somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কমিউনিস্ট দৃষ্টিতে রিলিজিয়ন (ধর্ম) এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন এবং সে সম্বন্ধে কমিউনিস্টদের দোষারুপ প্রসঙ্গেঃ-

৩০ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলা ‘ধর্ম’ শব্দটির উৎপত্তি ইংরেজি ‘রিলিজিয়ন’ শব্দটি থেকে। যদিও ‘ধর্ম’ ‘রিলিজিয়ন’ এর প্রকৃত বঙ্গানুবাদ বা সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না। ‘রিলিজিয়ন’ শব্দটির সঠিক অর্থ প্রকাশ পায় ‘ধর্মতন্ত্র’ শব্দটির মাধ্যমে অর্থ্যাৎ ধর্মতন্ত্র একটি সিস্টেম বা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই মানুষের যা ধর্ম (মনুষত্ব) তা যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ‘ধর্ম’ বলতে - বস্তুজগতের প্রায় প্রতিটি জিনিসেরই কোন না কোন ‘ধর্ম’ বিদ্যমান যেমন- আগুনের ধর্ম অগ্নিত্ব বা পোড়ানো, জলের ধর্ম জলত্ব বা ভিজানো,পশুর ধর্ম পশুত্ব ইত্যাদি সে মতে মানুষেরও ধর্ম হচ্ছে- মনুষত্ব। আর এই মনুষত্ব বলতে বোঝায়- ন্যায়,পরোপকার,সহযোগীতা, সহমর্মীতা ইত্যাদি জাতীয় বিষয়। সে হিসাবে প্রত্যেক মানুষের ধর্ম হচ্ছে মনুষত্ব। আর এই ধর্ম (মনুষত্ব) প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রত্যেকটি ‘ধর্মতন্ত্র’ (হিন্দু,মুসলমান,বৌদ্ধ,ক্ষ্রীস্টান সহ আরো অনেক) তথা ‘রিলিজিয়ন’ এর উদ্ভব। আর এই ‘ধর্মতন্ত্র’গুলোকেই পরবর্তীতে শাসকরা কেবলমাত্র তাদের সুবিধার্থে ইচ্ছেমাফিক ব্যাবহার করে যা মানুষের প্রকৃত ধর্ম (মনুষত্ব) প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আর এই শাসক শক্তিই মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

এ বিষয়ে ফ্রেডারিক এঙ্গেলস্ বলেন - “ যে সব বহিঃশক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিয়ন্ত্রন করে ‘রিলিজিয়ন’ হলো মানুষের মনে সেগুলোর উদ্ভট প্রতিচ্ছায়া”।

ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করাটা নৈরাজ্যবাদী,অতিবিপ্লবী ও শখের বিপ্লবীদের একান্ত শখের বিষয়।

কমিউনিস্টদের সংগ্রামটা তাই কখনই এই ‘প্রতিচ্ছবি’র বিরুদ্ধে নয় যে সব কারণে মানব মনে এই ‘প্রতিচ্ছবি’ গুলো জন্ম নেয় তার বিরুদ্ধে তথা নিয়ন্ত্রনকারী বহিঃশক্তি অর্থ্যাৎ শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে। সমাজের শ্রেণী বৈষম্যের সুযোগ নিয়েই শাসক শ্রেণী বিভিন্নভাবে এই ধর্মতন্ত্রগুলোকে (হিন্দু,মুসলমান, বৌদ্ধ,ক্ষ্রীস্টান সহ আরো অনেক) তাদের স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করে। কিন্তু সাধারণ মানুষতো ধর্মতন্ত্র গুলো বিশ্বাস করে প্রকৃত ধর্ম (মনুষত্ব) প্রতিষ্ঠার সিস্টেম হিসাবে।

সেই কারণ এ্যাঙ্গেলস মনে করতেন -“ শোষিত নিপিড়িত মানুষরা যখন শ্রেণী সংগ্রামের বিষয়টি বুঝতে শিখবে তখনি আর কোন ধরণের ‘উদ্ভট প্রতিচ্ছায়া’ তাদের প্রতাড়িত করতে পারবেনা। রিলিজিয়নের প্রকৃত মর্মার্থ ও তখন তারা উপলব্দি করতে পারবে।”

একদিকে যেমন কমিউনিস্টদের ধর্মবিরোধী বলা হয় আবার অন্যদিকে নিজেদের যার মুক্তবুদ্ধির প্রবক্তা বলে জোর গলায় প্রকাশ করেন তাদের অনেকেই কমিউনিস্টদের রিলিজিয়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম না করার জন্য দোষারুপ করেন। ড্যুরিং বলেছিলেন - ‘সমাজতান্ত্রিক সমাজে রিলিজিয়ন নিষিদ্ধ হবে’। এ্যাঙ্গেলস এর কঠোর সমালোচনা করতে যেমন ছাড়েননি,তেমনি ভাববাদের কড়া সমালোচনা করতে ও ছাড়েন নি।


মহামতি লেনিনি বাস্তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দিয়েছেন রিলিজিয়নের প্রতি সমাজতন্ত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গি কি হবে। রিলিজিয়নের অনুসারি হওয়াটাকে লেনিন কোন অপরাধ হিসাবে তো দেখন ই নি উপরন্তু অনুসারি শ্রমিকদের তিনি বিপুল সংখ্যায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছেন এবং যারা শ্রমিকদের মধ্যে রিলিজিয়ন বিরোধী বাণী ছড়াতে চেয়েছেন এঙ্গেলস এর মতো লেনিন ও তাদের নিন্দিত ও ধিকৃত করেছেন। রিলিজিয়ন এর ধারকদের হাতে ‘মানুষের ধর্ম’ যাতে কোন অবস্থাতেই নির্জীত হতে না পারে সে ব্যাপারে লেনিন প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্র সদা সতর্ক থেকেছে ও ভবিষ্যত ও থাকবে।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশে রিলিজিয়ন বিরোধীতার যে সব খবর ছড়ানো হয়েছে প্রকৃত পক্ষে তা প্রতিবিপ্লবের আবহ তৈরি করার জন্যই ছড়ানো এবং এই প্রতিবিপ্লবের আবহ ছড়ানোর কূটকৌশলকে দমন করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোকেই সাম্রজ্যবাদী তথ্য মাধ্যমগুলো রিলিজিয়ন বিরোধীতা বলে প্রচার করেছে বা করে থাকে। সমাজতন্ত্রীদের এই তথাকথিত ‘রিলিজিয়ন’ বিরোধীতা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে প্রতিবিপ্লবেরই বিরোধীতা।

রিলিজিয়ন এর বিরোধীতা করার বাস্তবীকতা প্রকৃতপক্ষেই সমাজতন্ত্রীদের নেই,কারণ ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার মতন এহেন কান্ডজ্ঞানহীন প্রবণতা কখনই বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রীরা বিশ্বাস করেন না করার কোন যৌক্তিকতাও দেখতে পান না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×