somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Sitting disease নামক মহামারী হতে আমাদের মুক্তি মিলুক ।।

১৬ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি অধূমপায়ী । মদ, গাজা, চিনি আপনার দুচোখের বিষ । মাংস, চর্বি খাননা, কোক-পেপসি চাননা, যারা খায় তাদেরকেও করেন ঘেন্না । সকালে একঘন্টা জিমে কাটান, তুমুল ব্যায়াম করেন । তারপর প্রিমিও গাড়ীতে অফিসে যান । দৌড়ে লোকাল বাস ধরার যন্ত্রণা বা যাত্রীদের সঙ্গে ঠেলাঠেলি আপনার জন্য কষ্ট কল্পনা । নয়টা পাঁচটা ডেস্কে বসে কাজ করেন অফিসে । তারপর গাড়ীতে ঘূমিয়েই ফেরেন বাড়ী । সুখের সংসার আপনার । দাম্পত্য আপনাকে অশান্তি নয়- দিয়েছে মানসিক প্রশান্তি । রাতে পরিবারের সাথে ঘন্টা কয়েক টিভি দেখেন বা কম্পিউটার নিয়ে বসেন ।

অথবা ধরেন আপনি student, সারাদিন লাইব্রেরীতে মুখ গুজে পড়ে থাকেন । মনোযোগ বিঘ্নিত হবে তাই এদিক সেদিক যাননা । ক্যান্টিনে আপনার ভয়, যদি আড্ডা জমে যায় । সময়ের সর্বোত্তম ব্যাবহার করছেন । সো নট নড়ন-চড়ন ।
যে কেউ বলবে আপনার life style টা ঈর্ষণীয় ভাবে স-স্বাস্হকর । কিন্ত বিশ্বাস কি করবেন- আপনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার বা sudden death এর মারাত্মক ঝুকিতে আছেন ? একজন ভিক্ষুক যে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায় তার তুলনায় আপনার হঠাৎ মরে যাবার ঝুকি ৪০ ভাগ বেশী । কিন্ত কেন ? কোন সে ভিলেন যা লুকিয়ে আছে আপনার জীবনাচরনে? আর কুরে কুরে খেয়ে ফেলছে আপনার আয়ূ?

হ্যাঁ Sitting disease নামের নতুন এক মহামারী রোগের গোড়াপত্তন হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে । বিরতিহীন লম্বা সময় বসে থাকা (তা অফিস জব, লাইব্রেরী ওয়ার্ক, ধর্মকর্ম, টিভি দেখা, কম্পিউটার ফেসবুকিং যাই হোক) হৃদরোগ ও হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে । গবেষনায় এটি সুপ্রমানিত । এমনকি আপনি এক ঘন্টা উসাইন বোল্টের গতিতে দৌড়ানোর পর যদি ছয়ঘন্টা অফিস-লাইব্রেরী-টিভি-কম্পিউটারে বসে থাকেন তবে আপনার (দৌড়ানোর) লাভের গুড় কিন্ত্ত (বসে থাকার) পিপড়ায় খেয়ে ফেললো । বিরতিহীন বসে থাকার ফলে আমাদের শরীরবৃত্তে যে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে তা থেকেই এ sitting disease এর উৎপত্তি ।

এ Sitting disease একটা পেশাগত বিপত্তি (Occupational hazard) ও বটে । সেদিন হয়তো বেশী দূরে নয় যখন হার্ট এটাকে আক্রান্ত রোগী তার অফিসের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিবে তাকে কেন বসে বসে কাজ করতে হলো । তবে যে চিকিৎসক মধ্যদুপুর থেকে মধ্যরাত অবধি চেম্বারে বসে বছরের পর বছর রোগী দেখে যান- সে হয়তো তার অকাল-মরনকালে নিজের অর্থলিপ্সা ছাড়া আর কিছুকে দায়ী করার সুযোগ পাবেনা কখনো ।

এ থেকে বাঁচতে হলে কাজের বা বিনোদনের ফাকে ফাকেই আপনাকে নড়াচড়া করতে হবে, উঠে দাড়াতে হবে, অদূরে দুয়েক মিনিট হেটে আসতে হবে- মূল উদ্দেশ্য হল বসে থাকাটা যেন এক নাগাড়ে না হয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে হয় । এজন্য পাশের desk এ গিয়ে সহকর্মীকে জিজ্ঞাস করতে পারেন তার কুশল । যতবার ফোন আসবে কথা বলতে পারেন উঠে দাড়িয়ে, হেটে হেটে । অর্থ্যাৎ যে কোনো ছল ছুতো উছিলায় বিরতিহীন বসে থাকাটায় ব্রেক দিতে হবে । ঘন্টায় পাঁচ-দশ মিনিট সময় ক্ষয় করতে হবে এ নড়াচড়ায় । মাঝে মাঝে হাত পা ঝারা দিন, পা দুটো সটান করুন সম্মুখে, আড়মোড়া ভেঙ্গে শরীরটাকে মোচড়-টোচর দিন । অফিসের বস যদি এ হাটাহুটাকে কাজের ক্ষতি মনে করে তবে এ status টা share করে দিন তার ওয়ালে ।

এতো গেলো অফিসটাইমের কথা । বিকাল আর রাতের সময়টার জন্য একটা সুপরামর্শ দিব আপনাকে? ঘরের টেলিভিশনটা ভেঙ্গে ফেলুন । এজন্য রান্নাঘরের ‘পুতা’ টাই যথেষ্ট । আপনি কল্পনাও করতে পারবেননা এই টিভি আপনার দেহ-মন-মস্তিস্ককে ঘুনে পোকার মত কিভাবে ধ্বসিয়ে দিচ্ছে । টিভি (ইদানীং ফেসবুক) আপনাকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখতে পারঙ্গম । টিভি দেখা বাদ দিয়ে ঐ সময়টা বাচ্চাদের নিয়ে খেলুন । বউকে নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরুন, গুন গুন করে গাইতে থাকুন- জানালা খুলে আকাশ দেখো, টিভি দেখোনা । বউবাচ্চা না থাকলে ঘুরে ঘুরে আমাবস্যা-পূর্ণিমার ছবি তুলুন- তবু TV, Computer এর সামনে নিশ্চল বসে থাকবেন না ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×