somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উহা সহীহ ছাত্রলীগ নয়। ম্যা ম্যা ম্যা।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইকবাল যখন পা পিছলে গভীর পানিতে পরে গেলে তারেক এবং আশিক দুইজনই ঝাঁপিয়ে পড়লো তাঁকে টেনে তুলতে। ইকবাল সাঁতার জানতো না, আশিকও না, তারেকও না। আমরা ছিলাম নদীর এপারে। আমাদের সাত বন্ধুর মধ্যে একমাত্র সাঁতারু রানা ঝাঁপিয়ে পড়লো বন্ধুদের উদ্ধারে। সে খুবই দ্রুত সাঁতরাতে পারে। কিন্তু তখন মনে হচ্ছিল ওরা যেন তারচেয়েও দ্রুত ডুবে যাচ্ছে।
রানা মাঝপথ পৌঁছাবার আগেই ইকবাল পানিতে হারিয়ে গেল। আশিকও প্রায় ডুবে গেছে রানার হাতের টানে কোন রকমে নাক পানির উপরে আনতে পারে। তারেক তখনও কিভাবে কিভাবে যেন হাত পা ছুড়ে ভেসে আছে। দুইজনকে দুই হাতে ধরে রানা ভাসছে। ইকবালের দেখা নেই। ছোট ছোট দুটা বাচ্চা ছোট একটা ডিঙি নাও নিয়ে খেলছিল - আমরা তাদের তাড়িয়ে দিলাম ওদের বাঁচাতে।
ছোট ছোট হাতে ছোট বৈঠা বেয়ে নৌকা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। ইকবালের তখনও দেখা নেই।
আশিক এবং তারেককে কোন রকমে নৌকা ধরে ভাসতে দিয়ে রানা ডুব সাঁতার শুরু করলো। কাঁচের মতন স্বচ্ছ পানি। সূর্যের আলো নেমে যাচ্ছে দশ বিশ হাত গভীরে। তবুও ইকবালকে দেখা যাচ্ছে না।
পানির নিচে তিন চার মিনিট থাকলেই যেখানে মানুষ মরে যায় - আমার হাতঘড়ি তখন আমাকে বলছে যে আধ ঘন্টা পেড়িয়ে গেছে। আমার মনে হলো কেউ যেন আমার হাঁটুর নিচ থেকে পা দুটা কেটে ফেলে দিয়েছে। মাথায় হাত দিয়ে তীরে বসে পড়লাম। সামি তখনও ঘড়ি দেখেনি। ও একবার এদিকে দৌড়াচ্ছে, আরেকবার ওদিকে। এবং চিৎকার করে বলছে, "ঐদিকে দেখ, ও ওখানেই আছি। হাতটা একটু নিচে বাড়ালেই ও উঠে আসবে।"
ডুবতে ডুবতে বেঁচে যাওয়া আশিক পেট থেকে সব বের করে দিতেই কিছুক্ষন পরপর বমি করছে। অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া তারেক চিৎ হয়ে তীরে শুয়ে আছে। আশফাক, রুবেল দুইজনই একদম জম্বি। ফ্যাকাশে মুখে কোন প্রাণ নেই। রানা তখনও সাঁতরে যাচ্ছে। ইকবালের কোন খোঁজ নেই।
আমাদের প্রত্যেকের হাতে তখন স্মার্ট ফোন। তার উপর আমার হাতে Sony H সিরিজের ক্যামেরা। ১০৮০পি কোয়ালিটির ভিডিও ধারণ করা যায়। দেখে মনে হয় একদম চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু আমাদের কারোরই মাথায় কেন জানি ঘটনাটা ভিডিও করার চিন্তা এলো না। বরং বন্ধুকে বাঁচানোটাই আমাদের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল। যেকারনে সাঁতার না জেনেও তারেক আশিক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আমরা কেউই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও করিনি।
এম.সি. কলেজে ক্যাম্পাসে (আমার নিজের কলেজ, এখন থেকেই এইচএসসি দিয়েছিলাম, আমার দাদা এবং চাচাও ছিলেন এই কলেজেরই ছাত্র) চোখের সামনে একটি মেয়েকে কুপিয়ে মারতে দেখায় লোকজন "ও মাই গো" (এটি ইংলিশের O my God না - সিলেটিরা লন্ডনের ভক্ত হলেও এক্ষেত্রে ইংলিশ ঝাঁড়েনি। সিলেটিরা "মা" কে "মাই" ডাকে। মানে হচ্ছে "ও মা গো!") বলতে বলতে ভিডিও করলো - অথচ দশ বারোজন গিয়ে টিপে দিলেই শূকর শাবকটা খতম হয়ে যেত। কোথায় থাকে মানুষের মনুষত্ব? আমরা বন্ধুদের কেউইতো ভিনগ্রহের এলিয়েন ছিলাম না - তাহলে এইসব ঘটনায় ভিডিও যারা করে তারা কী মানুষ না?
চাপাতি দেখে ভয় পেয়েছে সবাই? দশ বারোজন এগিয়ে এলে সেই জানোয়ারটা কয়জনকে কোপাতে পারতো? তার আগেইতো তাকে পিষে মেরে ফেলা হতো। একতাবদ্ধ জনতাকে যেকোন দেশের সরকার পর্যন্ত ভয় পায় - সেখানে একটা তেলাপোকা কী চিজ ছিল?
খুব খারাপ লাগলো ঘটনাটা দেখে। তারচেয়ে খারাপ লাগছে এই ঘটনা নিয়ে কাউকে কাউকে রাজনীতি করতে দেখে। কান্ডটা ছাত্রলীগের জানোয়ার করায় দোষটা ইসলামের গায়ে আসছে না, আলহামদুলিল্লাহ! তবে ছাত্রলীগও শুরু করে দিয়েছে বয়ান দেয়া, "উহা সহীহ ছাত্রলীগ নয়। ম্যা ম্যা ম্যা।"
এবং বিপক্ষ দলের অভিযোগ, "ছাত্রলীগের কর্মীর কান্ড দেখুন! ব্লা ব্লা ব্লা।"
জানোয়ারটির অপরাধ থেকেও বেশি হাইলাইট করা হচ্ছে তার রাজনৈতিক পরিচয়টিকে। ওয়াহরে ওয়াহ জনতা এবং মিডিয়া!
অবশ্যই এই জানোয়ারটাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা গেলে ন্যায় বিচার হতো। আফসোস, সভ্য দেশে অসভ্যদের সাথেও সভ্য আচরণ করতে হয়। "An eye for an eye leaves everyone blind" - কথাটা ফিলোসফি ও ধর্মগ্রন্থে মানায়। বাস্তবে কেউ কারও চোখ উপড়ালে তারও চোখ প্রকাশ্যে উপরে ফেললে বাকিরা অন্যের সাথে অন্যায় করার আগে সাবধান হতো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×