somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

A wednesday

০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জি টিভিতে একটা মুভি দেখাচ্ছিল, "A wednesday...আগেও দেখেছিলাম এবং দেখে আমার ভালো লাগা মুভির লিষ্টের মধ্যে জায়গা ও দিয়। তাও আবারো দেখতে বসে যায়। কম্পুতে কাজ করতে করতে দেখছিলাম। ছবিটা এতো মুগ্ধকর যে বোধকরি শুধু দু'বার না আরো বার কয়েক দেখা যাবে। ছবিটার কয়েকটা দৃশ্য কল্পনা করতে করতে একটা ঘটনা মনে পরে যায়। একটা দৃশ্য এমনঃ ..মাত্র উল্টোদিকের পুলিশ স্টেশন থেকে বোমা নিস্ক্রিয় করে যখন ইন্সপেক্টর জয় তার সঙ্গীদের নিয়ে রাস্তা পেরিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ফিরে যাচ্ছিল তখন এক হাবিলদার, ইন্সপেক্টার আরিফকে জিপে করে আসতে দেখে মন্তব্য করে, 'পাগলা আ গেয়া। আজ ফের কয়ি মরেঙ্গে'।

রাতের খাওয়া সারতে সারতে কথাটা মাথায় ঘুরছিল। স্কুলের কথা মনে পরে গেল। আমাদের এক টীচার ছিলেন, নুরুল ইসলাম, বি.এস.সি। আড়ালে আবড়ালে তাকে সবাই ডাকতো 'পাগলা স্যার' বলে। কারণ স্যারের স্বভাব এতোই উদ্ভত ছিল যে ছাত্র সমাজে তিনি রীতিমত আতঙ্কের নাম ছিলেন এবং তার পোশাক আশাক এবং হাটাচলা ও ছিল কিছুটা ছিটগ্রস্থ মানুষের মতোন। উনার নেক্সট মুভমেন্ট কি হবে কেও আন্দাজ করতে পারতো না। তো একদিন আমাদের এক ক্লাসের স্যার আসছেনা দেখে ছেলেরা খুব শোরগোল করছিল। হঠাৎ একসময় হাত দুখানা পেছনে রেখে ধীর লয়ে 'পাগলা স্যার' আমাদের ক্লাসে ঢুকে। উনাকে দেখেই সবার আত্মারাম খাচাছাড়া। ক্লাস ক্যাপ্টেন কে জিজ্ঞেস করে জেনে নিলেন কি কি হোমওয়ার্ক আছে। ক্লাসে তখন যাকে বলে পীন-পতন নীরবতা। যারা যারা হোমওয়ার্ক করে আনেনি তাদের দাড়াতে বলে ক্লাস ক্যাপ্টেনকে বললেন বেত নিয়ে আসতে। সে সুবোধ বালকের ন্যায় দুটো বেত নিয়ে এলো। তার কোনো ভয় ছিল না কারণ সে হোমোওয়ার্ক করে এনেছে। ঘুটি কয়েক প্রথম বেঞ্ছের ছেলে ছাড়া বাকি ক্লাসের আর কেও সেদিন সে হোমোওয়ার্ক করতে যায় নি এবং যার ফলস্বরুপ প্রথম বেঞ্চ বাদে বাকি সবাই দাঁড়ানো। বলা বাহুল্য, তাদের মাঝে আমিও ছিলাম। তো স্যার বেত দুটোকে একত্রে করে চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। এত্তোগুলো ছেলেকে দাঁড়ানো দেখে কিছু ভাবলেন। বোধহয় ভাবছিলেন, কাকে দিয়ে শুরু করবেন। স্যার প্রথমে গেলেন প্রথম বেঞ্চে বসে থাকা ছেলেদের দিকে যারা হোমওয়ার্ক করে এনেছে। ক্লাস ক্যাপ্টেনকে বললেন তার হোমওয়ার্ক দেখাতে। উলটে পালটে দেখলেন কিছুক্ষণ। একটু পর বললেন বেঞ্চ থেকে বেরিয়ে টেবিলের সামনে গিয়ে দাড়াতে। সে গিয়ে দাড়াতে আচমকা তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে এমন মারা মারলেন যে পুরা বেত দুটো একা তার উপরেই ভাংলেন। বেচাড়া কেদে কেটে একশেষ। ক্লাসের ফার্ষ্ট বয় সে। কোনোদিন মার খায় নি। ক্লাসের বাকিরা এমনি ভাবচকা খেয়ে গেলাম যে কি ঘটছে কেও কিছু বুঝতে পারলাম না। এমনতো না যে, সে হোমওয়ার্ক না করে করেছে বলেছে। তবে! বেতদুটো নিয়ে একসময় স্যার আনমনে কি ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন আর আমরা সবাই একে অপরের মুখ ছাওয়াছাওয়ি করতে লাগলাম। ঘটনাটা কি হল? ক্লাসে তখন কেও নড়তে চড়তেও ভয় পাচ্ছে পাছে যদি কোন শব্ধ হয় এবং পাগলা স্যার আবার চলে আসেন। ক্যাপ্টেনের সাথে খাতির ছিল বলেই সেকেন্ড বেঞ্চ থেকে চুপিসারে তার কাছে জানতে চাইলাম, ঘটনা কি। কিন্তু সে তখনো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে আর বলছে হেডস্যারের কাছে নালিশ দিবে, যারা হোমওয়ার্ক করে আনেনি তার মার খেলো না আর সে করে মার খেলো। এমন বিচার কেও কখনো শুনি নি।

...

মুভি দেখতে দেখতেই একটা ঘটনা আমার মুখজুড়ে হাসি এনে দেয়

ঘটনা হচ্ছে আমার ভাগ্নে, যে মাত্রই হাটা শিখছে। তো সে যে কোনো খোলা দরজা দেখলেই সেটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে দরজার কাছে পৌছে এক ধাক্কায় দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ আগে তেমনি আমার ক্লোজেটের দরজা সামান্য একটু মেলে আছে দেখে সে হামাগুড়ি দিয়ে ওটার কাছে যেয়ে এক ধাক্কা মারলো। স্বভাববশত সেটির বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু বন্ধ হলো না। হয়তো কোনো কিছু দরজা আগলে রেখে থাকবে। সে দরজা বন্ধ হয়ে গেছে মনে করে হামাগুড়ি দিয়ে চলে যাচ্ছিল কিন্তু যখন দেখলো যে বন্ধ হলো না তখন আবার ফিরে এলো এবং আবার একটা ধাক্কা মারলো। এবারো বন্ধ হলো না। আবার ধাক্কা দিল। এভাবে চারবারের বার সে বসা থেকে উঠে দরজা ধরে উঠে ধারালো এবং নিজের শরীর দরজার উপর রেখে এবার আবার একটা ধাক্কা মারলো এবং দরজা বন্ধ হয়ে গেলো।

১৫ মাস বয়স তার কিন্তু এসব কেও তাকে শিখিয়ে দেয় নি
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৬:৫০
৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×