উত্তরাঞ্চলে শতবছরের এই মৌসুমী দুর্ভিক্ষ “মঙ্গা” বর্তমান সরকারের শাসন আমলে উত্তরাঞ্চল থেকে একেবারেই চির জীবনের জন্য উধাও হয়ে গেছে। এই অঞ্চলে স্বল্প আয়ের মানুষ একসময় মোটা চালের ভাত খেয়ে তুষ্ট থাকত। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ চিকন চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যাভাসে মোটা চালের ভাতের চাহিদা কমেছে। ফলে বাজারে মোটা চালের খুচরা বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এই সময় মোটা চালের বাজার মূল্য কয়েক বছর ধরে একটু বেশি থাকে। এবারে সরকার শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার মেঃটন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের আপদকালীন চাহিদা মেটাতে ৩২ টাকা কেজি দরে প্রায় ৩ লাখ টন চাল সরকার কিনে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মজুদ রাখবে। রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা বা আর্থিক অনটনে অভুক্ত মানুষ পাওয়া খুবই কষ্টকর। কেউ এক দু’দিন উপোস থেকেছে। এমন মানুষ চরে বা প্রত্যন্ত গ্রামে এখন পাওয়া যাবে না। বাজারে মোটা চালের চাহিদা হঠাৎ এই বছর কমে গেছে। হঠাৎ করে মোটা চালের চাহিদা হ্রাস পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে বাজারে মোটা চালের দামে নতুন স্বর্ণা জাতের ধানের চিকন চাল পাওয়া যাচ্ছে। এই স্বর্ণা জাতের চিকন চাল দামেও সস্তা, খেতেও মিষ্টি সুস্বাদু। উত্তরাঞ্চলের মানুষের হাতে এখন সারা বছর কাজ থাকে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কাজে কৃষি কাজ এখন সহজলভ্য হয়েছে। ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। ঘটেছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। গ্রামে কাজ থাকাতেই বুঝা যায়, দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



