত, মদিনার কুড়ে ঘরে খেজুর পাতার বিছানায় বসে মুসলিম সাম্রাজ্যের সম্রাট কাঁদতে কাঁদতে বুক ভাসাতেন। এই কান্না তায়েফের কান্নার চেয়ে ভিন্ন হতো, তাঁর উম্মতেরা যে তাঁর বাণীর কিছুই উপলব্ধি করতে পারেনি! দীর্ঘ তেইশ বছরের অকল্পনীয় সংগ্রাম, শহীদ সাহাবাদের আত্মত্যাগ - সব মিথ্যা প্রমাণ করে কিছুদিন আগে পেশোয়ার-সিডনির পর আজকেও তাঁর "উম্মতেরা" তাঁর নাম নিয়েই প্যারিসে হামলা চালালো।
কেয়ামতের দিন যখন এইসব মাথা মোটা আহাম্মক উন্মাদদের সাথে নবীজির (সঃ) দেখা হবে, এবং তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, "আমাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের অপরাধে যদি আমি বা আমার সাহাবীরা কাউকে এতটুকু আঘাত পর্যন্ত না করে থাকি, তবে তুমি কোন সাহসে মানুষ হত্যা করতে গেলে? কে তোমাকে এই অনুমতি দিয়েছিল?" - তখন তারা কী জবাব দিবে?
নবীজি যদি জানতে চান, "তোমরা কী আমার এবং আমার সাহাবীদের চেয়ে বেশি ধর্ম বুঝে ফেলেছো?"
তখনই বা তারা কী জবাব দিবে?
নবীর(সঃ) অপমান কোন কার্টুনে হয়না, কোন জোকসেও হয়না - আমার নবীর সম্মান অনেক অনেক উঁচুতে।
কিন্তু সেই নবীরই (সঃ) আসল অপমান হয় তাঁর নির্দেশ অমান্য করলে। তাঁর অপমান হয় ইবলিসের কর্মকান্ড তাঁর নামে হালাল করার প্রচেষ্টা করলে।
নির্যাতিতের আর্তনাদে যেখানে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠে, সেখানে "আল্লাহু আকবার" ধ্বনীতে মানুষ হত্যা করা হয়।
প্রিয় নবীজি হযরত মুহাম্মদ(সঃ), আল্লাহর কাছে আমরা ক্ষমা চাই, তিনি পরমকরুনাময় ও অসীম দয়ালু। তিনি আমাদের ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথ দেখান!
এবং সেই সাথে আপনার কাছেও ব্যক্তিগতভাবে মাফ চাই। আপনিও দয়ার সাগর, আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার দেয়া শিক্ষার বিকৃত অর্থ প্রয়োগ করে আপনাকে বুঝিবা আমাদের মুসলমানদের চেয়ে বেশি অপমান আর কেউ কখনও করতে পারেনি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×