somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শূন্যভুবনের মেহেদী
চারপাশের সব অসাধারণ প্রতিভাবানদের ভিড়ে অতি সাধারন একজন। ভালোবাসি বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টিকে অনুভব করতে, ভালোবাসি কোন এক জোছনা রাতে আঁধারে মিশে যেতে, ভালোবাসি বন্ধুত্ব, প্রান খোলা হাসি, গান, কবিতা আর আঁধারে হারিয়ে যাওয়া একাকী।

অদ্ভুত মোহের মায়ায় জড়ানো আমাদের বাংলা গান আর আমার প্রেমে পড়ে যাওয়া

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
❝আশা ছিল মনে মনে,
প্রেম করিমু তোমার সনে !❞




এই গানটা প্রথম যখন শুনি খুব সম্ভবত তখন ছিলাম ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে । এই স্লো, সৌলফুল গানটা শুনে তখন একটুও ভাল্লাগে নাই । আমার বড় খালাতো ভাই তখন আবার এইরকম গানের বেশ ভক্ত ছিলো । টেপ রেকর্ডার এ ক্যাসেট ঢুকিয়ে এই গান, মান্না দে, কিশোর কুমার, কুমার সানু, লতা - উনাদের গান শুনত । গান শোনা শেষ করে আবার রিউয়াইন্ড করার জন্য ক্যাসেট আবার আমার কাছেই আসতো । আমি ক্যাসেটে কলম ঢুকিয়ে ফিতা পেঁচাতে পেঁচাতে রাগে গজ গজ করতাম আর চিন্তা করতাম, 'এই প্যান প্যান ক্যামনে শুনে!' তখন আমাদের পিচ্চি পোলাপাইনদের কাছে ছিলো হিমেশের যুগ ! তখন হিমেশের নাকি সূরে 'I Love You O Sayyoni' বা 'Tera Surroor' ছিলো আমাদের পছন্দের লিস্টে প্রথম । এছাড়া তখন বলিউডে সিনেমায় গান দিয়ে নতুন ট্রেন্ড তৈরি করছিলো ইমরান হাশমি । ইমরানের সিনেমা মানেই ছিলো দুর্দান্ত কিছু গান ।


কয়দিন আগে, আমাদের আড্ডায় আমাদের এক ফ্রেন্ড গুণগুণ করে গাচ্ছিলো,
'রঙিন কাঁথায় থাকতাম শুইয়া, তোমায় বুকে লইয়া,
চাঁদের আলোয় রাইত পোহাইতাম কথা কইয়া কইয়া !'

হঠাৎ করে অদ্ভুত এক ভালোলাগায় মন ছেয়ে গেলো । গানের এতো সুন্দর কথাও হয়, এতো মায়া দিয়েও গান গাওয়া যায় !

আস্তে আস্তে গানের বাকি কথাগুলো শুনলাম ।
'সেই বালুচরে কাটতো জীবন মরণেরও পরে গো ……
গহীন বালুর চরে।।'


মুগ্ধ হয়ে শুনলাম । তাড়াতাড়ি বাসায় এসে ইয়ুটিউব থেকে সার্চ দিয়ে ঘেড়ঘের আওয়াজ করা অরিজিনাল গানটাই প্লে করলাম । আর পুরো ৪ মিনিট মুগ্ধ হয়ে যেন অন্য কোন জগতে ছিলাম । আবারো মাথায় আসলো - এতো মায়া, এতো আবেগ দিয়েও গান গাওয়া সম্ভব !

নিজেকে মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো লাগলো । এই বিখ্যাত কবি নিজ সাহিত্যের রত্ন-আকড়ের মূল্য না বুঝে অন্য সাহিত্যের নকল ঐশ্বর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় আর মেধা নষ্ট করেছেন ।
আমিও যেন উনার মতো নিজ দেশের ঐশ্বর্যকে বুঝতে পারলাম অনেক পরে । :( আমার মতো আরও অনেকেই মনে হয় আছেন তাই তো অল্প কিছু ইন্সট্রুমেন্ট (যেগুলো না হলেই নয়) দিয়ে ফ্রেশ গলায় গাওয়া গানগুলো এখন নেট দুনিয়ায় পাওয়া খুব কষ্টকর । যেগুলি পাওয়া যায় সেগুলি হয় রিমিক্স নামক 'জগাখিচুড়ী' নয়তো নিম্ন মানের ঘেরঘের করা ! X((

আসলে এখন বেশীরভাগ গান মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে গাওয়া বলে মনে হয় আবেগ থাকে কম, ব্যাকগ্রাউন্ড টিউন থাকে বেশী ।

আর

আগের গানগুলো শুনলে বোঝা যায়, বাংলা গানের মতো আবেগ দিয়ে অন্য কোন ভাষার গান গাওয়া সম্ভব না - অন্তত আমার তাইই মনে হয়েছে । হিমেশের গান, ইমরানের সিনেমার গান নতুন নতুন গানের নীচে চাপা পড়ছে প্রতিনিয়ত কিন্তু আমাদের এই বাংলা গানগুলো যেন সদানতুন, এইগুলো আসলে কোনদিন পুরনো হবে না । হাজার হাজার বছর পরেও কেউ না কেউ এই গানগুলো শুনে বুকের ভিতর এক হাহাকার অনুভব করবে, রাতের শুন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে এই রকম কয়েকটা গান শুনে শুনেই রাত পার করে দেবে ।

*** এই গানটা জহির রায়হানের বিখ্যাত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে উনারই প্রথম স্ত্রী সুচন্দা পরিচালিত, ২০০৫ সালে নির্মিত 'হাজার বছর ধরে' সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে।
শিল্পীঃ সুবীর নন্দী, সুরকারঃ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবল । ***

গানের লিরিক্সঃ

আশা ছিল মনে মনে, প্রেম করিমু তোমার সনে
তোমায় নিয়া ঘর বান্ধিমু গহীন বালুর চরে গো ……
গহীন বালুর চরে।।
সেই ঘরেতে তোমার-আমার মধুর মিলন হইতো
তোমার শাড়ীর আঁচলেতে পরাণ বান্ধা রইতো
রঙিন কাঁথায় থাকতাম শুইয়া, তোমায় বুকে লইয়া
চাঁদের আলোয় রাইত পোহাইতাম কথা কইয়া কইয়া
সেই সুখের স্বপন চোখে ভাসে, পরাণ উদাস করে গো ……
গহীন বালুর চরে।।
তোমার প্রেমের একটু পরশ গায়ে যদি লাগতো
ব্যথায় পোড়া বুকেতে এক সুখের সাগর জাগতো
তোমার কথা ভাইবা মরি নৌকা বাইতে বাইতে
কানাকড়ি চাই না, আহা তোমারে চাই পাইতে
সেই বালুচরে কাটতো জীবন মরণেরও পরে গো ……
গহীন বালুর চরে।।

.
গানের ইয়ুটিউব লিংকঃ আশা ছিলো মনে মনে
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×