আমরা বাঙালি আর তাই-ই মনে হয় আমাদের আবেগটা একটু বেশি।
সেজন্যই কিনা পহেলা বৈশাখ, বিজয়ের মাস, স্বাধীনতার মাস, এবং ভাষার মাস আসলেই মানুষের নানা রকমের জারজ ঢং এর জন্ম হয়।
কিন্তু এই ঢং গুলোর মধ্যেই কি বাঙালির সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য নিহিত?
নাকি এই ঢং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাঙালির উৎসবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ এবং ভালোবাসা প্রকাশ পায়?
আসলে আমার বিবেচনায় ঢং বলতে....এই ধরুন একুশে ফেব্রুয়ারির কথাই বলি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আসার আগেই শহিদ মিনারকে এমন ঢালাওভাবে সাজানো হয় যে য্যানো ও নতুন বউ।
কিন্তু বাকি দিনগুলোতে সে বিধবার সাজেই অনাদরে পড়ে থাকে।
তবে অনেকেই আবার একে উপযুক্ত সম্মান ঠিকই দ্যান।
তারা তাদের নেশাঘর হিসেবে ব্যবহৃত করেন এই উঠানটিকেই।
একদিনের জন্যেই উপচে পড়া ভিড় থাকে সেই সূর্য্য উঠা ভোর থেকেই।
একদিনের জন্যই ফুল কিনে ভাষা ও ভাষা শহিদের প্রতি অর্পণ করার মধ্যেই কি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ???
এছাড়া ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে একমাস নিজের নামের বাংলা বর্ণমালা দিলেই কি বাংলা ভাষাকে ভালোবাসা হয়ে যায়??
আমি কেনো, অনেক জ্ঞানী ও মূর্খ্য লোকও বলবে মোটেও না।
কোনোদিনই একদিন বা একমাসের সেই কর্মকান্ড শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার রুপক হতে পারে না।
আর এতো শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা তখন কই থাকে যখন দামি দামি ব্র্যান্ডের লোগোতে বাংলা
শব্দের বর্ণে মাত্রা না দেওয়া ট্রেন্ড হিসেবে পরিচিত হয়?
যখন রাস্তার ফুটপাতের সাইডে চটকদার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত বাংলা শব্দের উপর প্রসাব করা হয়?
যখন দোকানের সাটারে বড় করে বিকৃত বাংলা শব্দ ব্যবহার করা হয়?
যখন লোকাল বাসের গায়ে, দেয়ালে, সাইনবোর্ডে, কাগজে ভুল বাংলা বানান লেখা হয়?
যখন খ্যাতমার্কা বাংলা ছবির অশ্লীল পোষ্টারে বাংলা শব্দ আকর্ষণীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়?
যখন বাংলাতেই অশ্লীল সব গালি দেওয়া হয়?
যখন বাংলাতেই অশ্লীল সব গান শুনতে হয়?
তখন ক্যানো তারা ডুমুরের ফুল হয়ে ফুটে??
যদি পারেন তাহলে ভাষাকে খুব যতনে মনের গভীরে লালন করুন। বাংলা ভাষাকে ভালোবাসুন।
ক্যানোনা এর অর্জন ভিক্ষা চাওয়ার মত সহজ ছিলো না।
(হয়তো কথাগুলো অগোছালো ছিলো, ছোট মুখে অনেক বড় কিছুই বলেছি। তার জন্য দুঃখিত।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



