somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লন্ডন অ্যাটাক

২৩ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি না ইদানিং একটা খেলা খেলছি। মজার খেলা। তবে ভীষণ ইন্টারেস্টিং।
খেলাটা হচ্ছে, প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুই পাতা কুরআন পড়ি। অর্থ সহ। শুরু করেছি একদম প্রথম থেকে, সূরা ফাতিহা এবং বাকারা। এখন পর্যন্ত মাত্র দুইশ আয়াতের খানিকটা বেশি পড়া হয়েছে।
খেলাটা কেন ইন্টারেস্টিং সেটা এখন বলি।
প্রতিদিন আমার সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা মাথায় থাকে। আমি চেষ্টা করি মাত্র দুই পৃষ্ঠার কুরআন পাঠ থেকে আমি কী সেটা সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা পেতে পারি কিনা। এবং এখানেই বিস্ময়কর ব্যাপারটা ঘটে। আমি প্রতিবারই পাচ্ছি!
কয়েকটা উদাহরণ দিচ্ছি - ক্লিয়ার হবে।
ইসলামোফোবদের কথাবার্তায় মাঝে মাঝেই আমি বিমর্ষ হয়ে পড়ি। ওরা ভাল করেই জানে আমরা নবী এবং আল্লাহর ব্যাপারে কতটা স্পর্শকাতর, তারপরেও ইচ্ছা করে তারা বানিয়ে বানিয়ে সত্যের সাথে মিথ্যা জড়িয়ে এমনসব কথাবার্তা বলে, তখন তাদের এই ফাজলামিতে ভীষণ বিমর্ষ হয়ে পড়ি। আমার ঈশ্বরের কাছে তাদের মাথা নত করতেই হবে এমন কোন শর্ত আমি দেই না - তবে আমাদের বিশ্বাস নিয়ে ওদের এমন কদর্য আচরণ কেন আমি কিছুতেই বুঝতে পারিনা। এইটাতো তথাকথিত "মুক্তমনার" নিদর্শন হতে পারেনা!
এবং তখনই আমি বাকারার একটি আয়াত পেলাম, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, তিনি তাদের গলায় বেড়ি বেঁধে রেখেছেন। ঢিল দিচ্ছেন বলে ওরা বুঝতে পারছে না। তবে যেদিন তিনি পাকড়াও করবেন, তখন আসমান জমিনের কেউ তাদের সাহায্য করতে পারবেনা।
মনে পড়ে গেল আমার নানুর বাসার হিংস্র জার্মান শেফার্ডের কথা। কুকুরটার ভয়ে আমরা সবাই গৃহবন্দী থাকতাম। প্রচন্ড আগ্রাসী এই কুকুরটা মামা এবং নানু ছাড়া কাউকে পরোয়া করতো না। নানু বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে প্রতিবেশীর ছাদে চলে যেত। ফল, প্রতিবেশীও আতঙ্কে গৃহবন্দী।
মামা "বুদ্ধি" করে কুকুরটার গলায় বেল্ট বেঁধে দিল। ঢিলা বেল্ট। সে বুঝতে পারলো না। একদিন অভ্যাসবশত লাফ দিল। দুই ছাদের মাঝামাঝি পর্যায়ে গিয়ে গলায় টান পড়লো। ফাঁসিতে মারা পড়লো আমাদের "ডন।"
আয়াতটি পড়ে ভয়ে শরীর কাটা দিয়ে উঠলো। এই ঢিল কী আমাকেও দেয়া হচ্ছে নাতো! যাদের দেয়া হচ্ছে, তাদের কী হবে?
রাগতো দূরের কথা - তাদের জন্য উল্টো করুণা হলো। ইশ! তারা যদি বুঝতো!
সেদিন আমরা খুব দামি এক সেট টেবল কিনে ফেললাম। দামি মানে আসলেই দামি। একতাড়া ডলার পকেট থেকে খসে গেল। অযথা এতগুলো টাকা খরচ করে ফেলায় মন খচখচ করতে লাগলো। আমার বৌ কিছুক্ষন পরপর বলছে, কাজটা উচিৎ হয় নাই। কাজটা মোটেও উচিৎ হয় নাই।
এবং সেই রাতেই পড়লাম, "আমাকে স্মরণ করো - তাহলে আমিও তোমাদের স্মরণ করবো। আমার শুকরিয়া আদায় করো - এবং আমার না শোকর হয়ো না।"
সাথে সাথে সব খচখচানি দূর হয়ে গেল।
আল্লাহর অনেক শুকরিয়া তিনি আমাদের সেই টেবল সেট কেনার সামর্থ্য দিয়েছেন। একটা সময়ে ঘরে কেবল ঘুমানোর ম্যাট্রেস ছাড়া কিছুই ছিল না। মাত্র নয় বছর আগের ঘটনা। সেই দিন আর নেই। সেই দিনে যেন ফেরত না নেন। আমিন।
আরেকবার মানুষ তর্ক করছিল কে "সহীহ" মুসলিম এবং কে নয়। এবং তখনই আমি চমৎকার আয়াতটি পড়লাম। "সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে (কাবার দিকে বা উল্টোদিকে), বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কথা দিয়ে কথা রাখবে এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।"
তো যা বলছিলাম। খেলাটা এখন পর্যন্ত দুর্দান্তভাবে জমে উঠেছে।
যেমন গতকাল লন্ডন অ্যাটাকের পর আমি কী পড়েছি জানেন? "বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।"
ইন্টারেস্টিং না?
এখন যারা ইনিয়ে বিনিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দোষ খোঁজার চেষ্টা করছেন, "এই সন্ত্রাসী ঘটনার নিন্দা জানাই - কিন্তু/তবে ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়ার অবস্থানের পেছনে কে দায়ী?.........."
যেই দায়ী হোক, অন্তত নিহত হওয়া পথচারী বা পুলিশ অফিসারটি যে নয় - এইটা মাঠে ঘাস খাওয়া বলদও হাম্বা হাম্বা করে বলে দিতে পারবে। ইসলামে কোলাটেরাল ড্যামেজ বলে কোন টার্ম নেই। দরকার হলে নিজেরা মরে যাবে, তবু নির্দোষের রক্ত ঝরানো যাবেনা।
উদাহরণ লাগবে? উদাহরণ ছাড়াতো কেউ আবার কারোর কথা পাত্তা দেয় না।
উসমান (রাঃ) শহীদ হয়েছিলেন তখনকার ইরাক অঞ্চল থেকে আসা একদল উগ্রপন্থী, মূর্খ বিদ্রোহীদের (ইসলামের প্রথম জঙ্গি সংগঠন) হাতে। এরা ছিল নব্য মুসলমান, অবশ্যই জ্ঞানে-অভিজ্ঞতায় খালি কলসি এবং ভীষণ কট্টর। তারা কিনা সাহাবীদের ইসলামিক জ্ঞানে ভুল খুঁজে বেড়াতো।
যাই হোক। খলিফা উসমানকে (রাঃ) নিজেরই ঘরে ওরা ঘেরাও করে গৃহবন্দী করে রেখেছিল। আলী, সাদ, তালহা সহ অন্যান্য মেজর সাহাবীরা বলছিলেন খলিফা অনুমতি দিলেই ওদের প্যাদিয়ে দূর করা হবে।
আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ খলিফার একটাই কথা, "আমার হাতে কোন ভাইয়ের রক্ত ঝরবে না। হোক সে বিদ্রোহী।"
এবং যথাসময়ে জঙ্গিরা উসমানকে (রাঃ) "সহীহ মুসলিম নয়" অভিযোগে হত্যা করে পালিয়ে গেল।
এবং মুসলিম বিশ্ব ফুঁসে উঠলো।
সবাই খলিফা উসমানের রক্তের বদলা চায়।
আলী (রাঃ) হলেন নতুন খলিফা। কিন্তু আলী (রাঃ) কোন ব্যবস্থা নিলেন না। কেন?
"বিচার অবশ্যই করবো। কিন্তু যারা হত্যা করেছে আমাকে তাদের নাম দাও। দশ বারোজনের কারনে পুরো গোষ্ঠীর মৃত্যুদন্ড শরীয়ায় নেই।"
এই নিয়ে জল অনেক ঘোলা হলো। ব্যাটেল অফ জামাল নামের অত্যন্ত মর্মান্তিক যুদ্ধ সংগঠিত হলো। শহীদ হলেন তালহা (রাঃ), শহীদ হলেন জুবায়ের (রাঃ)। শহীদ হলেন আরও হাজারো সাহাবী।
কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একটি নির্দোষকেও হত্যা করা হলো না।
কারন?
আলী (রাঃ) শৈশব থেকে নবীজির (সাঃ) বাড়িতে বড় হয়েছেন। তিনি জানেন একের দোষে গোষ্ঠীকে শাস্তি দেয়া নবীজির (সাঃ) নির্দেশ নয়। ইয়াসিরকে দুইভাগ করে হত্যা করা হলো, নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো সুমাইয়াকেও। তারপরেও নবীজি (সাঃ) আবু জাহেলের অপরাধে তার গোষ্ঠীর কাউকে শাস্তি দেননি। আমরা খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেই গোষ্ঠী থেকেই পেয়েছিলাম।
অতএব, ইনানো বিনানো বন্ধ করুন। আপনার সন্তানকে, আপনার বন্ধু বান্ধবকে জানান যে ইসলাম কোন অবস্থাতেই নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরানো সাপোর্ট করেনা। "সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করা, হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ।"
সেই মৃত অফিসারটি এবং তাঁর সাথে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যান। আপনার জেনুইন সমমর্মিতা প্রদর্শন করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে মানুষের সাথে মানুষের মতন মিশতে শুরু করুন। ঈদের দিনে অফিসে মিষ্টি নিয়ে কলিগদের খাওয়ান। নিজের বাড়িতে দাওয়াত দিন। প্রতিবেশীর হক আদায় করুন। ছেলেমেয়েদের শেখান কিভাবে আপনার ধর্মই সবাইকে মিলেমিশে থাকতে শিখিয়েছে।
কে জানে, কথা বলতেই বলতেই একজন ভাবি জঙ্গিকে আপনি মানুষ বানিয়ে ফেলবেন!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:৩৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×