আমি একটা জানালা চেয়েছিলাম.........
‘দিদুবাড়ি’...... একটা বিশাল বাড়ি আর তারচেয়েও বিশাল আমাদের স্মৃতিগুলি। স্কয়ার ফিটে কোনদিন মেপে দেখিনি বাড়িটা আসলে কত বড় ছিল। কিন্তু একেক সময় মনে হত আমাদের দিদুবাড়ির মত এত সুন্দর আর এত বড় জায়গা মনে হয় পৃথিবী তে আর নেই। যে কোন শর্তের বিনিময়ে আমাদের ‘দিদুবাড়ী’ যেতেই হত। দিদু বাড়িতে যাওয়ার জন্য টিকিট কাটা, সেই টিকিট বালিশের নিচে নিয়ে ঘুমানো, ট্রেনে কি জামা পরব সেটা রেডি করা, ট্রেনের জানালা দিয়ে শীতলক্ষ্যার পানিতে ফেলবার জন্য কাগজের নৌকা বানানো- এসব পাগলামিতে উন্মত্ত হয়ে উঠতাম প্রতিবার দিদুবাড়ী যাবার আগে। জানিনা কি কারনে করতাম সেসব পাগলামি! ভৈরব কিংবা আখাউড়া পর্যন্ত গেলেই আমরা ভাইবোনরা একজন আরেকজন কে জিজ্ঞেস করতাম, ‘গন্ধ পাও দিদুবাড়ির?’ কি উদ্ভট প্রশ্ন! অথচ বিজ্ঞের মত আমরাই জবাব দিতাম, ‘হ্যাঁ, পাই, দিদুর পানের গন্ধ পাই, দিদুর পশ্চিম দিকের ঘর থেকে আচারের গন্ধ পাই, আর দিদুর নতুন ঝাড়া লেপতোশকের ওম ওম গন্ধ পাই’।
ছোট একটা উঠান, তিনধাপ সিঁড়ি বেয়ে লম্বা বারান্দা টা, পুরানো ধুসর কাঠের সেই গেইটটা, দিদুর চিনামাটির তেতুলের আর তালমিছরির বয়মগুলো, পূর্ব দিকের চাপকল টা আর সেই রহস্যময় উঁচু বাথরুম টা কিংবা পাকের ঘরের পিছের বড় অড়বড়ি গাছ টা- যেটাই দেখতাম মনে মনে বলতাম, ‘তোর জন্যই তো আসি রে বারবার, তোরাই তো আমার দিদুবাড়ি’! কিন্তু জানিনা কেন, সব কিছুর স্মৃতি কে ছাপিয়ে সেই নীল দরজা আর জানালা গুলো আমার প্রানে এমন বেঁধে গেল কেন! সকালে হলে দিদু যখন সবগুলো নীল দরজা খুলে দিতেন মনে হত ‘এ কোন সূর্য উঠলো আজ? কোন পৃথিবীর আলো এসে লাগলো আমার চোখে মুখে?
দিদুর চলে যাবার পর যেন মৃত আগ্নেয়গিরি হয়ে গেল আমাদের ‘দিদুবাড়ী’ টা। সব স্মৃতি, সবগুলো জায়গা, প্রতিটা আনাচে-কানাচে দগদগ করে জ্বলছে কিন্তু প্রচণ্ড উত্তাপের আর ভালবাসার সেই কিংবদন্তি ‘দিদু’ তো নেই, কোথাও নেই! সেই নীল জানালা টা ধরে দাঁড়িয়ে নেই, উত্তরের ঘরে ছোট পিঁড়ি তে মাথা দিয়ে শুয়েও নেই আমার দিদু, কোথাও নেই! তারপর সেই অনন্ত শুণ্যতা টা ঠিক কিভাবে কাটিয়ে উঠলাম তাও মনে নেই, মনে রাখিনি। এরপরেও কয়েকবার গিয়েছি ‘দিদুবাড়ি’ তে। চাচাত বোনের বিয়েতে, ছোট চাচ্চুর দাওয়াতে; কিন্তু আমি জানি, আমি দেখেছি আমরা প্রত্যেকটা ভাইবোন, আমার আব্বু-আম্মু আমরা সবাই মনে মনে, চুরি চুরি চোখে খুজেছি আমার দিদু কে- রিক্সা থেকে নেমে সবাই তাকিয়েছি সেই নীল জানালাটার দিকে, উত্তরের খাবার ঘরের বিছানা তে, বার বার ব্যর্থ হয়েছে আমাদের এতগুলু চোখ। হাজার চিৎকার আর হই-হুল্লড়ে একটা কণ্ঠ কোথাও শুনিনি- “কিরে তরা খাইতেনা?” কিংবা “মাহাবুউউব, দ্যাখ্ আইয়া...”, কেউ শুনিনি।
তারপরেও বাড়িটা ছিল, স্মৃতি পাহাড় জমে ছিল বাড়িটা কে ঘিরে। ছোট চাচ্চু ঢাকায় আসলেই জিজ্ঞেস করতাম, “চাচ্চু, দিদুর বড় ট্রাংকটা আছে? আতা গাছটা কি মরে গেছে? সাক্কার মা (আমাদের একজন ভাড়াটিয়া) কি এখনও আছে? পাগল করে ফেলতাম চাচ্চু কে।
তারপর একদিন গল্পের দরজায় বাস্তবতা কড়া নাড়ল। অনেক জোরেই যেন নড়ে উঠলো আমাদের স্মৃতিময় ‘দিদুবাড়ি’টা। বড় বড় মানুষগুলো সিদ্ধান্ত নিলেন সেখানে একটা বড় আবাস হবে, মানুষের (স্বপ্নের না !!!)। বড় বড় ঘর হবে, বড় বড় গাড়ী আসবে, বড় একটা চলন্ত সিঁড়ি থাকবে। সবাই খুশি, ভীষণ খুশি। চকচকে চোখে সবাই শুধু বড় বাড়ীর বড় বড় স্বপ্নের কথা বলে! হঠাৎ করে টের পেলাম আমার চারপাশের বড় মানুষগুলো গালিভারের মত বিশাল হয়ে গেল আমার সামনে। আর আমি লিলিপুটের মত পিটপিট করে চেয়ে চেয়ে কিছুই বুঝলাম না ওদের কথা। বুঝলাম না এত বড় ‘দিদুবাড়ি’র কি হবে তাহলে? এর চেয়ে বড় বাড়ি দিয়ে ওঁরা কি করবে? স্মৃতিগুলো চাবুকের মত বিঁধে বিঁধে বিদায় নিচ্ছিল। মনে হচ্ছিলো দৌড়ে গিয়ে চিৎকার করে বলি আমার ‘দিদুবাড়ি’টা আমাকে দিয়ে দেন! আমার নীল জানালা, আমার কলের পাড়, আমার অড়বড়ই গাছটা, আমার দাদার পুরানো গন্ধের বইয়ের আলমারিটা............। চিৎকার করতে পারিনি, কিন্তু কাঁদতে পেরেছি। নতুন ইট, বালির দৈত্তকায় স্তূপের ভিড়ে আমার এত বড় ‘দিদুবাড়ি’টাকে ছোট হয়ে যেতে দেখে কেঁদেছি। আস্তে আস্তে একটা প্রকাণ্ড স্বপ্নের প্রাসাদ কে মৃত্যুবরণ করতে দেখে কেঁদেছি।
আর সবার কাছে ইনিয়ে-বিনিয়ে চেয়েছি একটা নীল জানালা, সেই নীল জানালা...............
সাদা নীল জার্সি

গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাইরে এসো
এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।
দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?
"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্পর্শে_ _ _ _ _
-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।