ইতালি থেকে একদল লোক কোন আক্কেলে দেশে গেলেন মাথায় ঢুকছে না। "মরতে হলে মাতৃভূমিতে মরবো" টাইপ কথা যে হারামজাদা বলবে, তাকে দুইটা থাপ্পড় মেরে বলা উচিৎ, দেশে যখন ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছিল, তুই তখন কোথায় ছিলি? এদেরকে বেঁধে রাখতে সেনাবাহিনী দরকার। ফাজিলগুলি হোম কোয়ারেন্টাইন আশ্বাস দিচ্ছে। প্রথম কথা, কেউই জানে না হোম কোয়ারেন্টাইন কিভাবে ফলো করতে হয়। এবং কেউ যদি জানেও, সে মানে না। বাংলাদেশে আমেরিকা সহ অন্যান্য করোনা প্রবন অঞ্চল থেকে যেসব বেয়াক্কেলগুলি এই মুহূর্তে দেশে যাচ্ছে, তারা নিজেদের গৃহবন্দী করার পরিবর্তে বাজারে গিয়ে যার সাথেই দেখা হচ্ছে, হাগাহাগি (কোলাকুলি) করছে। দেশে যদি করোনা না ছড়ায়, তাহলে সেটা হবে দ্বাবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিরাকল।
আমাদের স্কুল কলেজ এখনও চালু আছে। অদ্ভুত! কাবা শরীফ যেখানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে চালু হয়েছে, সেখানে এমনই শিক্ষাপ্রিয় জাতি আমরা যে স্কুল কলেজ ঠিকই চালু রেখেছি। শুনছি অমুক তমুক স্কুলে দুয়েকটা ছাত্রছাত্রী ধরা পড়ছে যাদের কাশি, জ্বর, সর্দি ইত্যাদি লক্ষণ টের পাওয়া যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কি করছে জানেন? খুব বেশি হলে অসুস্থ ছাত্রকে স্কুলে আসতে বারণ করে দিচ্ছেন। কিন্তু স্কুল কার্যক্রম ঠিকই চালু রেখেছেন। মানে সময় মতন পরীক্ষা ঠিকই হচ্ছে। তা কোন ছেলে/মেয়ে পরীক্ষা না দিয়ে স্কুল লাইফে পিছিয়ে থাকতে চাইবে? কমন সেন্স কী বলে?
এই ক্ষেত্রে বাইরের দেশে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়, সেটার একটা উদাহরণ দেই কেবল। আমাদের পাশের শহরে এক বাচ্চার করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। সেই স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে আস্ত স্কুল ক্যাম্পাস স্যানিটাইজ করা হয়েছে। আমাদের স্কুলগুলো কেমন সেটা সম্পর্কে একটু উদাহরণ দেই। কয়েক একর জমির উপর বিশাল বিশাল বিল্ডিং থাকে। যেখানে ক্লাসরুম ছাড়াও থাকে জিম, ইনডোর আউটডোর খেলার ব্যবস্থা, থাকে ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি, বিভিন্ন অফিস কক্ষ, কনফারেন্স রুম, অডিটোরিয়াম ইত্যাদি ইত্যাদি। স্যানিটাইজ করা মানে কেবল পানি আর ন্যাকড়া নিয়ে ঝাড়ামোছা না সেটা নিশ্চই বুঝতে পারছেন। একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একটি মাত্র ছাত্রের জন্য। তাঁরা তাও গিয়েছেন এবং অন্যান্য সব স্কুলেও তাই যাচ্ছেন। পটেনশিয়াল করোনা রোগীর "সম্ভাবনা"কেও এরা জীবন মরনের ব্যাপার হিসেবে ধরে নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আর আমাদের দেশের মানুষেরা একদম গাছাড়া অবস্থায় আছেন। অফিস, স্কুল, কলেজ সব চালু রেখে সরকার বলছে "গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন।" "প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরুবেন না।" মানে, মাথার মধ্যে গোবর ভরা থাকলেওতো এমন বিপরীতমুখী কথা কেউ বলতো না।
স্কুলের বাচ্চাদের অভিভাবকগন, যাদের বাচ্চারা প্রাইভেট স্কুলে পড়ছেন, তাঁরা একজোট হয়ে প্রিন্সিপালকে চাপ দিন স্কুল বন্ধ ঘোষণা করতে। ব্যাপারটা আপনার বাচ্চার, আপনার নিজের এবং আপনার বাবা মায়ের জীবনের প্রশ্ন। আজকে চুপচাপ বসে থাকলে, পরবর্তী পরিণতির জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন।
আর সরকারি স্কুল/কলেজে যারা পড়ছেন, তাঁদের আল্লাহ ভরসা। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পরীক্ষা পেছানো বা স্কুল কলেজ বন্ধের ঘটনা আমাদের জীবনে প্রায়ই ঘটে। তাই আপনারা ঐ পদক্ষেপ নিতে পারেন।
অফিসে যারা কাজ করেন, তাঁরা ব্যবস্থা নিতে বলুন যাতে বাড়ি থেকে কাজ করতে পারেন।
ভিড় কমান। রাস্তায় ভিড় কমান। এই মুহূর্তে এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র কার্যকর পথ হচ্ছে মানুষের থেকে দূরে থাকা।
কেউ অসুস্থ হলে তামাশা দেখতে যাবেন না। দূরে থাকুন। দোয়া করুন তাঁর জন্য।
জুম্মা বা অন্যান্য যেকোন নামাজ বাড়িতে পড়ুন। হারাম শরীফের ঈমামরা ঘোষণা দিয়েছেন, যে এই ভাইরাসে অসুস্থ, তাঁর জন্য জামাতে যাওয়া হারাম! কারন এর ফলে সে অন্যদের অসুস্থ করবে। আর এমনতো না যে বাড়িতে নামাজ পড়লে সেই নামাজ কবুল হয়না। বরং দুর্যোগের দিনে বাড়িতেই নামাজ আদায় উত্তম।
দাওয়াত বন্ধ করুন। দেশে বিদেশে বাঙালি জনতা দয়া করে দাওয়াত দেয়া ও দাওয়াত খাওয়া বন্ধ করুন। আমাদের দেশের শিক্ষিত লোকজনও বুঝেনা ফ্লু হলে কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়। গর্ভবতী নারী আছেন, এমন অনুষ্ঠানে দিব্যি ফ্লু নিয়ে হাজির হয়ে যান। বলে, "ওষুধ খেয়ে এসেছি।" এই ছাগলগুলিকে কে বুঝাবে ওষুধ খাবার পরেও, এমনকি নিজে সুস্থ হবার পরেও ফ্লু ছড়ায়। গর্ভের সন্তানের জন্য যা মারাত্মক ক্ষতিকর। আমার এক ভাগ্নির বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, বন্ধুবান্ধবরা নিজেদের বাড়ির অনুষ্ঠান ক্যানসেল করছেন। যারা করছেন না, তাঁদের অনুষ্ঠানে যাবেন না। প্লিজ! একবেলা পোলাও কোর্মা না খেলে মরে যাবেন না। সুস্থ থাকুন।
বাংলাদেশ সরকার এখনও এয়ারপোর্ট লকডাউন কেন করছেন না বুঝতে পারছি না। আমাদের দেশপ্রেমিক বেয়াক্কেল প্রবাসীরা দেশের প্রতি দরদ দেখাতে এখন দেশে গিয়ে রোগ ছড়াবে। এইরকম স্বার্থপরতা আমি আর কোথাও দেখিনি। এগুলিকে ঠ্যাকানোর একমাত্র উপায়, এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দেয়া। যে দেশে করোনা নাই, সেই দেশেরও কেউ যেন আসতে না পারে।
নবীর হাদিস মনে রাখুন, "মহামারী আক্রান্ত অঞ্চল থেকে কেউ বাইরে যাবে না, কেউ মহামারী আক্রান্ত অঞ্চলে যাবে না।" - যেই নবীর জন্য আমরা জীবন দিয়ে দেয়ার দাবি করি, তাঁর স্পষ্ট নির্দেশনা এইভাবে অমান্য করি কিভাবে?
আমাদের সরকারের উপর যারা এতদিন ভরসা করে বসে ছিলেন, তাঁদের জন্য একটি দারুন সুসংবাদ দেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিংয়ের চৌম্বক অংশ হচ্ছে এইটা, "কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে বাংলাদেশ আড়াই মাসের মতো সময় পেয়েছে। এতদিনেও কেনও কোনও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করার মতো ব্যবস্থা করতে পারলো না বাংলাদেশ, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থা তো হয়েছেই। হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে আমরা হোম কোয়ারেন্টাইনের যে ব্যবস্থা নিয়েছি সেটা কোনও দেশই নেয়নি।’ বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী চেয়ার ছেড়ে উঠে যান।"
খুব মজা না? দেন তালি!
"করোনায় কিছু হয়না, চাইনিজরা মরে নাই, আমরাও মরবো না" - টাইপ কথাবার্তা বলার আগে মাথায় রাখা উচিৎ, চীনারা কমিউনিস্ট দেশ। ওদের সংবাদপত্রে সেটাই ছাপানো হয়, যেটা ওদের সরকার ছাপতে বলে। আসল সংবাদ জানতে হলে ইটালির দিকে তাকান, ইরানের দিকে তাকান, আমেরিকা, ফ্রান্সের দিকে তাকান। করোনা কোনই করুনা দেখাচ্ছে না। সবাইকে গণহারে মারছে। অতি আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পরেও। ও আচ্ছা, একটা ভাল পয়েন্ট মনে পড়লো। বিদেশে চিকিৎসা করা ডাক্তার, নার্সদের পোশাক দেখেছেন? যেন একেকজন স্পেসস্যুট পরে হসপিটালে ঢুকছেন। আমাদের ডাক্তারদের এই পোশাক আছে? নেই। ওদেরকে গ্লাভস এবং মাস্ক দিলেও সুবহানাল্লাহ বলতে হবে। এত দামি জীবাণুরোধক পোশাকের পরেও ডাক্তার, নার্সরা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন, বাংলাদেশের ডাক্তারদের কী হবে? সামনে আসছে ডেঙ্গু, গতবারের চাইতে এইবার আরও শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানার কথা। তখন? মন্ত্রী মিনিস্টার এবং তাদের চ্যালারা কেউ কি কিছু বলবেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২০ রাত ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


