নিস্তব্ধ রাত
মলাট বাঁধাই কাগজগুলো উলটে যাচ্ছি একের পর এক
ঘড়ির কাঁটা টিক টিক শব্দ তুলছে একটানা
আজ সেও যেনো ভীষন ব্যস্ত
ব্যঘ্র গতিতে দৌড়ে চলেছে
তাল মিলাতে আমি হিমশিম খাচ্ছি
মুঠোফোনটি পাশেই পরে আছে নিদারুন অবহেলায়
ল্যাপটপটার কপালেও জোটে নি কোনো কোমল হাতের স্পর্শ
ফেসবুকের এককোণে লাল সংখ্যাগুলোও হয়ত বেড়ে যাচ্ছে পাল্লা দিয়ে
অথচ আজ আমি কত সহজেই না প্রযুক্তিকে অবহেলা করছি!
রুমমেট দের ধীর শ্বাসের ছন্দ-লয় কানে আসছে
সবাই কি নিশ্চিন্তে স্বপ্নের দেশে হেঁটে বেড়াচ্ছে
অন্ধকার ঘরে কেবল আমার টেবিলে খানিকটা মৃদু আলো
রাত জাগা পোকারা নৃত্য তুলেছে তার চারপাশে
একটা টিকটিকি এসে শিকার খুঁজে নিচ্ছে মাঝে মাঝে
এই মুহূর্তে তাদের চেয়েও বেশি ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে নিজেকে!
চোখের পাতা ভারি হয়ে আসছে
মগজের চাকাও কর্কশ আর্তনাদ তুলে প্রতিবাদ জানাতে চাইছে
কিন্তু আমার মনোবলের কাছে সব নিমেষে হার মেনে নিচ্ছে
সারা বছর আলসেমি অবহেলায় যে বৃক্ষ চারা রোপণ করাই হয়নি
আজ একদিনেই যে তাকে রোপণ করে, ফুল-ফল সব গজিয়ে নিতে হবে!
একসময় ভেসে আসে একটা-দুইটা-কয়েকটা পাখির কিচির মিচির
চোখের নীচের ছাইরঙা পরিসর ক্রমশ গাঢ় হতে থাকে
আমি তবুও হার মানিনা ।
এখন দুপুর
আরো অনেকের সাথে আমিও একটি রুমে বসে আছি
একটু পর সামনে এক গুচ্ছ সাদা কাগজ দেখতে পেলাম
সময় নষ্ট না করে কালির ঝর তুলে হয়রান করে তুলি কলম গুলোকে
টানা তিন ঘন্টা কাগজের পর কাগজে কালো নকশা বুনে যাই।
তারপর বিধ্বস্ত শরীর-মন আর ভারি পদক্ষেপে
ফিরে আসি চিরচেনা রুমে।
বিছানায় চোখ যেতেই দেখি আমার জাদুর বাক্স!
সব ক্লান্তি উপেক্ষা করে হাতে তুলে নেই তাকে
গত রাতের উপেক্ষিত প্রযুক্তি
আজ আদুরে বেড়ালের মতই আমার হাতে এসে ধরা দেয়
একটি দীর্ঘ-শ্বাস ছেড়ে আমিও পরম মমতায় তার অভিমান ভুলাতে থাকি।
(০৭-০৪-১৪)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


