
কিছু আওয়াজ থাকে,যা কানে শোনা যায় না, ভেতরে ভেতরে ভাঙে।
কিছু বাঁধ থাকে, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু মানুষকে থামিয়ে রাখে বছরের পর বছর।
সেই অদৃশ্য বাঁধ ভাঙারই এক নাম
বাঁধ ভাঙার আওয়াজ।
আজ সামুতে (SomewhereinBlog) আমার লেখালেখির দশ বছর পূর্ণ হলো। ক্যালেন্ডারের হিসেবে এটি শুধু সময়ের হিসাব:-
কিন্তু অনুভূতির হিসেবে এটি এক জীবনের সমান।
শুরুটা ছিল নীরবতায়
দশ বছর আগে যখন প্রথম সামুতে লেখা দিই, তখন আমি পরিচিত কেউ ছিলাম না।
না ছিল বাহবা, না ছিল পাঠকচেনা নাম।
ছিল শুধু জমে থাকা কথা—যেগুলো কাউকে বলা যায় না, কিন্তু লিখে ফেললে বুক হালকা হয়।
সামু তখন আমার জন্য ছিল একখানা খোলা মাঠ।
যেখানে ইচ্ছেমতো চিৎকার করা যায়,
কাঁদা যায়-প্রতিবাদ করা যায়,
আবার নীরবে বসেও থাকা যায়।
লেখালেখি মানে নিজের সঙ্গে লড়াই
এই দশ বছরে আমি বুঝেছি
লেখা মানে অন্যকে বোঝানো নয়,
লেখা মানে আগে নিজেকে বোঝা।
কতবার লিখেছি ভাঙা মন নিয়ে,
কতবার অন্যায় দেখে কলম ধারালো হয়েছে,
কতবার আবার প্রেম, প্রকৃতি, মানুষ—সব মিলিয়ে নরম হয়ে গেছে শব্দ।
প্রতিটি লেখাই ছিল একেকটা বাঁধে আঘাত।
সব বাঁধ একসাথে ভাঙেনি,
কিন্তু প্রতিটি আঘাত আওয়াজ তুলেছে।
সামু শুধু ব্লগ না, এক প্রজন্মের সাক্ষী
SomewhereinBlog শুধু একটি ব্লগসাইট নয়
এটি মত প্রকাশের সাহস শিখিয়েছে,
ভিন্নমত সহ্য করতে শিখিয়েছে,
নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার শিখিয়েছে।
এই শিক্ষাই সবচেয়ে বড় অর্জন।
দশ বছর পর দাঁড়িয়ে
আজ দশ বছর পর দাঁড়িয়ে পিছনে তাকালে দেখি,
আমি আগের আমি নই। চেনা অচেনার মাঝে দাঁড়িয়ে আছি। আমি ভালো লেখক নয়
অনেক ভালো লেখকের সাথে একটা ঘরে বসবাস করছি। সেটা হলো সামু। বাংলা আমার গর্ব
বাংলায় লিখি নাম। বাংলা আমার কুড়িয়ে আনুক বিশ্বের সুনাম
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




