somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নজরুলের ছেলে বেলা

১৯ শে মে, ২০১২ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। অথচ এই কবির শৈশব-কৈশোর যেমনি বৈচিত্র্যময় তেমনি দুঃখ-কষ্টে ভরপুর ছিল। ১৮৯৯ সালে একটি দরিদ্র মুসলিম পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল। কথিত আছে তার পূর্বপুরুষেরা পাটনা থেকে এসেছিলেন, কাজী হিসেবে অর্থাৎ বিচারক হয়ে। নজরুল জন্মের বহুকাল আগেই তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি বিলুপ্ত হয়।
জন্মের আট বছর বয়সেই পিতৃহারা হন। অভাব অনটন ও কষ্টের জীবনযাপনের জন্য তার নাম রাখা হয় দুখু মিয়া। অবশ্য জন্মের পরপরই তাকে অন্য আরেকটি নামে ডাকা হতো, তারা ক্ষ্যাপা চলে। এই নামে ডাকার কারণ অবশ্য আছে। নজরুলের মা পুত্রসন্তান কামনা করেন তারা ক্ষ্যাপা নামে এক তান্ত্রিক সাধুর শরণাপন্ন হন। নজরুলের জন্ম হলে ওই সাধুর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার নামানুসারে তারা ক্ষ্যাপা বলে ডাকা হতো।
১৯১০ সালে গ্রামের মক্তবে বাল্যশিক্ষা সমাপ্ত করেন। অভাব-অনটনে বেশি দূর এগোতে পারেননি। জীবন-জীবিকার জন্য মক্তব্যে শিক্ষকতা, গ্রামে মোল্লাগিরি এবং হাজী পাহলোয়ানের মাজারে খাদেমগিরি করেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে লেটো নাচের দলের জন্য গান ও কবিতা রচনা করেন। পালাগান শকুনি-বধ্, মেঘনাদবধ, চাষার সঙ, রাজপুত্র ও আকবর বাদশা নির্মাণ করেন। কবি গানের দলে দলনেতা ছিলেন।
অর্থের অভাবে একজন গার্ডের অধীনে বাবুর্চিগিরি এবং হুগলির এম বখশ নামক ব্যক্তির রুটির দোকানে পাঁচ টাকা বেতনের চাকরি করেন।
নজরুল খুব সুন্দর বাঁশি বাজাতেন। তার বাঁশির সুরে পথচারীদের ভিড় জমে যেত। তার বাঁশি শুনে ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত কাজী সিমলা গ্রামের দারোগা কাজী রফিকুল্লাহর গৃহে আশ্রয় লাভ করেন এবং বছরখানেক সময়ও খানকার দরিরামপুর হাইস্কুলে অবৈতনিক ছাত্র হিসেবে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। দুরন্তপনা যার স্বভাব তিনি কি এক জায়গায় বেশি দিন থাকতে পারেন? বছর শেষে কাউকে না জানিয়ে ওখান থেকে পালিয়ে আসেন। ফিরে এলেন আসানসোল, ভর্তি হলেন স্কুলে। প্রধান শিক্ষক ছিলেন কুমুদরঞ্জক মল্লিক। কাশিমবাজারের মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্রের দানে স্কুলটি চলত। নজরুল সেখানে বেতন মওকুফসহ আনুষঙ্গিক কিছু সুযোগ-সুবিধা চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি।
পরবর্তীকালে রানীগঞ্জের শিয়ালসোল (বর্ধমান) হাইস্কুলে ভর্তি হলেন। এখানে স্থানীয় জমিদারের দাণ্যি পেলেন। অবৈতনিক ছাত্র এবং মুসলিম হোস্টেলে থাকা-খাওয়া ছাড়াও মাসিক সাত টাকা বৃত্তি পেলেন।
অষ্টম শ্রেণীতে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করায় তার মেধা দেখে কর্তৃপক্ষ তাকে ডাবল প্রমোশন দিয়ে দশম শ্রেণীতে উঠালেন।
এরই মধ্যে তার পরিচয় হয় শৈলজানন্দের মতো লেখকের সাথে। ১৯১৭ সালে স্কুলের শেষ ধাপে এসে পড়াশোনার পাট চুকালেন। যোগ দিলেন কিশোর নজরুল ডাবল কোম্পানিতে। ট্রেনিং শেষে শিগগিরই তাকে নওশেরার সীমান্ত প্রদেশে এবং সেখান থেকে রেজিমেন্টসহ করাচি পাঠিয়ে দেয়া হলো।
তার কর্মদক্ষতা দেখে দ্রুত হাবিলদার পদে প্রমোশন হয়। এটি ছিল ইন্ডিয়ান কমিশন্ড অফিসার পদ। তিনি কোয়ার্টার মাস্টার ছিলেন। এই সময় তার মুক্তমন ও সাহিত্যের প্রভাব অন্যদের অনুপ্রাণিত করত।
এভাবে তিনি কৈশোরের চাঞ্চল্য কাটিয়ে ধীরে ধীরে সম্মুখে এগোতে থাকেন। নজরুলের অ্যাকাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা না থাকলেও অসম্ভব প্রতিভাধর ছিলেন। আত্মসচেতনতা তাকে সুশিক্ষিত করে তোলে; তাই তো আজো তার সুবিশাল সাহিত্যকর্ম নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে গবেষণা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১২ রাত ১১:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×