somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর্টেমিস ফাউলঃ ওয়েন কোলফার

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বয়স সবে ১২! কিন্তু এরই মাঝে অপরাধ জগতের এক বিস্ময় ছেলেটা। হবে না-ই বা কেন? এটাই যে তার পরিবারের ঐতিহ্য। ফাউল পরিবার অপরাধ জগতের রুই-কাতলা পরিবার। কিন্তু কালের বিবর্তনে বিপুল সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়ে বসেছে ফাউল পরিবার। সেই ফাউল পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য আর্টেমিস ফাউল এ বইয়ের প্রদান চরিত্র। বাবার অন্তর্ধানের পর থেকে একাই পারিবারিক বিষয়আশয় সামলাচ্ছে ছেলেটা। পরিবারের হৃত সম্পত্তি আবার আগের মতো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলতে চাইছে সে। আর সেজন্য অবলম্বন করবে একেবারে ভিন্ন এক পথ!

মানুষের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে এখন পাতালে বাস করে রূপকথার প্রাণী—ফেয়ারিরা। প্রযুক্তি ও জাদুকরি ক্ষমতায় মানুষের চাইতে যোজন যোজন এগিয়ে ওরা। ওদের কাছে রয়েছে ধনসম্পদের অফুরন্ত ভাণ্ডার। সেই ফেয়ারিদের একজনকে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণ হিসেবে বিপুল পরিমাণ সোনা বাগিয়ে নিতে চাইছে আর্টেমিস! কিন্তু সেজন্য প্রথমেই চাই ফেয়ারিদের আবাসস্থলের খোঁজ জানা। যে ভাবা সেই কাজ! কর্মচারী বাটলারকে নিয়ে মাঠে নেমে পড়ল ধানী মরিচ। কিন্তু ফেয়ারিদের প্রযুক্তি আর ক্ষমতা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না ছেলেটার! তাই এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়ে উঠার যোগাড় হয়ে গেল ছেলেটার এহেন হঠকারী কাণ্ডের ফলে!

ফ্যান্টাসি আমার খুব পছন্দের একটা জনরা। তাই বইটা নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেক। ওয়েন কোলফার চমৎকার দক্ষতায় রূপকথার বিভিন্ন প্রাণীগুলোকে আধুনিক পৃথিবীতে ছেড়ে দিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিসহ। আর্টেমিস ফাউল এমন একটা বই, যা ১২ থেকে ৭২—যেকোনো বয়সী পাঠকের পড়ে ভালো লাগবে, যদি তার ফান রাইডে আপত্তি না থাকে। বইয়ের কাহিনি তত গভীর না। তবে লেখকের লেখনী আর কাহিনির বুনটে টানা পড়ে ফেলা যায়—পড়তে মজাও লাগে দারুণ। গতিশীল গল্পের ফাঁকে ফাঁকে বেশ দক্ষভাবে হিউমারের প্রয়োগ করেছেন লেখক। সব মিলিয়ে সময় পার করার জন্য, পড়ে আনন্দ পাওয়ার জন্য এবং ফ্যান্টাসিপ্রেমীদের জন্যে দারুণ এক বই এটি।

যেকোনো বই-ই এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করা খুব কঠিন একটা কাজ। আর এক ভাষার হিউমার অন্য ভাষায় নিয়ে আসা তো আরও অনেক কঠিন একটা ব্যাপার। আর আর্টেমিস ফাউল -এর মূল আকর্ষণগুলোর একটি হচ্ছে এ বইয়ের হিউমারগুলো। হিউমার ছাড়া পড়তে গেলে বইটা পুরাই পানসে লাগবে। তাই হিউমার-সম্বলিত অংশগুলো রূপান্তর করা অনুবাদকের জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ ছিল! আর সেই কাজে (আমার মতে) একদম সফল অনুবাদক। হিউমারগুলো একেবারে ঠিকঠাক ধরতে পেরেছেন অনুবাদক। বোধ করি এটুকুই যথেষ্ট অনুবাদকের সাফল্য বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। চমৎকার কাজ দেখিয়েছেন অনুবাদক। বইটা দেখতেও হয়েছে বেশ কিউট—বার বার হাতে নিতে ইচ্ছা করে। ছোটখাটো মুদ্রণপ্রমাদ যে নেই তা না—তবে দারুণ গেটআপ, আর সুপাঠ্য অনুবাদের গুণে এসব ছোটখাটো ত্রুটি উপেক্ষা করাই যায়। কালেকশনে রাখার মতো একটা বই।

বইয়ের নামঃ আর্টেমিস ফাউল
লেখকঃ ওয়েন কোলফার
অনুবাদকঃ মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রকাশনীঃ আদী প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×