somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরুষ দিবস, নারী দিবস, বৃদ্ধ দিবস, শিশু দিবস, হিজড়া দিবস

২১ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের ছোটবেলা থেকে আব্বু আম্মু একটা শিক্ষা মাথায় ঢুকিয়ে বড় করেছেন, তাঁরা যা সম্পত্তি রেখে যাবেন, সব বোনাস হবে, কিন্তু আমাদের আসল সম্পদ আমাদেরকেই গড়তে হবে। যে কারনে অন্যের সম্পদতো দূরের কথা, নিজের বাবা মায়ের সম্পত্তির ব্যাপারেই আমরা তিনভাই বোনই উদাস হয়ে বড় হয়েছি। গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি কে ভোগ করছে, কোনটা বেদখল হয়েছে সে হিসাব আমাদের নেই। গ্রামে যাইনা দুই দশকের বেশি সময়তো হয়েছেই। শহরের সম্পত্তিরও বেশ কিছু বেদখল হয়ে আছে বহুদিন ধরে। আইনি লড়াই লড়া যায়, ফল হবে না কিছুই। বছরের পর বছর উকিল আর কোর্টের ফিসই দেয়া হয়ে কেবল। আর ওসব পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে খুন হবার কোন শখ আমাদের কারোর নেই।
গ্রামের যা সম্পদ আছে, ছোটচাচাকে বললাম সব বেঁচে পারলে বড় চাচার ছেলেকে দিয়ে দিতে, অথবা কাজিনদের মধ্যে যদি কারোর প্রয়োজন আছে, তাঁদের দিতে। মাশাল্লাহ, এই সংখ্যা খুবই কম। যে যার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
তা এই শিক্ষার সমস্যা আছে? অবশ্যই আছে। বাবা মা পুরো জীবনভর খাটাখাটুনি করে যা গড়েছেন, তা অন্যে ভোগ করে ফেলছে, অথচ আমরা সেগুলো উদ্ধারের কোন তাগিদ অনুভব করছি না। নিঃসন্দেহে এটি খুবই বাজে অভ্যাস।
আবার, এই শিক্ষার ফলেই আমরা অন্যের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকি না। বিয়েতে কোন ভাই "যৌতুক" নেই নাই, "উপহার" হিসেবে শ্বশুর বাড়ি থেকে টিভি ফ্রিজ ফার্নিচার ইত্যাদি কিছুই না। বিয়েও করেছি এমন এক মেয়েকে যে নিজের খরচের জন্য কারোর কাছে হাত পাতায় সংকোচ বোধ করে। এমনকি আমার কাছেও হাত পাতেনা। নিজের উপার্জনে সে স্বয়ং সম্পূর্ণ। আমার শ্বশুর তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির নব্বই শতাংশ তাঁর ভাইয়ের নামে লিখে দিলেন। উড়ো খবর শুনেছি এতে নাকি আমার চাচা শ্বশুরের হালকা চাল ছিল। ফ্যামিলি পলিটিক্স যাকে বলে। তিনিই নাকি ভাইকে ভুজুং ভাজুং দিয়ে সিংহভাগ নিজের নামে লিখিয়ে ফেলেছেন।
যদিও কথাটি আমার শ্বশুর মানতে রাজি নন। নিজের ভাইকে স্নেহ করেন বলেই।
আমার বৌকে উল্টো বললাম পুরোটাই যেন লিখে দেন। প্রথমত, শুধু শুধু গ্রামের সম্পত্তি রেখে লাভ নেই। ওরা গ্রামে থাকেন, ওরাই ভোগ করুন। না আমরা কখনও যাব, না আমাদের সন্তানরা যাবে। আর দ্বিতীয়ত, উনারা এমনিতেও ভোগ দখল করবেন। মাঝে দিয়ে শুধু শুধু দাবি ধরে রাখার কোন মানে হয়না। বরং ১০০% হালাল উপায়েই ভোগ করুন। যদি কোন প্রয়োজনে বিক্রি করতে চান, তখনও যেন কোন ঝামেলা না হয়।
আমার বৌও বাবাকে সেটাই বুঝায়। গ্রামের ঐ সম্পত্তির আমাদের কারোরই প্রয়োজন নেই। আশা করি শ্বশুর সাহেব একদিন বুঝবেন ও পুরোটাই লিখে দিবেন।

পাঁচশো ডলার হাতে নিয়ে এই দেশে এসে পরিশ্রম ও পড়ালেখা করেছি। চাকরি হারিয়ে বেকারও থেকেছি কয়েকমাস। এমনও দিন গেছে যে শুধু সিরিয়াল খেয়েছি সকাল দুপুর ও রাতে, তবু কারোর কাছে হাত পাতিনি। কে দাওয়াত দিল না, কে খাওয়ালো না, কে কেন সাহায্য করলো না ইত্যাদি ধরাধরি করিনি। আল্লাহ আমাকে পরিশ্রমের সামর্থ্য দিয়েছেন, যাবতীয় সমস্যাকে নিজের আলসেমির উপর দোষ দিয়েছি।

মাশাল্লাহ এখন দিন পাল্টেছে। দোয়া করি এমন থাকবে আগামী দিনগুলো।

যে কারনে এই কথাগুলো লিখলাম, তা হচ্ছে, যৌতুক প্রথাটাই ছ্যাচড়ামি একটা প্রথা। অন্যের সম্পত্তির দিকে লোভাতুর দৃষ্টি থাকে কিছু কুলাঙ্গার ছ্যাঁচড়া, ফকির মিসকিন হাভাইত্যা স্বভাবের লোকজনের। এদের হা এত বড় থাকে যে যতই খাওয়াবেন, হা ততই বড় হবে। সরকার যৌতুকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন জারি করার পরেও এটি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছেনা কেবলমাত্র আমাদের সামাজিক/পারিবারিক শিক্ষার কারণেই। নিজের পরিশ্রমে ভরসা না করে অন্যের উপার্জনে কোটিপতি হবার ধান্দা করা ধান্দাবাজদের কারনে। এরা ছোটবেলা থেকে এই শিখে বড় হয় যে বিয়ের পরে বাড়িতে নতুন ফার্নিচার আসবে, টিভি এসি ফ্যান আসবে। নগদ টাকাও আসবে। এদের থেকে পথের ফকিরও ভাল। অন্ততঃ সে কারোর উপর জুলুম করে না। উপার্জনের সামর্থ্য না থাকলে যে থালা হাতে রাস্তায় নেমে ভিক্ষা করে। ওদের চেয়ে বেশ্যাও ভাল। নিজের শরীর বেঁচে খায়, অন্যের হক মারে না।

এখন অনুভূতিকে অবস করে পুরুষ দিবস, নারী দিবস, বৃদ্ধ দিবস, শিশু দিবস, হিজড়া দিবস ইত্যাদি দিবস টিবস পালন করতে থাকেন, এদিকে যৌতুকের কারনে একই দেশে কোন স্বামী ওর স্ত্রীর যোনিপথে আগুন ধরিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফোন দিয়ে ব্যাটাগিরি দেখাতে থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×