somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘপঞ্জিকা - বিক্ষিপ্ত কথামালা ৩

২১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দারুণ একটা দিন কাটল আজ। যদিও অফিসেই ছিলাম সারাদিন তারপরেও। দু-দুটো ভোজনে অংশ নিলাম। প্রথমটা ছিল দুপুরে লাঞ্চ করতে যেয়ে, "দেশী" মুসলমানদের সাথে। "দেশী" শব্দটা এখানে ব্যাবহৃত হয় বাংলাদেশী, ইন্ডিয়ান আর পাকিস্থানীদের বুঝাতে। লাঞ্চটা করলাম পাকিস্থানী একটা রেস্টুরেন্টে। ভোজটা ভোজের মতোই হল। তবে খাওয়া হতে হতে চলতে থাকা কথাবার্তা গুলো বেশ চিন্তার উদ্রেক করলো। এই যেমন একজন প্রশ্ন করে বসলো, ভিন্ন ধর্মী কেও যখন জিজ্ঞেস করবে নামাজ পাচঁ ওয়াক্ত কেন বা এক এক ওয়াক্তে রাকাতের তারতম্য কেন?, তখন কি জবাবটা হবে। আমাদের মাঝে ধার্মিক বেশ কজন ছিল। তারা কেও এর সদুত্তর দিতে পারলোনা। একজন বললো, কোরানে বা হাদিসে কোথাও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই। আরেকজন বললো, এই কেন-এর উত্তর না খোজে আমাদের উচিত আমাদের উপর যা নির্দেশিত হয়েছে তা পালন করে যাওয়া। সাথে সাথে শুরু হলো তুমুল তর্কাতর্কি। গ্রুপটা দুই ভাগে হয়ে তর্ক করে যেতে লাগলো। অবশ্যই কাবাব আর নানরুটি চিবাতে চিবাতে। এক পক্ষ বলে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানলে আমাদের নিজেদের বিশ্বাস-ই মজবুত হবে, ভিন্ন ধর্মালম্বীরা যখন আমাদের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করবে তখন এর উপযুক্ত জবাব দেয়া যাবে। অপেক্ষাকৃত ধার্মিক পক্ষ বলে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে জানতে জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে তখন কিছু পালন করার আর সময় থাকবেনা। আমি অবশ্য প্রথম পক্ষকেই সমর্থন করে যাচ্ছিলাম। প্রথম পক্ষের একজন বললো, সে কয়েকদিন আগে কজন আরবের সাথে কথা বলছিল। তারা জানতে চাইল, "হজ্জ্ব না করেও আমরা কোরবান করি কেন?"। আমি নিজে অবশ্য এ কথা কখনো শুনিনি যে কোরবান করতে হলে হজ্জ্ব করে আসতে হবে। কিন্তু আমার সেই সহকর্মীর মতে অধিকাংশ আরবরা নাকি হজ্জ্ব না করলে কোরবান করে না। খাওয়ার টেবিলের কেও অবশ্য তার এই কথাটা মানতে পারলোনা। আগের কথার রেশ টেনে আরেকজন বললো, আমাদের মাঝে এই প্রশ্ন করার সংস্কৃতিটা গড়ে তুলতে হবে। ছোটোকাল থেকেই আমাদের শিখানো হয় যে, যা বলা হয়েছে তা পালন করতে হবে। কোনো "কেন" নয়। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যারা এখানে বড় হচ্ছে তাদেরকে যখন তাদের অমুসলিম বন্ধুরা এই প্রশ্নগুলো করবে তারা তখন আমাদের কাছেই তো আসবে এর সদুত্তর জানার জন্য। আমরা তখন তাদের কি জবাবটা দিব?

...

দ্বিতীয়টা ছিল আমার গ্রুপের কলিগদের সাথে। রাতের ডিনার। আমাদের একজন চাকরী থেকে ইস্তফা দিয়ে মানবসেবা করার জন্য ফিলিপাইন ফিরে যাচ্ছে। আমার সাথেই কাজে জয়েন করেছিল সে। মূলত তার খাতিরেই ডিনারটা। আমেরিকান একটা রেস্টোরেন্টে। চাকচিক্যময় হলে কি হবে খাবার গুলো মুখে দিয়ে পেটে নামানোর অযোগ্য। খাওয়া শেষে আমার ম্যানেজার বলছিল এরকম একটা আফটার ঈদ গেট টুগেদার করলে কেমন হয়। দুপুরের ভোজনে সেও আমার সাথেই ছিল। আমি বললাম আমাদের দরকার স্পাইচি ফুড। খাবার ভালো না হলে রেস্টোরেন্ট যতোই বাহারি হোক মন ভরবে না। পেটের কথা বাদই দিলাম। সে আমার সাথে একমত হলো। বেশ মজাই কাটলো সময়টা। কলিগকে আমারা বাকীরা সবাই মিলে একটা ট্রাভেল ব্যাগ কিনে দিলাম। উপহারটা তার হাতে তুলে দিয়ে বলা হল বিদায়ী একটা স্পিচ দিতে। আরেক হুলস্থুল হাসির পর্ব ছিল সেটা। :)

...

রাতে বাসায় ফিরে ছোটো ভাইটাকে তার জন্মদিনের উইশ জানিয়ে কিছু টাকা দিলাম। এরপর তাকে ভুলিয়া ভালিয়ে অন্য রুমে পাঠিয়ে দিলাম। নইলে যে আমাকে টিভির রিমোট-ই দিবে না। সে চলে গেলে বসে গেলাম এই কদিন আমার প্রিয় শো হয়ে উঠা "ইস জাঙ্গালচে মুঝে বাচাও" সিরিজ টা দেখতে। বেশ হচ্ছে সিরিজটা।

এখন শুনছি আনাইডার একটা গান। রিপিট দিয়ে দিয়ে।

...

হঠাৎ মনে পরলো একটা চিঠি ও লিখা শেষ করলাম আজ। এখুনি মেইল করতে হবে। ড্রাফট করাই ছিল কাজে বসে টাইপটা সারলাম খালি। যাই...
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ৭:২৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×