পাকিস্তান আমলের একটা ঘটনা বলি। সত্য ঘটনা। কারোর যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে সে যেন গবেষণা করে আমাকে মিথ্যা প্রমান করে।
৭১এর যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন অস্ত্রহাতে বীর পাকিস্তানী সেনারা ভারতীয় এজেন্ট, পাকিস্তানের শত্রু বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চারিদিকে তখন রক্ত আর রক্ত। ইসলাম রক্ষা, পাকিস্তান রক্ষার নামে খুন করা হয় হাজারে হাজার বাঙালিকে।
সাথে চলে নারী ধর্ষণ। বিকৃত যৌনচাহিদা মেটাতে বাঙালি নারীদের উপর চলে পাশবিক নির্যাতন।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য, বাংলা অঞ্চলটা পশ্চিম পাকিস্তানের অঙ্গ হলেও পাকিস্তানি সেনাদের কাছে এটি ছিল বিদেশভূমি, কারন সেনাবাহিনীর মোটামুটি সবাই পশ্চিম পাকিস্তানী। ওদেরকে পথঘাট, মানুষ ইত্যাদি চিনিয়েছে স্থানীয় বাঙালিরাই, যাদের আমরা রাজাকার বলি। এলাকায় "জয় বাংলার" লোক কে কে আছে, হিন্দু বাড়ি কয়টা আছে, কে কোথায় পাকিস্তানের বিপক্ষে কথা বলেছে, কার যুবতী মেয়ে আছে, কার যুবক ছেলে আছে - ইত্যাদি সব তথ্য দিয়েছে এই রাজাকাররাই। শুধু তাই নয়, কাউকে উঠিয়ে আনার পবিত্র দায়িত্বও ওরা খুশি মনে পালন করেছে।
তা দীর্ঘ আট মাস যুদ্ধ চলা শেষে ভারত সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় ডিসেম্বরের ৩ তারিখ।
ইন্ডিয়ার তাড়া ছিল। দুই সপ্তাহের মধ্যেই ঝামেলা মিটিয়ে দিতে চাচ্ছিল। নাহলে জাতিসংঘে এ নিয়ে বাহাস উঠবে এবং আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে ভারতীয় সেনা বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা পেয়ে যৌথ বাহিনী একের পর এক পাক শিবিরের পতন ঘটাতে থাকে। অবিশ্বাস্য গতিতে মুক্ত হতে থাকে বাংলা। পাকিস্তান বুঝে যায় পূর্ব পাকিস্তান ওদের হাতছাড়া হতে চলেছে। ওরা তাই মরণ কামড় বসায়। বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু হয় তখন। এবং এখানেও ওদেরকে সহায়তা করে রাজাকার, আলবদর, আশশামস বাহিনী। ওদের লয়াল্টি তখনও দেখার মতন। ওরা জেনে গেছে, যে পাপ ওরা গত নয় মাসে করেছে, দেশ স্বাধীন হলেই তাদের খবর আছে। বরং ওদেরকে হতে হবে "In Yahya, we trust!" লেভেলের ফলোয়ার। ওরা সেটাই করেছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এতকিছু করার পরেও মুক্তিফৌজের তাড়া খেয়ে যখন পাকবাহিনী ঢাকার দিকে পালাচ্ছিল, তখন রাজাকাররা দৌড়ে সেসব মিলিটারি গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছিল। পেয়ারা পাকিস্তানী সেনারা তখন মিলিটারি বুটের জোরালো লাথি দিয়ে ওদেরকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। একে ওদের নিজেদেরই ইয়া নফসি অবস্থা, তার উপর এইসব উটকো ঝামেলা নেয়ার কোন মানে আছে?
পাক বাহিনীদের সহায়তা করা রাজাকার বাহিনী বা বিহারীদের ফেলেই ওরা চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তান।
বিহারিরা এখনও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বস্তিবাড়িতে কীট পতঙ্গের মতন বেঁচে আছে।
রাজাকারদের লিডারদের দড়িতে ঝুলানোর মাধ্যমে দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
আর ওদের ড্যাডি পাকিস্তানী সেনারা? ওরা নিজেদের বাড়িতে বিছানায় শুয়ে বৃদ্ধ হয়ে মরেছে।
ইতিহাস মনে করিয়ে দিলাম যেন লোকে বুঝে, শিখে, জানে, বিবেকের ব্যবহার করে। বিশেষ করে এই সত্যটা যেন বারবার কল্পনা করে, পলায়নপর পাক বাহিনী ওদের পা চাটা রাজাকারদের মিলিটারি বুটের জোরালো লাথি দিয়ে ফেলে পালিয়েছিল।
তখন মুক্তিযোদ্ধারা যদি সুশীলতা না দেখাতো, তাহলে গ্রামবাসী সেসব রাজাকারদের কচুকাটা করতো। কয়েকটাকে করেওছিল।
জালিমের বৈশিষ্টই হচ্ছে সে নিজের স্বার্থে মাথায়, গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে। কিন্তু স্বার্থ উসুল হয়ে গেলেই গলায় ছুরি চালাতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে না।
ন্যায় এবং অন্যায়ের মধ্যকার যুদ্ধে সবসময়ে ন্যায়ের পক্ষেই থাকা উচিত। কারন ন্যায়ের পক্ষে মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৪:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



