somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে যেসব বিজ্ঞাপন (পর্ব-২ Marlboro Man)

২৩ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Marlboro -- এর চাইতে পৌরষদীপ্ত সিগারেট কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। অথচ Marlboro এর জন্মের গল্পটা একদমই অন্যরকম। ১৯২৪ সালে Philip Morris & Co. বাজারে নিয়ে এল মেয়েদের সিগারেটের ব্র্যান্ড Marlboro ।

এভাবেই চলছিল অনেকদিন । ৫০ দশকের শুরু থেকে ধূমপান নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা হঠাৎই বেড়ে যাবার পর অন্যান্য অনেক সিগারেটের ব্র্যান্ডের মতই Marlboro ও নিয়ে এলো ফিল্টার সহ শলাকা। আমেরিকায় May মাসের আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক , সেটার সাথে মিল রেখেই ফিল্টার সিগারেটের জন্য তাদের স্লোগান হল -- Mild as May ।

একে তো গায়ে গতরে নারীর তকমা , তার সাথে মে মাসের লাবণ্য যোগ হয়ে Marlboro হয়ে উঠল পুরোদস্তুর রমনীয় কমনীয় সিগারেটের প্রতীক। উপরন্তু কিছু মানুষের মাঝে ধারণা ছড়াল , ফিল্টার দেয়া সিগারেট মানেই লেডিস ভাবসাব। Marlboro তখন সবেমাত্র চেষ্টা করছে পুরুষদের বিশাল বাজার করায়ত্ত্ব করতে। কিন্তু ৩০ বছরের লেডিস ভাবসাব রাতারাতি ঝেড়ে ফেলাও চাট্টিখানি ব্যাপার না।

Philip Morris ভেবে দেখলেন , মধ্যবয়েসী দের মাঝে এ সিগারেট চালানো যাবে না, তাদের হাজার করে বললেও হাফ-লেডিস , ফুল-লেডিস গালই কপালে জুটবে। তার চেয়ে কিশোর বা তরুণদের মাঝে যারা সিগারেট ধরাচ্ছে তাদেরকে কোনভাবে পাকড়াও করতে হবে। ফিল্টার চালু করা অন্য কোম্পানীগুলো তখন একই রাস্তায় হাটছে , সবাই কাগজের বিজ্ঞাপনে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রতিযোগিতা করে গল্প বলছে ফিল্টার কি করে নিকোটিন আটকে, জীবনশক্তি বাড়িয়ে তোলে ।

নিজের পরিকল্পনার কথা বিজ্ঞাপন নির্মাতা Leo Burnett Co. কে খুলে বললেন Philip Morris। Leo Burnett ঠিক করলেন নতুন কিছু করবেন , ফিল্টার আর স্বাস্থ্যের কথা শুনতে শুনতে আপাতত সবাই ত্যাক্ত বিরক্ত। তার চেয়ে দুষ্ট কিছু কি করা যায়?কিশোর বা সদ্য তরুণর ছেলেরা কি চায় ? -- উন্মাতাল জীবন , বাবা মায়ের বন্ধন থেকে মুক্তি , পৌরষদীপ্ত কঠিন চাহনি -- এই তো।

ব্যস আইডিয়া পেয়ে গেলেন Burnett।কয়েক বছর আগে Life magazine এ ছাপা হওয়া এক Texan Cowboy এর ছবিটা তার মাথায় গেঁথেই ছিল । ঠিক করে ফেললেন , তামাটে বর্ণের কঠিন চোয়ালের Texan Cowboy, মাথায় কাউবয় হ্যাট আর হাতে ঘোড়ার লাগাম ধরে Marlboro ধরাবে। সেই যে Marlboro Man এর জন্ম হল , আর পেছনে ফিরে তাকাতেই হল না ।

নারী থেকে রাতারাতি বীরপুরুষে পরিণত হওয়া Marlboro কে নিয়ে মাঝের সময়টায় হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরেছে অন্য সিগারেট কোম্পানী সহ ধূমপান বিরোধী সংস্থা গুলো। কিছু সিগারেট নামল নিজেদের আরও বেশি পুরুষ প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় । Chesterfield সিগারেট ,টেক্সাসের বাবা আমেরিকাকে টেনে বলল "“Men of America” smoke Chesterfields" । Old Gold সিগারেট বলল , তাদেরকে পোড়ালে স্বাধীন মানুষের মত চিন্তা করা যায়। এসব করে তাদের বিক্রি-বাট্টাও বাড়ল বটে , কিন্তু Marlboro তখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। দু'বছরে তাদের বিক্রি বেড়ে গেল ৩০০ শতাংশ। কি করি , কি করি ভেবে প্রতিদ্বন্ধীরা তখন পিছু নিল Marlboro Man মডেলদের। ফলাফলও এসে গেল অবিশ্বাস্যভাবে । ৩ জন Marlboro Man -- ওয়েইন ম্যাকলারেন , ডেভিড ম্যাকলিন আর ডিক হ্যামার পরপর মারা গেলেন ফুসফুসের ক্যান্সারে। বাকিরা হৈচৈ করে Marlboro কে ডাকতে শুরু করল "Cowboy killers"। Philip Morris তখন রীতিমত বলেই বসলেন , "ম্যাকলারেন কোনদিন Marlboro Man ছিল না , কোন বিজ্ঞাপনও সে করেনি" । Marlboro Man শব্দের দাপট তখন এত বেশি , সব প্রমাণ বাতাসে মিইয়ে গেল।


৫০ টি বছর একটানা কেটেছে সেই দাপট নিয়েই । ঈগল পাখির দৃষ্টি নিয়ে , ১৯৯৯ পর্যন্ত সারা বিশ্বের বিলবোর্ড আর ম্যাগাজিনগুলোতে Marlboro এর ধোঁয়া ছেড়েছেন টেক্সান কাউবয় Marlboro Man রা-ই।




--------------------------------------------------------------------
প্রথম পর্বের লিংক:
মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে যেসব বিজ্ঞাপন (পর্ব-১)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৫৪
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হেনরি কিসিঞ্জার মারা গেছেন

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১২:৫০



বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হেনরি কিসিঞ্জার ১০০ বছর বয়েসে মারা গেছেন।
একাত্তরে পাকিস্তানের গণহত্যার মদদদাতা,
১৫ই আগষ্ট হত্যাকান্ড সহ ওই সময়ে ভিয়েতনাম, চিলি, আর্জেন্টিনা, পূর্ব তিমুরে রক্তপাতে সরাসরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাবন্য

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:০৮

লাবন্য
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এখনই দেখতে পাচ্ছি বিদ্যমান তারুণ্য
যুবকের প্রথম পছন্দ যুবতির লাবন্য!
বৃথা যথা সময় ছেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত
নষ্ট করোনা নয়তো হারাবে সমস্ত!
সজীব হৃদয়, প্রাণবন্ত, দুরন্ত, উচ্ছ্বাস
সম্প্রতি ছাড়ি শুধু অতি দীর্ঘশ্বাস!
আমরা জয়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝিমান ক্যারে ?

লিখেছেন স্প্যানকড, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:৩৬

ছবি নেট।


প্রায় প্রায়ই শুনি ব্লগ ঝিমিয়ে গেছে। পিছিয়ে গেছে। আগের মতন কিস্যু নেই।আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম! ইত্যাদি হ্যানত্যান আগডুম বাগডুম। আসলে ব্লগ ঠিকই আছে আমরা সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেনে, বুঝে ট্রল করুন….

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:৪৪



১. এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে যখন বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত খুলে দেয়া হল, তখন দেখা গেল বেশি সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি সেটা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সিটি বাস, ট্রাক বা অন্য পরিবহন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলেই কি সরকার এবার পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২৩ ভোর ৬:৫৫




সরকারী দলের কোন প্রার্থী হারতে চাইবে না। অত:পর যারা হারবে তাদের সবাই যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠ হয় নাই। যারা নির্বাচনে আসে নাই তারা তো বলবেই নির্বাচন সুষ্ঠ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×