somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিন দিন পাখি কিন্তু ফুরিয়ে যাচ্ছে.....

২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোট বেলায় গ্রামগুলোতে টিয়া পাখি আর ঘুঘু পাখির ঝাঁক দেখতাম। আর শালিক পাখি সে তো খুব সাধারণ পাখি বলে ভাবতাম। আমার নানার বাড়ি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে। মেহেরপুর ছিল ঐ ইউনিয়নের একটা ঘন গাছগাছালিতে বেষ্টিত গ্রাম যেখানে আমার মেঝো খালার বাড়ি। গ্রামটি ছিল বিভিন্ন পাখপাখালিতে ভরপুর। তাছাড়া তাদের বাড়িতে ছিল নানা প্রজাতির কবুতর। ঐ এলাকাতে বেশ টিয়াপাখি পাওয়া যেত। সেই লম্বা লেজ আর ধারালো ঠোঁট ওয়ালা টিয়া! গাঁয়ে হাত দিলে কামড়িয়ে রক্ত বের করে দিত! ছোটবেলায় মায়ের সাথে যখন তাদের বাড়িতে যেতাম তখন প্রতিবার এক জোড়া কবুতরের বাচ্চা নিয়ে আসতাম! একবার দেখি তাদের বাড়িতে খাঁচাবন্দী দুইটা টিয়া পাখি। তখন আমি আবদার করলাম তার থেকে একটা পাখির জন্য বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুষব বলে। তখন তারা একটা গাছের কাছে নিয়ে গিয়ে বলল যে, ঐ গাছটিতে পাখির বাচ্চা আছে- কিছুদিন পর বাচ্চাগুলো বড় হলে তখন পেড়ে দেবে। কি আর করা, সেবার আর পেলাম না!
কিছুদিন পর আমার জন্য তারা একটা টিয়াপাখি পাঠিয়ে দিলো। আমি তো খুশিতে আত্মহারা। কি সুন্দর দেখতে সেই পাখিটা! স্কুল থেকে এসে বই-খাতা রেখে আগে পাখির সেবাযত্ন তারপর অন্য কাজ। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে আগে পাখির খোঁজ নিতাম তার পর ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসতাম। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি খাঁচায় পাখি নেই! তখন আমার কান্না শুনে আব্বু-আম্মু সহ অন্যরা চলে আসল। আসলেই খাঁচাটি পাখি শূন্য! কিন্তু পাখি তো আর নিজে খাঁচা থেকে বের হতে পারবে না! তাছাড়া সেটি ছিল লোহার খাঁচা। যাহোক আগে পাখির খোঁজ করতে হবে তারপর অন্য ভাবনা। খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল পাখিটি প্রতিবেশীর এক গাছের ডালে বসে আছে নিশ্চিন্ত হয়ে! আব্বু চুপিচুপি গাছে উঠে পাখিটির লেজ ধরে ফেললো! আসলে এটি ছিল আমার মায়ের কাজ! খাঁচা বন্দী পাখি তার মোটেও পছন্দ নয়। এভাবে আমার মা তিন বার লুকিয়ে পাখির খাঁচার দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে তিন বারের বার তিনি সফল হয়ে ছিলেন। আর পাখিটি আমায় এক বুক বেদনায় ডুবিয়ে দূর অজানায় কোন এক অরণ্যে চলে গেলো!
আমি যখন বুঝতে শিখলাম তখন আমার মা ঐ পাখি ছেড়ে দেয়ার গল্পটি বলেছিলেন। আজ যখন ঐ গ্রামে বেড়াতে যায় তখন সেই গল্পটি খুব মনে পড়ে। আহা! পরিবেশ রক্ষায়, বন্য প্রাণী রক্ষায় আমরা কত কিনা করে যাচ্ছি! আজ সেখানে সেই টিয়াপাখির ঝাঁকের দেখা নাই, দেখা নাই মনমাতানো ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো ঘুঘু পাখির দলগুলোর! আমাদের মত সাধারণ মানুষের সামনে পাখি শিকারি মানুষগুলো ফাঁদ পেতে পাখিগুলো ধরে নিয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করেছে। ধীরে ধীরে তারা বনগুলো পাখি শূন্য করে ফেলেছে। আগে বিভিন্ন পাখির কলকাকুলিতে আমাদের ঘুম ভাঙ্গত, আর এখন ভাঙ্গে কাকের কা-কা শব্দে। ইদানিং খুলনা শহরে পাখি বিক্রেতারা শালিক পাখি নিয়ে ঘুরছে। আমি দেখে বেশ অবাক হলাম। হায়রে টিয়া, ঘুঘু, ময়না...... তোরা আজ কোথায় গেলি! আমাদের কি দুর্দিন যাচ্ছে একটু দেখে যা! শেষমেশ শালিক পাখি নিয়ে আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি! এরপর ঘুরবো কাক নিয়ে! এই কাক লাগবে কাক............।
সমাজে এই মায়েদের আজ খুবই দরকার, যারা সন্তানের অন্যায় সখগুলোকে কখন প্রশ্রয় দিবে না। আমরা আমাদের বাচ্চাদের যদি পাখি কিনে না দেই তাহলে এই শিকারিরা পাখি শিকার করে কি করবে বলুন! কিছুদিন আগে আমার গ্রামের বাড়ি পাইকগাছা, খুলনাতে গিয়ে একদল শিশুদেরকে ফাঁদ পেতে পাখি শিকারে বিধা দিয়েছি। পাখি শিকারের পরিবর্তে তাদেরকে ব্যাটবল কিনে দিয়েছি। আরেকদিন দেখি কয়েকটা বাচ্চা মিলে একটা মাছরাঙা পাখি দড়ি দিয়ে বেধে খেলছে। আমি গিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু রাজি হল না। সর্বশেষ তাদেরক ৫০/- টাকা দিয়ে পাখিটাকে নিয়ে নিজ হাতে ছেড়ে দিলাম। আহ, স্বাধীনতা! সত্যিই সে কি স্বাধীনতা। ভেরি সিমপ্লি, আমার খুব ভালো লাগলো। আমার মা যদি সেই সময় আমার অন্যায় শখ মেনে নিতেন তাহলে এখন হয়ত আমি শখের বশে বনের স্বাধীন পাখি খাঁচায় বন্দী করে রাখতাম! এমনকি শিকারির পাখি ধরাকে সাধারণ রুজিরোজগার আর মত সাধারণ কাজ বলে মনে করতাম! আজ এই সমাজে দরকার কিছু সাহসী আর সচেতন মানুষ, যারা পাখি শিকারিদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করবে। আসুন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে পাখি শিকার রোধ করি।



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:২২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×