আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষায় "সামান্য সর্দি-জ্বরের মতন রোগে" শেষ পর্যন্ত একজন মারাই গেলেন।
সত্তরোর্ধ ব্যক্তি ছিলেন, হার্টে সমস্যা ছিল, কিডনিতে সমস্যা ছিল, এইটা ছিল, ঐটা ছিল, কিন্তু বেঁচেতো ছিলেন। ভাইরাসটি সংক্রমণের কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি শেষ। তাঁর পরিবার আর কখনই এই লোকটিকে ফিরে পাবে না।
দায়ী কে?
লক্ষীপুরে লাখ খানেক দ্বিপদী প্রাণী (কেউ কেউ ওদের "মানুষ" বলতে পারেন, আমার মনে হয় না ওরা এই সম্মান দাবি করে) জমায়েত হয়ে আল্লাহর কাছে করোনা থেকে মুক্তি চেয়ে মোনাজাত করেছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এমন হয়ে গেল যে, আল্লাহ বারবার নিষেধ করেছেন মদ আর শূকর খেতে, কিন্তু ওনারা বিসমিল্লাহ বলে শুয়োরের মাংস দিয়ে ডিনার সেরে পেট ভরে মদ খেয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। যেখানে মহামারীর সময়ে আল্লাহর রাসূল (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন ভিড় থেকে আলাদা থাকতে, যেখানে নবী (সঃ) স্পষ্ট বলে দিয়েছেন কুষ্ঠ রোগী (ছোঁয়াচে রোগ) দেখা মাত্র তাঁর থেকে সেভাবে দূরে সরে যেতে যেমনটা সবাই সামনে সিংহ দেখলে পালায়, সেখানে এইসব কিউট জনতা লাখ মানুষের সমাগম করে ফাজলামি করলো। একজনেরও যদি এই রোগ থাকে, তাহলে আর দেখতে হবেনা।
কক্সবাজারে লোকে বেড়াতে গেছে আল্লাহ ভরসায়, কারন ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে লাভ নাই, এরচেয়ে ভাল "এঞ্জয়!"
সরকার কিছু বলবে? কেন বলবে? কোন অধিকারে? ওরা নিজেরাইতো আসল গন্ডগোল বাঁধিয়েছে। লাখে লাখ মানুষকে রাস্তায় বের করে এনে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। কোটি টাকার আতশবাজি পোড়ানো হয়েছে।
করোনা হটলাইনে কল করলে পাওয়া যায়না, হাসপাতালে গেলে রোগী ফিরিয়ে দেয়া হয়। বলে আগে ফোন করে আসতে। আবারও ফোনে লাইন পাওয়া যায় না। তাও ভাল, অ্যাপ এবং ইমেইলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেটা আগে থেকে করলে কি হতো? আড়াইটা মাস সময় ছিল হাতে। আগে থেকে কেউ অনুমান করতে পারেনি আমাদের দেশে এই রোগ প্রবেশ করলে "পর্যাপ্ত" সাপোর্ট দরকার? তখন চিল্লায়ে মন্ত্রী মিনিস্টাররা বলতো, "আমরা করোনা ভাইরাসের জন্য প্রস্তুত!" এই হচ্ছে প্রস্তুতির নমুনা।
একজনের আব্বা শুনলাম মারা গেছেন নিউমোনিয়ায়। আরও অনেকেই মরবেন নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি রোগে। করোনা টেস্ট করবেন যে কিটইতো নাই। বুড়োরা মরে সাফ হয়ে যাবে। যুবক যুবতীদেরও অনেকেই মারা যাবেন। কেউই করোনায় মরবেন না।
একদিন মহামারী কেটে গেলে পরে হিসেব দেয়া হবে গোটা বিশ্বের সব দেশে থেকে বহু মানুষ মারা গেলেও বাংলাদেশে দশজন রোগীও মরেনি, অথচ জনসংখ্যা থেকে বহু মানুষ গায়েব হয়ে যাবেন।
বলে লাভ নাই। বললে বলবেন আতংক ছড়াচ্ছি। থাকিতো বিদেশে, দেশকে আতঙ্কিত করে লাভ কি। মাথার ব্রেনটা একটু এপ্লাই করলে বুঝতেন আতঙ্কিত করা আর সাবধান করার মাঝে পার্থক্য কতটা। বুঝতেন ছোঁয়াচে রোগ, যেটা ছয় ফিট পর্যন্ত radius এর সবাইকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রাখে, সেটার ব্যাপারে সাবধান করার পরেও আমাদের জাতির লোকজন টুরিস্ট স্পটে ফূর্তি করতে যায়। প্যানিক করতে না বললে না জানি কি করতো।
ইউরোপের অবস্থা, আমেরিকার অবস্থা দেখছি বলেই বলছি, ওরে বাঙালি, সাবধান হ! সময় থাকতে সাবধান হ!
মহাবিপদে নিজেকে নিয়ে, নিজের পরিবার, আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন? ভয় পান। এটাই সাধারণ মানুষের আচরণ। তাহলেই সাবধান হতে পারবেন। তাহলেই ব্যবস্থা নিবেন যাতে এই রোগ কোন অবস্থাতেই আপনার বাড়িতে না আসে, বা আপনার বাড়ি থেকে বাইরে না বেরোয়।
আর যদি "ভয় পাইনা, প্যানিক করিনা, যা হবার হবে" জাতীয় কথাবার্তা বলে গায়ে ফু দিয়ে বেড়ান, অন্যের মাঝে ছড়িয়ে বেড়ান, তাহলে বুঝতে হবে মাথায় মগজের পরিবর্তে চারপেয়ে প্রাণীর মস্তিষ্ক ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


