8ম শ্রেণীতে স্কুল বদলে আরেক স্কুলে ভালো পড়াশুনার উদ্দেশ্যে আমাকে ভতি করানো হয়। সেখানে অনেক বন্ধু বান্ধবী জুটে গেলো। আমরা একটা গ্রূপও হয়ে গেলাম দশ জনের যেখানে পাচটা মেয়ে আর পাচটা ছেলে ছিলো। সব ব্যাপারে একে অন্যকে সাহায্য করতাম। মাঝে মাঝে একসাথে ঘুরতেও যেতাম। কারণে অকারণে একে অন্যের বাসায় ঢু মারতাম। কখনও কোন বান্ধবীকে প্রেমিকা মনে হয়নি কিংবা তাদের কাছ থেকে সেরকম কোন আচরণও পায়নি । এস এস সি পাশ করার পর দলে ভাঙ্গন ধরলো। ভিন্ন ভিন্ন কলেজে ভতি হওয়ার কারণে যোগাযোগও কমে গেলো। যোগাযোগ রইলো একটা মাত্র বান্ধবীর সাথে যে কিনা আমার পাশের পাড়াতেই থাকতো।
দুজনে একই কোচিং সেন্টারে ভতি হলাম। সেখানেও আবার পাচমেয়ে আর পাচ ছেলের গ্রূপ তৈরি হলো। সবার ধারণা ছিলো আমার আর আমার পুরণো বান্ধবীর সাথে প্রেমজাতীয় একটা সম্পক রয়েছে। বন্ধুরা এ নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলই আমার সোজা উত্তর ছিলো "সম্ভব না"। সে হিন্দু আমি মুসলিম।তাছাড়া নেভি কলেজে পড়তাম বলে লেখাপড়ার প্রচন্ড চাপে প্রেম নামক আরেকটা শব্দ মাথায় ঢুকানো সম্ভব ছিলোনা।
সম্ববত তাকেও তার বান্ধবীরা এ ব্যাপারে খ্যাপাতো যারকারণে সে আমার সাথে কথা বলা একেবারেই কমিয়ে দিলো। মাসে একবার ক্লাশ পাটি হতো আর সেই সবার সামনে যে যার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারতো এমনি এক পাটিতে সে সবার সামনে ঘোষণা দিলো যে এখানে সবাইকে সে বন্ধু মনে করে এর বেশী কিছু নয়। এরপরও অবস্থা স্বাভাবিক হলোনা। আমি তার সাথেকথা না বলে থাকতে পারতাম না এবং সেও। কিন্তুকোচিং সেন্টারে কথাই বলতোনা যা বলার সোজা আমার বাসায় এসে বলে নয়তো তার বাসায় যেতে বলতো।
এভাবে চলে গেলো কিছু সময়। এইচ এস সি পরীক্ষা ও শেষ হলো। আবার দলে ভাঙ্গন। সবাই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভতি হলো যোগাযোগও কমে গেলো। সবাইকেই মিস করা শুরু করলাম কিন্তু একজনকে বিশেষভাবে। যার সাথে একদিন কথা না বললে আমার ঘুম হারাম হতো তার সাথেই যোগাযোগ নেই। সেই উপলব্দিটাকেই যদি প্রেম বলে তো সেই আমার প্রথম প্রেমে পড়া।
মাসখানেক পরে তার মোবাইলে একটা এস এম এস দিলাম "তোমার রিদয়ে একটু ঠাঁই হবে কি।"
উত্তর আসলো: "রিদয়ের দুয়ার খুলে রেখেছি শুধু তোমারই জন্য।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




