somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাকাত দিবেন কাদের?

১৬ ই জুন, ২০১৬ রাত ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটা বাস্তব ঘটনা বলি।
আমার এক দুলাভাই দেশে বেড়াতে গেছেন। নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছেন। রিক্সায় বসা। প্রচন্ড জ্যাম। গরমে ঘামছেন। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন তাঁর যে রিক্সা চালক, তাঁর এক পা নাই। পঙ্গু। মাত্র এক পায়েই রিক্সা চালানোর মতন কঠিন কাজটা অনায়াসে করে যাচ্ছে।
দুলাভাইর মনটা ব্যথিত হলো। একই সাথে রিক্সাওয়ালার জন্য শ্রদ্ধায় বুকটা ভরে গেল।
ঠিক তখনই ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে এক ফকির এসে হাজির হলো।
"আব্বা! ল্যাংড়া লুলারে দুইটা ট্যাকা দিয়া যান। আমি পঙ্গু মানুষ! ঠ্যাং নাই।"
দুলাভাই অ্যামেরিকা থেকে গেছেন। পকেটে টাকা আছে। টাকাওয়ালা প্রবাসী দেশে গেলে দেশের সব অসহায় দুস্থ মানুষের দুর্দশা দূর করে দিতে চান। দুলাভাইও ব্যতিক্রম নন। অন্য কোন সময় হলে নিশ্চিতভাবেই পকেটে হাত দিয়ে কিছু চকচকে নোট বের করে ফকিরকে খুশি করে দিতেন। কিন্তু বেচারা ফকিরের ভাগ্য খারাপ। দুলাভাইর রিক্সাওয়ালাটাও ছিল পঙ্গু মানুষ। ঠ্যাং নাই।
দুলাভাই কেবল চোখের ইশারায় ফকিরকে রিক্সাওয়ালার পা দেখিয়ে বললেন, "ও পারলে তোমার অজুহাত কী?" (ইংলিশে বললে, What's your excuse?)
ফকির দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বেচারাকে গালাগালি করতে করতে চলে গেল।
একবার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির একটি ক্লিপে দেখেছিলাম একটি পরিবারের সবক'টা পুরুষই জন্মান্ধ। মেয়েরা চোখে দেখতে পারে, ওরাই সংসারের কর্মকান্ড পরিচালনা করে। এবং উপার্জন করে কারা? সেই অন্ধ পুরুষেরা। পিতা-পুত্র-নাতি সবাই মিলে ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরের টাউনহলের পাশে মুক্তমঞ্চে গান করে, শ্রোতারা খুশি হয়ে যা দেয়, তাই সই।
হানিফ সংকেত যখন পরিবার প্রধানকে জিজ্ঞেস করেন, "ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিলেন না কেন?"
অন্ধ লোকটি জবাবে বলেন, "নবীজির শিক্ষা, করবো না ভিক্ষা।"
উপরের ঘটনাগুলো বললাম কারন রমজান মাস এলেই আমরা পত্রিকায় হেডলাইন দেখি অমুক জায়গায় যাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি নিতে গিয়ে এত জন নিহত। বিস্তারিত পড়লে জানা যায়, কোন এক শিল্পপতি নিজের বার্ষিক যাকাত প্রদানের জন্য মাইকিং করে গরিব মানুষ জড়ো করেছিলেন। এবং সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে এত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইসলাম বস্ত্রহীনে বস্ত্র দান করতে বললেও আপনাকে এই তরিকায় যাকাত আদায় করতে বলেনা। বলে যে এমনভাবে যাকাত দাও যাতে যাকাত গ্রহণকারী আগামী বছর যাকাত প্রদানকারী বনে যেতে পারে।
উদাহরণ দিলে একটু স্পষ্ট হবে।
ধরা যাক এক শিল্পপতির বার্ষিক যাকাতের পরিমান ১ লক্ষ্ টাকা। আরও বেশি হয়, কিন্তু কনজারভেটিভ নম্বর হিসেবে ধরলাম এক লাখ টাকা।
এখন এই লোকটি যদি একজন গরিবকে সম্পুর্ন টাকা দান করে, তাহলেই কিন্তু তাঁর যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এবং একই সাথে, লাখপতি হবার সুবাদে সেই গরিব লোকেরও আগামী বছর যাকাত ফরজ হবে, এবং সেও কোন একজনকে সাহায্য করবে। সেটা একশ টাকা দিয়ে হলেও।
কথা হচ্ছে, একটা রিক্সা কিনে দিতে, একটা কোদাল কিনে দিতে, একটা সেলাই মেশিন কিনে দিতে, একজোড়া ছাগল কিনে দিতে লাখ লাখ টাকা লাগেনা। যাকে কিনে দেয়া হয়, সে ইচ্ছা করলে এই সম্পদ থেকেই নিজের ভাগ্য ফেরাতে পারবে। আর যে ভাগ্য ফেরাতে চাইবে না, তাকে কোটি টাকা ধরিয়ে দিলেও আগামী দিনই আবার রাস্তায় এসে সেই ভিক্ষেই করবে। উপরে ল্যাংড়া রিক্সাওয়ালা এবং ল্যাংড়া ফকিরের ঘটনা বললাম না? মানুষের পঙ্গুত্ব শরীরে নয়, মানসিকতায়। দারিদ্রও তাই।
আমার দুলাভাই আবেগে আপ্লুত হয়ে ল্যাংড়া রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া দেয়ার সময়ে পাঁচশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে হিমু স্টাইলে হাঁটা দিয়েছিলেন। ফকিরটাকে দেননি। অন্ধ শিল্পী পরিবার প্রধানের হাতে হানিফ সংকেত দুই লাখ টাকার চেক ধরিয়ে দিয়েছিলেন। সবই সম্মান বোধ থেকে, করুনা থেকে নয়।
কাউকে যদি আপনি দান খয়রাতে অভ্যস্ত করে ফেলেন, তাহলে সে জীবনেও কাজ করবেনা। রাস্তায় বসে আল্লাহ আল্লাহ জিকির তুললেই যদি শয়ে শয়ে টাকা আসে, তাহলে কেন মানুষ পরিশ্রম করতে যাবে?
একটা মানুষকে জেনুইনলি সাহায্য করতে চান? তাহলে এমনভাবে সাহায্য করুন যাতে আপনার সামান্য সাহায্যটাই যেন সে কাজে লাগিয়ে নিজের ভবিষ্যত পাল্টে ফেলতে পারে। আপনি কেন তার মিল্কিং কাউ হতে যাবেন?
যেমন স্পৃহা নামের একটি ননপ্রফিট সংগঠনের সাথে আমরা (আমি এবং তারেক) যুক্ত আছি। এরা রাজারবাগের বস্তির মানুষদের নিয়ে কাজ করে। শিশুদের শিক্ষা দেয়। বস্তির মেয়েদের সেলাইর ট্রেনিং দেয়। ছেলেদের শেখায় কারিগরী শিক্ষা। বস্তির মানুষদের জন্য আছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা। অনেক স্থানেই বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়, কিন্তু দেখা যায় ওষুধ ঠিকই নিজের পয়সায় কিনতে হয়। স্পৃহা সেই ওষুধটাও বিনা পয়সায় দেয়।
কেন?
যাতে বস্তির মানুষ একসময়ে বস্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
এবং তাঁরা তাঁদের মিশনে এখন পর্যন্ত যথেষ্টই সফল বলা চলে। আজকে অনেকেই স্পৃহা থেকে প্রাপ্ত সাহায্য কাজে লাগিয়ে "এবং" নিজের পরিশ্রমে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। যাচাই করে দেখতে পারেন।
স্পৃহা অনুদানের এক টাকা সাধারন দানে নয়, বরং সেই এক টাকা থেকে কিভাবে একশ টাকার কাজ করা যায় - সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী।
যাকাতের টাকাতো অনেকেই অনেক খাতে দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার টাকা দেয়ার মতন গরিবই খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁদের জন্য স্পৃহা একটি চমৎকার প্রতিষ্ঠান হতে পারে। আপনার যাকাতের টাকা আপনি স্পৃহাকে দান করুন। যাকাত ছাড়াও যদি আলাদাভাবে দান করতে চান তাহলেও করতে পারেন। এবং পারলে ওদের সাহায্য করতেও এগিয়ে আসুন। সবাই মিলে একটি একটি করে বস্তি ধরলেই দেখবেন একদিন বাংলাদেশের সব মানুষ বস্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
স্পৃহাকে সাহায্য করার ঠিকানা:
Bank Name: Shahjalal Islami Bank Limited;
Branch: Satmasjid Road Branch
Account Name: Spreeha Bangladesh Foundation - Jakat Fund
A/C no: 4021-11100007363
Anyone who wants to donate zakat from Bangladesh can deposit directly to this account.
For non-zakat/regular donations from Bangladesh, please use the following account:
Bank Name: Dutch Bangla Bank Ltd. (DBBL)
Branch: Ring Road
Account Name: Spreeha Bangladesh Foundation-General
A/c no 148.110.24555
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৬ রাত ১:৩৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×