somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরিত্রী অধিকারীকে নিবেদিত গল্প

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেঁচে থাকার কারন

আমি আর সে অফিসের মাইক্রোবাসে চড়ে ব্যাস্ত রাজপথ ধরে গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছিলাম। যা ভাবছেন তা নয়, অত সৌভাগ্য আমার হয়নি; মাইক্রোবাসটিতে সে আর আমি একা ছিলাম না, চালক তো ছিলই, সাথে আমাদের আরো অনেক সহকর্মী ছিল। আমি বসে ছিলাম পিছনের সিটের একেবারে বামপাশে, আর সে ছিল আমার ঠিক সামনে। তার শরীর থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়া ঘ্রাণ আমার নাকের ছিদ্র পথ দিয়ে প্রবেশ করে পুরোটা সময়জুড়ে আমাকে আবেশিত করে রেখেছিল। ওদিকে আমাদের পাশের জানালাটি খোলা পেয়ে হু হু করে ঢুকতে থাকা বাতাস তার নরম, রেশমী চুলগুলোকে নিয়ে আপন মনে খেলা করে চলছে। বুকের ভেতরে হঠাৎ একটা শঙ্কা জেগে উঠায় আমি এক টানে জানালাটা বন্ধ করে দেই। তৎক্ষণাৎ সে এক মোচড়ে শরীরটা কোনাকুনি বাঁকিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে আমার চোখে চোখ রাখে। চেড়া পটল নয়, পাখির বাসা নয়, ও চোখ যেন সূর্য, মুহুর্তেই আমার অন্তর-বাহির ঝলসিয়ে দিল! লাল লিপস্টিকে রঞ্জিত ঠোঁট নেড়ে সে বলল, “শুধু শুধু জানালাটা বন্ধ করে দিলেন কেন? দেখছেন না কি ভীষণ গরম পড়েছে। ভালোই তো বাতাস আসছিল।”

কন্ঠস্বরে মিনতির রস মিশিয়ে বললাম, “জানালা খোলা পেয়ে শুধু যে বাতাস আসবে তাই নয়, বাতাসে ভর করে ধর্মঘটীদের ছুড়ে দেওয়া দু-একটা পেট্রোল বোমাও তো চলে আসতে পারে। তখন আর রেহাই থাকবে না, নির্ঘাত সবাইকেই জীবন্ত দগ্ধ হতে হবে!”

সে উপহাসের অভিব্যাক্তি মুখে ফুটিয়ে তুলে বলল, “বেঁচে থাকার এত সাধ কেন আপনার, বলুন তো। আমার তো একদমই বাঁচতে ইচ্ছা করে না। এক্ষুনি মরে গেলেই যেন ভাল।” তার দুই ঠোঁটের মাঝখানের সামান্য ফাঁক দিয়ে এক চিলতে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে গেল।

মুখে প্রাণের আভা ছড়িয়ে আমি বললাম, “বেঁচে থাকার জন্য আমার হাজারটা কারন আছে।”

উপহাসের সবটুকু রেশ ঢেলে দিতে দিতে সে বলল, “হাজারটার মধ্য থেকে অন্তত একটা কারন বলুন তো শুনি, বেঁচে থাকার কেমন আপনার কারন।” এবার আরো কয়েক টুকরা টুকরা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল তার ঠোঁট বেঁয়ে।

হঠাৎ তার এমন জিজ্ঞাসায় থতমত খেয়ে বিড়বিড় করে, “তা তো আপনাকে আমি বলতে পারব না,” বলেই ঠোঁট দুটো চেপে ধরে, নমস্কারের ভঙ্গীতে একত্র করে রাখা দুই হাতের তালু দুই থাইয়ের চিপায় ঢুকিয়ে, থুতনীটা খানিকটা উপরের দিকে তুলে, মনযোগটাকে নীচের দিকে ঠেলে পাঠিয়ে এমনভাবে বসে রইলাম যেন আমার ভেতরে গরম বালিতে ফুটন্ত খইয়ের মত ছোটাছুটি করতে থাকা কোন কিছুকে প্রাণপণে চেপে ধরার চেষ্টায় আছি। সম্মুখে অভিমানের পর্দা ফেলে ও দুটো চোখ সরে গেল।

আফসোস! বলাও হবে না আর সে হয়ত কোনদিন বুঝতেও পারবেনা যে, “আমার বেঁচে থাকার অনেক বড় একটা কারন সে নিজেই।”
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×