somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন সাজাতে জীবন রাঙাতে

২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের কতোই না আয়োজন। তবে এ আয়োজন কিন্তু তার একার জন্য নয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থভাবে, সুন্দরভাবে থাকতে পারলে তবেই তার সব আয়োজন সার্থক হয়। এ জন্য চাই পরিকল্পনা। হোক সেটা কর্মক্ষেত্র, সন্তান প্রতিপালন, রান্নাঘর সামলানো বা বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্র বা প্রিয়জনের দেখাশোনা করা। পরিকল্পনা করে জীবনের সব ক্ষেত্রে সমন্বয় করে চলতে পারলে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারা যায় অনেক সহজে। তবে যাই করা হোক না কেন সবার আগে প্রয়োজন সুস্থ থাকা। আর এ সুস্থ থাকা বলতে শারীরিক এবং মানসিক উভয় ধরনের সুস্থতাই বোঝানো হয়েছে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এ কথাটা মনে রেখে শৈশবকাল থেকেই তাদের গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। আসুন জেনে নিই শিশুসহ পরিবারের সব সদস্যদের দেখাশোনা করার কিছু উপায়।
* সুস্থ থাকতে হলে সঠিক খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত শারীরিক নড়াচড়ারও গুরুত্ব সমান। কাজেই সারা সপ্তাহ জুড়ে রেগুলার ফিজিক্যাল একটিভিটর একটি তালিকা করে ফেলুন। এ কাজটি শুধু নিজের জন্য নয় বরং পরিবারের সবার জন্যই করুন।
* পরিবারের সব সদস্যই এমন কিছুদিন যেগুলো কয়েকজন মিলে একসঙ্গে করতে হয়।
* শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট থাকতে চাইলে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
* মানুষের জীবনটা ফুলশয্যা নয়। কাজেই প্রত্যেকের উচিত জীবনের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে তৈরি রাখা। ভালো হয় ছোটবেলা থেকেই যে কোনো অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা তৈরির চেষ্টা করলে।
* পরিবারের অল্প বয়স্ক সদস্যদের এমন কিছু কাজ দিন যেগুলো তারা সফলভাবে শেষ করতে পারবে। এতে করে তারা নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী হবে।
* শিশুদের এমন খেলনা উপহার দিন যেগুলোতে শারীরিক নড়াচড়া বেশি হয়।
* শিশুদের অনেকেরই টিভি দেখার, কম্পিউটারে গেম খেলার নেশা থাকে। এসব করতে একেবারে বাধা দেবেন না তবে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিন।
* শিশুদের এমন কাজ করান যাতে হাঁটার অভ্যাস তৈরি হয়।
* শিশুদের এমন খেলা খেলতে উৎসাহিত করুন যাতে তার বুদ্ধির তীক্ষèতা বাড়ে।
* সপ্তাহের প্রতিটি দিনই শিশুদের নিয়ে কিছুটা সময় বাইরে কাটান।
রান্নাঘর
চাকরিজীবী বা গৃহিণী সবাইকেই সন্তান সামলানোর পর যে কাজটি অবশ্যই করতে হয় সেটি হচ্ছে রান্নাঘর সামলানো। পরিবারের সব সদস্যদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখেই তাকে প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হয়। প্রতিদিন রান্নার মেন্যু ঠিক করার আগে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন-
খাবার মেন্যুর আইটেম ঠিক করার আগে সবসময় খাদ্যের পুষ্টিমানের দিকে খেয়াল রাখুন।
* খাদ্য তালিকায় সবসময় তাজা শাক-সবজি এবং ফলমুল রাখার চেষ্টা করুন। আর এসব কাটার আগে ধুয়ে নিলে ভালো হয়।
* পরিবারের যেসব সদস্যদের লাঞ্চ বাইরে করতে হয় তাদের জন্য বাড়িতেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি করে দিন।
* পরিবারের কেউই যেন বাইরের পানি না পান করে সেদিকে তীক্ষè নজর দিন। টিফিনের সঙ্গে সবাইকে পরিষ্কার বোতলে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে দিন।
* শিশুদের বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। সেই সঙ্গে খাওয়ার আগে হাত ধোয়ারও অভ্যাস করুন।
* আপনার রান্নাঘর রাখুন ঝকঝকে পরিষ্কার এবং গোছানো। মনে রাখবেন নোংরা রান্নাঘর হতে পারে অনেক রোগের উৎসস্থল।
সুস্থতা
সুন্দরভাবে জীবনকে উপভোগ করতে চাইলে সুস্থ থাকার বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। আসুন জেনে নিই সুস্থ থাকার সহজ কিছু পদ্ধতি-
* প্রতিদিন ব্যায়াম করা যদি সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* উপর তলায় ওঠার ক্ষেত্রে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
* দূরত্ব খুব বেশি না হলে রিকশায় ওঠার বদলে হাঁটুন।
* কখনই শরীরে মেদ বা চর্বি জমতে দেবেন না। মনে রাখবেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হৃদরোগ, স্ট্রোক এসব জটিল রোগ ডেকে আনে।
* যাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে কাজ করতে হয় তারা অন্য সময়ে শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে করুন। যেমন, ইন্টারকমের পরিবর্তে সহকর্মীদের ডেস্কে গিয়ে প্রয়োজনীয় কথা বলুন। মনে রাখবেন পরিশ্রম না করে বসে থাকলে শরীরে মেদ জমতে খুব বেশি সময় কিন্তু লাগে না।
* ফিজিক্যাল স্ট্রেংথ বাড়ানোর জন্য ভারি জিনিস বহন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* যারা নিয়মিত ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করেন তাদের জন্য পরামর্শ হলো গাড়িটা পার্কিং লট থেকে বেশকিছুটা দূরে পার্ক করুন। তারপর সেই রাস্তাটুকু হাঁটুন।
* প্রতিমাসের টাকা থেকে কিছু টাকা আলাদা করে রাখুন। দেখবেন এ টাকাটা বিপদের সময় কতো কাজে লাগে।
আনন্দে থাকুন, আনন্দ খুঁজুন
শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও মানুষের ভালো থাকার জন্য খুব প্রয়োজন। মানুষের শরীর এবং মনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। দেখবেন মন ভালো থাকলে শরীরটাকেও অনেক বেশি ঝরঝরে লাগে। কাজেই প্রয়োজনে আনন্দকে খুঁজে এনে নিজের মধ্যে ধারণ করুন। কারণ কর্মব্যস্ততা মানুষের জীবনীশক্তি শুষে নেয়। অন্যদিকে আনন্দ মানুষের কর্মশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
* সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারের সবাই মিলে বেড়াতে যান। হতে পারে সেটা পার্কে যাওয়া বা রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া।
* মাসে অন্তত একবার পিকনিকে যান পরিবারের সবাইমিলে তো বটেই সেই সঙ্গে বন্ধু-বান্ধবদেরও সঙ্গে নিন।
* মাঝে মধ্যে বাসায় বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতে পারেন।
* বছরে অন্তত একবার দূরে কোথাও নতুন কোনো জায়গায় বেড়াতে যান।
মানুষের জীবন একটাই। প্রত্যেকেরই উচিত ছোট্ট এ জীবনটাকে সুন্দরভাবে কাটানোর চেষ্টা করা। নিজে ভালো থাকা এবং আপনজনদের ভালো রাখার চেষ্টা করা। এ জন্য কঠিন কোনো কাজও যদি করতে হয় সেটাও করুন। মনে রাখবেন প্রিয়জনকে আনন্দ দেয়ার মতো আনন্দ অন্য কিছুতেই আর পাওয়া যায় না।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×