১. ‘আমার আব্বুর কী দোষ ছিল? আব্বু শারীরিকভাবে অসুস্থ। সংঘর্ষ দেখে দোকান বন্ধ করে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। বারবার দুই হাতজোড় করে জীবন ভিক্ষা চেয়ে আকুতি করেছিলেন। তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতেও পারেন না। অসুস্থ বলা সত্ত্বেও তাঁকে কেন গুলি করে মারল? আমার আব্বুরে এখন কই পাব?’
কথাগুলো বলছিলেন ২০ জুলাই ঢাকার সাভার বাসস্ট্যান্ডে গুলিতে নিহত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কুরমান শেখের (৪৯) মেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিতু আক্তার।
২. ‘বিকেল সাড়ে পাঁচটার মতো বাজে। ছেলে সাগর ফোনে জানায়, “আব্বু আমাদের এখানকার অবস্থা ভালো না। আমাকে বিকাশে এক হাজার টাকা পাঠাও।” আমি তখন কলাম, মণিরে সাবধানে থাইকো। ফোনের কথা শেষ করেই নারুয়া বাজারে যাই। বিকাশে টাকা পাঠিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফিরতে ফিরতে টাকা পাইছে কি না নিশ্চিত হতে ফোন করি, কিন্তু ফোন আর ধরে না। তখন থেকে আমার বুকটা কেমন যেন করছিল।’
‘মাগরিবের নামাজ শেষ করে সালাম ফেরানোর সময় পকেটের ফোন বাইজা ওঠে। মনটা কেমন যেন আঁতকে ওঠে। আমার মেয়ে মুসমি ফোন করে বলে, “আব্বু বাড়ি আইসো।” বাড়ি আইসা দেখি সব এলোপাতাড়ি। কেউ কিছু বলছে না। বড় ভাইয়ের বড় জামাতা রঞ্জু এদিক-ওদিক করছে। পরে আমার এক নাতি বলছে, বাবাইর (সাগর) মাথায় গুলি লাগছে, হাসপাতালে আছে।’
কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার মিরপুর–১০ নম্বর গোলচত্বরে ১৯ জুলাই বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাগরের বাবা কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের টাকাপোড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। ছেলে সাগর আহম্মেদ (২২) মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।স্বজনেরা জানান, সাগরের বোন মুসমি নারুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। সাগরের স্বপ্ন ছিল বোনকে ঢাকায় নিয়ে কোচিং করাবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন। দুই ভাইবোন একত্রে থাকবেন। মিরপুর–১ নম্বর মাজার রোড এলাকার মেসে চাচাতো বড় ভাই সাইফুল ইসলামের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘যখনই কথা হতো তখনই সাগর বলত, “আব্বু তোমাকে আর রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করতে হবে না। চাকরি করে তোমাদের ঢাকায় নিয়ে যাব।”
৩. ১৬ জুলাই দুপুরে পুলিশের উপর্যুপরি ছোড়া ছররা গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হয়। পুলিশের গুলি ছোড়া এবং আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করেছে। দেশ ও দেশের বাইরের মানুষ এই ভিডিও ফুটেজ দেখেছে। কাউকে বলতে শুনিনি আন্দোলনকারীদের গুলি ও ইটপাটকেলে নিহত হয়েছে আবু সাঈদ।
অথচ ১৭ জুলাই পুলিশের দায়ের করা মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) এ কথাই লিখেছেন মামলার বাদী। এই ভিডিও কি মামলার বাদী দেখেননি? তিনি এমন একটি এফআইআর দিলেন কী করে?
তাহলেই বুঝেন কেমন "তদন্ত" চলছে আর কেমন "ন্যায় বিচার" পাওয়া যাবে!
তিনটা খবরই আজকের প্রথম আলো থেকে কপি পেস্ট করেছি।
শুভ সকাল!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



