একবার একটা ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে কিছু একটা লিখেছিলাম। Hafiz M Ullah ভাই সেটা নিজের ওয়ালে শেয়ার করলেন। এক মহিলা সেখানে এসে মন্তব্য করলেন, "যে যাই বলুক, রাত বিরাতে যে সমস্ত মেয়েরা ছেলে বন্ধুদের সাথে বেলেল্লাপনা করতে যায়, তাদের ধর্ষণ না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। আমার কোন সিম্প্যাথি নেই ওদের প্রতি। ওরা সেটাই পেয়েছে যা ওরা ডিজার্ভ করে।"
আমার সমস্যা হলো ফাত্রামি কথাবার্তা শুনলে মেজাজ গরম হয়ে যায়। এবং প্রায়ই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনা। কাজেই লিখে দিলাম, "আন্টি, আপনি নিজে কিন্তু ইসলামী শরিয়া মোতাবেক পর্দানশীন নন। এখন কেউ যদি এই অজুহাতে আপনাকে ধর্ষণ করে ফেলে, এবং আমি বলি যে যেহেতু আপনি পর্দা করেন নি, কাজেই আপনাকে ধর্ষণ জায়েজ ছিল। তখন আপনার কেমন লাগবে?"
মহিলা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। "মুখ সামলে কথা বলো বেয়াদব কোথাকার!"
আমি তখন লিখলাম, "আপনি exact এই কথাটিই ঐ মেয়েগুলোকে নিয়ে লিখেছেন। আপনি নিজের মুখ সামলাম, আমারটা আপনাতেই সামলে যাবে।"
মহিলা এইবার ঐ ভাইকে হুমকি দিলেন।
"আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে এইসব বেয়াদব লোকজন থাকে কিভাবে? আপনি এখুনি ব্যবস্থা না নিলে আমি আপনাকে আনফ্রেন্ড করতে বাধ্য হবো।"
চরম আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম Hafiz ভাই কী জবাব দেন সেটা দেখতে।
তিনি বিনীতভাবে লিখলেন, "আপনার সাথে আমার পরিচয় অনেকদিনের এই কথা সত্য, তবে এই বিষয়টিতে আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। আপনাকে কষ্ট নিতে হবেনা, আমিই আপনাকে আনফ্রেন্ড করে দিচ্ছি। ধন্যবাদ।"
ধন্যবাদ হাফিজ ভাইকে। তিনি ক্যানভাসের আদর্শ ধারণ করেছেন।
লেখালেখিতে এই একটা কাজ হয়, অনেকের মানসিকতাই পাল্টে যায়। দেখতে খুব গর্ব বোধ হয়।
গেল উইকেন্ডে একটা অসভ্য জানোয়ার ধর্ষণ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লো। রাস্তার পাবলিক যে শাস্তি দিয়েছে, ঠিকই আছে। কোলে তুলে জেলে ভরে দিলে বেরিয়ে এসে আবারও এই কাজটা করতো। রাত না হয়ে দিনের আলোয় ন্যাংটা করে ছেড়ে দিলে আরও ভাল হতো।
তবে এরপরে বাঙালি যে কাজটা করেছে সেটা অসভ্য ইতর জানোয়ারেরাও করেনা। প্রমান করে ছেড়েছে জাতি হিসেবে আমরা কতটা বর্বর।
ফেসবুকে তার প্রোফাইলে ঢুকে তার বৌকে ভার্চুয়াল ধর্ষণ করেছে। এক হারামজাদা শ্রেণীর চতুষ্পদকে দেখলাম একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে লিখেছে, "এইটা তার বৌয়ের নম্বর, এই নম্বরে ডায়াল করুন।"
এক নারী তখন এসে পাল্টা কমেন্ট করলেন, "না, ওটা না, এইটা হচ্ছে আসল নম্বর। আমি এই নাম্বারে ডায়াল করেছিলাম, মহিলা উল্টো গালিগালাজ করে রেখে দিয়েছে।"
সবাই এখানে এক্সপার্ট পরামর্শক।
"অবিলম্বে এই জানোয়ারকে তালাক দিন।"
"তালাক কোন সমস্যার সমাধান না। আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।"
আরে বাহ্! এত এত বিজ্ঞ জ্ঞানী এক্সপার্ট লোকজন ফেসবুকে কেন নিজেদের প্রতিভা নষ্ট করছেন? এমন দেশরত্নদের আমরাই ব্যবহার করতে পারছি না। আফসোস!
এরপর জানা গেল আসলে গাড়ির ভিতরের মেয়েটা ছিল একজন যৌনকর্মী। রাস্তা থেকে তুলে এনে দামদর করে না পোষানোর আমাদের বীর পুরুষ প্যান্ট খুলে মহিলার উপর চড়াও হয়েছিলেন।
ব্যস, এই তথ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির নিজের চেহারা বেরিয়ে আসলো।
"আসলে ছেলেটা ঘটনার শিকার। বেশ্যার আবার ইজ্জত কী? ধর্ষণ কী? ব্লা ব্লা ব্লা।"
"No" means "No" এই সহজ কনসেপ্টটা এদের কারোর মাথায় ঢুকবে না।
কাজেই এইবারও সহজ উদাহরণ দেই। দেখুন বুঝতে পারেন কিনা।
ধরুন আপনি খাবার বেচা কেনা করেন। একপ্লেট বিরিয়ানি আপনি একশো টাকায় বেঁচেন। একজন গুন্ডা এসে দাবি করলো দশ টাকায় একপ্লেট বিরিয়ানি দিতে হবে।
আপনি বললেন আপনার লস হবে। কোন অবস্থাতেই আপনি নব্বই টাকার নিচে নামতেই পারবেন না।
কিন্তু গুণ্ডাটা এরপরেও নিজের শক্তি প্রয়োগ করে আপনার বিরিয়ানি খাওয়া শুরু করে দিল।
এইটা কী অন্যায়? সাধারণ পয়েন্ট অফ ভিউতে অবশ্যই অন্যায়। এটি ছিনতাই এবং ডাকাতি দুইটাই। পুলিশ ডেকে গুন্ডাটাকে শাস্তি দেয়া উচিৎ। পুলিশ না আসলে জনগণ মিলে একটা গণধোলাইয়ের ব্যবস্থা করাই উচিৎ।
একদল শূকরমুখো মানব সন্তান যদি এইবার বলতে শুরু করে, "রেস্টুরেন্টতো আছেই খাবারের জন্য। সেখানে খেয়েছেতো অন্যায় কী করেছে?"
এই ছাগলগুলো বুঝতেই পারছেনা যে ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে একটা কনট্র্যাক্ট হয়, এত টাকা দিলে তবেই তুমি এই প্রোডাক্ট পাবা, নাহলে নয়। এখানে সেই কনট্র্যাক্টই ভঙ্গ করেছে গুণ্ডাটা।
তেমনি বেশ্যাদের সাথেও তাদের ক্লায়েন্টদের কনট্র্যাক্ট হয়। এবং যদি সেই কনট্র্যাক্ট/চুক্তিতে কেউ রাজি না হয়ে জোর করে তাঁর শরীর পেতে চায়, তাহলে কেবল বাংলাদেশ দন্ডবিধিই না, বিশ্বের যেকোন সভ্য দেশের দন্ডবিধির সংজ্ঞানুসারে, সেটাই ধর্ষণ। শুধু বেশ্যা রমণীই নয়, কোন নাইটক্লাবে কোন মেয়েকে মাতাল অবস্থায় পাবার পরে নিজের ঘরে নিয়ে যাবার পরে তাঁর সম্মতির বিরুদ্ধে তাঁর সাথে যৌনসঙ্গম করাটাও ধর্ষণ। এমনকি, নিজের স্ত্রীও যদি রাজি না থাকেন, আপনি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর সাথে এই কাজ করতে পারবেন না।
এতে ইনানোর বিনানোর কোন সুযোগই নেই।
যারা একে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করবে, তারা নিজেরাও পটেনশিয়াল ধর্ষক। নিজেরাও এসি গাড়ির ভিতর নিজের সামনে পতিতা পেলে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
এবং যারা ঐ লোকটার স্ত্রীকে ভার্চুয়াল রেপ করছে, তারাতো রেপিস্টই। ওদের ধরে ধরে জেলে নিয়ে পুলিশি ডলা দিতে পারলে ভাল হতো।
তার আগে ঐ লোকটার মতন ন্যাংটা করে মতিঝিলের ব্যস্ত রাস্তায় চক্কর খাওয়াতে পারলে আরও ভাল হতো।
এখন কারোর কোন দ্বিমত থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখুন। শুনি কী বলেন।
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




